Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-৩১-২০১৬

সবচে বড় প্রযুক্তি সংগঠন, অর্ধেক সদস্য অযোগ্য!  

আলাউদ্দিন আলিফ


সবচে বড় প্রযুক্তি সংগঠন, অর্ধেক সদস্য অযোগ্য!

 

ঢাকা, ৩১ মে- বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসের (বেসিস) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৫ জুন। ইতোমধ্যে নির্বাচন নিয়ে বেসিস সদস্যদের মধ্যে জল্পনা কল্পনা চলছে। বর্তমানে বেসিসের সদস্য সংখ্যা ১০৭৩ জন হলেও নির্বাচনে ভোটার মাত্র ৫১৬ জন। সফটওয়্যার খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন হওয়ার পরেও কেন অর্ধেকের বেশি সদস্য ভোটার হতে পারছেন না এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে অনেকের মনেই। 

১৯৯৭ সালে বেসিস যাত্রা শুরু করে। মাত্র ১৭ জন সদস্য নিয়ে এ সংগঠনের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ১০৭৩ জন। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ ছিল দুই বছর। ২০১৪ সালে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে তিন বছর মেয়াদী কমিটি গঠনের প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়। এ নির্বাচন হবে তিন বছর মেয়াদী কমিটির প্রথম নির্বাচন। নতুন সংশোধনীতে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন হবে প্রতি এক বছর পরপর। প্রতি বছর নির্বাচিত কমিটি থেকে তিনজন পরিচালক সমঝোতা বা লটারির মাধ্যমে পদত্যাগ করবেন। শুধু এই তিনটি পদেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

সবচেয়ে আক্ষেপের বিষয় হলো বছর বছর সদস্য সংখ্যা বাড়লেও প্রতিটি সদস্য ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে বেসিসের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার পাল বলেন, ‘সদস্য হলেই ভোটার হওয়া যায় না। ভোটার হওয়ার জন্য মেমোরেন্ডাম এবং আর্টিক্যাল অনুযায়ী সদস্যদের  ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট সহ ব্যবসায়িক অন্যান্য দলিলাদির হালনাগাদ রাখতে হয়। এক্ষেত্রে সদস্যদের বারবার তাগাদা দেয়া হলেও তারা দলিলাদি উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছেন। যার কারণে  ভোটার সংখ্যা অর্ধেকের কম।’

এ ব্যাপারে আক্ষেপ প্রকাশ করে বেসিসের এক সদস্যের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখা যায়। যেখানে  বেসিস পরিচালনা পরিষদ,সদস্য এবং প্রযুক্তি বিষয়ক  সাংবাদিক সহ মোট এই খাত সংশ্লিষ্ট ৭২ জনকে ট্যাগ করে তিনি স্ট্যাটাস দেন। স্টার হোস্ট নামে হোস্টিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও বেসিস সদস্য জাহিদ আলম তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আমাদের বেসিস-এর ওয়েবসাইট মোতাবেক মোট সদস্য ১০৭৩ হলেও এই নির্বাচনে ভোটার হয়েছেন মাত্র ৫১৬টি প্রতিষ্ঠান যা মোট সদস্য সংখ্যার ৪৮% বাকি ৫২% সদস্যের ভোটাধিকার বিচ্যুত করে কিভাবে গণতান্ত্রিকভাবে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব তা বেসিস-এর সংবিধান পরিপন্থী না হলেও ইন্ডাস্ট্রির জন্য মঙ্গলজনক কিংবা বোধগম্য নয়।’

সদস্যদের দলিলাদি হালনাগাদ করার ব্যাপারে শুধু নির্বাচনের সময়ই কেন তাগাদা দেয়া হয় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সদস্যরা। এবারের নির্বাচনে বেসিসের প্রথম সভাপতি মোস্তাফা জব্বার, সোনিয়া বশির কবির এবং রাসেল টি আহমেদসহ আরো অনেকে প্রতিদন্দ্বিতা করবেন। 

সদস্যদের  পর্যাপ্ত সময় দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল কি না এ প্রশ্নের জবাবে উত্তম কুমার পাল বলেন, ‘দুমাস/৪৫ দিন/৩০ দিন আগেই প্রতিটি সদস্যকে চিঠির মাধ্যমে নির্বাচনের কথা জানিয়ে দলিলাদি জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবু যেসব সদস্যরা নির্বাচনের ব্যাপারে সচেতনতা ছিলো না, তারাই ভোটার হতে পারে নি। এছাড়াও যাদের অফিস উত্তর সিটি কর্পোরেশন বা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে বিপরীত সিটি কর্পোরেশনে নিজেদের অফিস পরিবর্তন করেছিলেন, তাদেরও ট্রেড লাইসেন্স ফির ব্যাপারে জটিলতা দেখা দেয়। যদিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান করা যেতো।’

বাংলাদেশের সফটওয়্যার খাতের অভিভাবক সংগঠনের নাম বেসিস। যার অর্ধেকের বেশি সদস্যের ভোটার না হতে পারাকে হতাশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন দেশের প্রযুক্তিবিদ সহ সংশ্লিষ্ট খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। 

এফ/০৮:৫০/৩১মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে