Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.0/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-৩১-২০১৬

যে কারণে অ্যাথোস পর্বতে হাজার বছর ধরে নারী নিষিদ্ধ

যে কারণে অ্যাথোস পর্বতে হাজার বছর ধরে নারী নিষিদ্ধ

গ্রীসের অ্যাথোস পর্বতে এক হাজার বছর ধরে বসত করছে সন্ন্যাসীরা। এর মধ্যে গ্রিক ও রুশ দুটোই রয়েছে। যে কারণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অ্যাথোস পর্বত সফর করছেন। অ্যাথোসের একটি বিশেষত্ব আছে। ৩৩৫ বর্গ কি.মিটারের এই পাহাড়ই সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়গা যেখানে কোন নারী, এমনকি স্ত্রীজাতীয় প্রাণী প্রবেশ নিষিদ্ধ। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই নারী নিষেধাজ্ঞা?

কেউ যদি গ্রীসের অ্যাথোস পর্বতে যেতে চায় তাহলে তাকে প্রথমে পাসপোর্টের একটা কপি জমা দিতে হবে অ্যাথোস পর্বতের তীর্থযাত্রী ব্যুরোতে। প্রতিদিন ১০০ জন অর্থোডক্স ও ১০ জন নন-অর্থোডক্স পুরুষ তীর্থযাত্রীকে পাহাড়ের ২০টি মঠে ৩ রাত থাকার জন্য সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু কোন নারী কোন অবস্থাতেই এই যাত্রায় অংশ নিতে পারবেন না।

এমনকি এই তীর্থ যাত্রার সময় যখন যাত্রীরা ফেরিতে উঠবেন তখনও নারীদের থাকতে হয় পুরুষদের পেছনে । প্রায় এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে অ্যাথোস পর্বতে নিষিদ্ধ নারীরা। এমনকি উপকূলের ৫০০ মিটার সীমানা পর্যন্ত তারা নিষিদ্ধ।  


অ্যাথোস পর্বত নিয়ে লেখা ‘মাউন্ট অ্যাথোস : রিনিউয়াল ইন প্যারাডাইস’ গ্রন্থের লেখক ডক্টর গ্রাহাম স্পিকারের মতে, এই পাহাড়ে সেই ১০ম শতক থেকে স্ত্রীজাতীয় কোন প্রাণী এবং নারীরা নিষিদ্ধ। একটা কারণ হচ্ছে, তখনকার সময়ে পুরুষদের মঠে নারীদের প্রবেশাধিকার ছিল না। কৌমার্য রক্ষা করার জন্য এটাই ছিল একমাত্র সহজ উপায়।

তবে নারীদের নিষিদ্ধ করার আরেকটি কারণ খ্রিস্ট ধর্মের অর্থোডক্স গির্জার সাথে সঙ্গে সম্পর্কিত। গির্জায়ও প্রথম থেকেই নারী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল।

গ্রাহাম বলেন, ‘বলা হয় কুমারী মেরী যখন জাহাজে করে সাইপ্রাস যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তখন পথ ভুলে এসে পড়েছিলেন অ্যাথোসে। জায়গাটা তার এতোই পছন্দ হয়েছিল যে, তিনি যীশুর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এই পর্বত যেন তার একার জন্য দেয়া হয়। যীশু রাজি হয়েছিলেন। যে কারণে অ্যাথোসকে এখনো ‘দ্যা গার্ডেন অব দ্যা মাদার অব গড’ বলা হয়। শুধুমাত্র যীশুর মাতা মেরীর হওয়ায় তাকে উৎসর্গ করা হয়েছিল এই পর্বত। অন্য কোন নারীর সেখানে প্রবেশাধিকার নেই।’   

এই একই নীতি অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণীর জন্যও প্রযোজ্য। শুধু বিড়াল ছাড়া। এই পর্বতে প্রচুর বিড়াল রয়েছে, এদের মধ্যে স্ত্রী বিড়ালও আছে।


অ্যাথোসে কেন নারীরা নিষিদ্ধ তার কিছুটা ব্যাখ্যা হয়তো পাওয়া গেছে। কিন্তু অ্যাথোসই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জায়গা যেখানে নারী নিষিদ্ধ। তাহলে আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে, ছোট জায়গাগুলোর মধ্যে আর কি কি জায়গা রয়েছে যেখানে নারীরা নিষিদ্ধ?

এর মধ্যে রয়েছে ভারতের দক্ষিণ পশ্চিম রাজ্য কেরালার শবরীমালা মন্দির। ১০ থেকে ৫০ বছর বয়স্ক কোন নারী সেখানে ঢুকতে পারেন না। সমালোচকরা ভারতের সুপ্রিম কোর্ট থেকে এই আইন বাতিলের চেষ্টা করছেন।

এরপর রয়েছে জাপানের ওমাইন পাহাড়। জাপানের শুগেন্দো নামের একটি প্রাচীন ধর্মের অনুসারীরা জায়গাটাকে পবিত্র বলে মনে করেন। ধর্মের পুরুষ অনুসারীরা ঐ পাহাড়ে নির্জনে বসে ধ্যান করেন, শারীরিক ধৈর্যের পরীক্ষা করেন।

আরেকটি জায়গা হচ্ছে, জার্মানির হামবুর্গের রেড লাইট জেলার হার্বারট্রেস নামের এক রাস্তা। এই রাস্তায় ঢোকার মুখে সাইনবোর্ড দেয়া। সেখানে লেখা, ’১৮ বছরের কম বয়সী কেউ এবং নারী প্রবেশ নিষিদ্ধ।’  

এবার আবার অ্যাথোস পর্বতে ফেরা যাক। কোন স্ত্রীজাতীয় গৃহপালিত পশু যেখানে প্রবেশ নিষেধ সেখানে ডিম কিংবা দুধ পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে নিতে হয়। মঠের সন্ন্যাসীরা দুধ খায় না বললেই চলে। ডিম তাদের প্রয়োজন হয় শুধু ইস্টারের উৎসবের সময়।

গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে স্ত্রীজাতীয় প্রাণী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া সম্ভব হয়েছে সন্ন্যাসীদের জন্য, কিন্তু বন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে সেটা করা সম্ভব না। বন্য প্রাণী নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব কাজ। কাজেই স্ত্রীজাতীয় অনেক বন্য প্রাণী সেখানে রয়েছে।


পুরুষদের জন্য জন্য নীতিমালা খুব স্পষ্ট। মুখে দাড়ি না গজালে অর্থাৎ কোন বালক সেখানে যেতে পারবে না। এর কারণ হচ্ছে, কোন নারী যাতে পুরুষ সেজে সেখানে যেতে না পারেন। আরেকটি ভয়ের ব্যাপারও এখানে জড়িত। নারী বর্জিত যে সমস্ত সন্ন্যাসি ঐ পাহাড়ে বাস করেন তারা বাচ্চা ছেলেদের প্রতিও শারীরিকভাবে আকৃষ্ট হন। কাজেই ঝুঁকি রয়েছে।

তারমানে কি নারীরা কখনোই অ্যাথোসে যায় নি? নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নারীরা সেখানে গেছেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৯ এর গ্রিক গৃহযুদ্ধের সময়ে গ্রামের দরিদ্র ভূমিদাসদের আশ্রয় দিয়েছিল অ্যাথোস। যে সময় অ্যাথোসে পশু শিকারে আসা অনেক অভিযাত্রী দলের মধ্যে নারী ও কিশোরী মেয়েরাও থাকতো।  

১৯৫৩ সালে মারিয়া পইমেনদু নামের একজন গ্রিক নারী পুরুষের বেশে ৩ দিনের জন্য অ্যাথোসে প্রবেশ করে ঝামেলা আরও বাড়িয়ে তোলেন। এর আগে নারী প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা ছিল একটা রীতি। কিন্তু এবার গ্রীসে আইন পাস করা হল। যদি কোন নারী এই আইন ভঙ্গ করে তাহলে তার সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।   

আরও সাম্প্রতিক সময়ে ২০০৮ সালের মে মাসে ইউরোপের দেশ মোলডোভার ৪ জন নারীকে ইউক্রেনের একটি পাচারকারী একটি দল এনে ফেলে অ্যাথোসে। পুলিশ তাদেরকে তাৎক্ষনিকভাবে গ্রেপ্তার করেন। তবে সন্ন্যাসীরা তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছিল।

অ্যাথোস পর্বতের সেইন্ট প্যানটেলেমন রুশ অর্থোডক্স মঠে দ্বিতীয়বারের মত সফর করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার প্রথম সফর ছিল ২০০৫ সালে। তার সফরের আগ পর্যন্ত অ্যাথোসের তীর্থযাত্রীদের বেশিরভাগই ছিল গ্রিক। কিন্তু এখন পরিস্থিত বদলে গেছে। অ্যাথোসের বাৎসরিক ৪০ হাজার তীর্থযাত্রীর মধ্যে এখন অর্ধেকই রুশ।

এফ/০৮:৪০/৩১মে

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে