Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-৩০-২০১৬

মেসোপটেমিয়া নয়, সিন্ধু সভ্যতাই বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা

রাশেদ শাওন


মেসোপটেমিয়া নয়, সিন্ধু সভ্যতাই বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা

আবার নতুন করে লিখতে হবে ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সিন্ধু সভ্যতার ইতিহাস! এতদিন ইতিহাসের বই-পুস্তকে সিন্ধু সভ্যতা নিয়ে যা কিছু লেখা হয়েছে তার সব মুছে ফেলে নতুন বই ছাপতে হবে! যা বলছি তা সত্যিও হতে পারে। এতদিন ধরে আমরা জেনে এসেছি সিন্ধু সভ্যতার বয়স সাড়ে পাঁচ হাজার বছর। তবে সম্প্রতি ভারতের ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ান টেকনোলজি (আইআইটি) ও আর্কেওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) জানিয়েছে, সাড়ে পাঁচ হাজার বছর নয়, সিন্ধু সভ্যতার বয়স ৮০০০ বছর।

তাদের এই তথ্য সত্যি হলে প্রাচীনতম সভ্যতা হিসেবে পরিচিত মিশরীয় সভ্যতা ও মেসোপটামীয় সভ্যতার থেকেও প্রাচীন সভ্যতা হবে সিন্ধু সভ্যতা। অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা হবে সিন্ধু। একে হরপ্পা-পূর্ব মানবসভ্যতাও বলা যেতে পারে। হরপ্পা সভ্যতার শুরু হয়েছিল সিন্ধু সভ্যাতার প্রায় ১০০০ বছর আগে।

গত ২৫ মে জনপ্রিয় ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ‘নেচার’ এই আবিষ্কারের কথা প্রকাশ করেছে। আবিষ্কারটি ব্যাপক আলোচনা ঝড় তুলেছে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, শুধু আবহাওয়ার বিপুল তারতম্যের ফলেই এরকম একটা বিশাল সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আইআইটি’র ভূতত্ত্ব ও ভূপদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান অনিন্দ্য সরকার বলেন, ‘আমরা সভ্যতার কিছু পুরোনো মৃত্‍‌শিল্প উদ্ধার করেছিলাম। সেগুলো অপটিক্যালি স্টিমুলেটেড লুমিনেশসেন্স প্রক্রিয়া করে দেখা গেছে, প্রায় ৬০০০ বছর পূর্বে পরিণত অবস্থায় পৌঁছানো হরপ্পা সভ্যতার প্রথম দিককার নিদর্শন এগুলো। সাংস্কৃতিক দিক থেকে ৮০০০ বছরের পুরোনো প্রাক-হরপ্পা সভ্যতার হকড়া পর্যায়ের বলে মনে হয় এসব মৃৎশিল্প সামগ্রীকে।’


প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার বিভিন্ন শিল্পসামগ্রী

বিজ্ঞানীদের ওই দলটি প্রমাণ করে, ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে, যেমন হরিয়ানার ভিররানা ও রাখিগাড়হি এবং অন্য অংশ পকিস্তানের হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে ও ভারতের লোথাল, ধোলাভিরা ও কালিবনগাঁও অঞ্চলে এই সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। ভিররানা এলাকার বড় অংশ জুড়ে খননকাজ চালিয়ে বেশ কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে।

ওইসব অঞ্চল থেকে পশুর দাঁত, হাড়, গরু, ছাগল, হরিণ ও কৃষ্ণসার হরিণের শিং ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সাংকেতিক লিপি উদ্ধার ও তা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মূল কারণ। সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংসের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের একটা বিরাট ভূমিকা ছিল বলে জানান ডেকান কলেজের গবেষক আর্তি দেশপাণ্ডে মুখোপাধ্যায়।

গবেষকদের দাবি, সিন্ধু সভ্যতার বিরাট অংশ বিস্তার লাভ করেছিল মূলত ভারতে। বিলুপ্তপ্রায় সরস্বতী নদী ও ঘাগর-হকরা নদীর কূল ঘেষে বিকাশ ঘটেছিল সিন্ধু সভ্যতার। তবে এখনো এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত গবেষণা করা দরকার বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। অনিন্দ্য সরকার জানান, খনন করা এলাকা থেকে পাওয়া নিদর্শনগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে। ওই নিদর্শনগুলোর শ্রেণিকরণ করে দেখা যায়, সাংস্কৃতিক দিক থেকে এগুলি প্রাক-সিন্ধু সভ্যতার সময়ের। অর্থাৎ ৯০০০-৮০০০ খ্রিষ্টপূর্ব সময়ের মধ্যকার। 


গবেষণা অনুসারে, ওই সময়টাতে সভ্যতার প্রতিনিধিদের মধ্যে মেষপালক ও কৃষিকাজেরই প্রাধান্য ছিল। পরে ধীরে ধীরে সভ্যতা যতই এগোতে থাকে ততই বিকশিত হতে থাকে এবং নগরকেন্দ্রিক ও সংস্কৃতিকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। তাদের সঙ্গে আরব ও মেসোপটেমীয় সভ্যতার লোকজনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ব্যবসা-বাণিজ্য চলত। পরে বড় মাত্রায় নগর ব্যবস্থার অবনতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সংগ্রাম, মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং সহিংসতাই হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংসের কারণ বলে মনে করেন গবেষকরা।

দেশপাণ্ডে মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে খনন করে পাওয়া হাড়ের অক্সিজেন আইসোটোপ গঠন এবং দাঁতের ফসফেট নিয়ে গবেষণা চালিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। মৌসুমি বৃষ্টিপাতের তারতম্যের ফলে স্তন্যপায়ী প্রাণির হাড় ও দাঁতের কাঠামোতে পরিবর্তন হয়েছিল। আমাদের গবেষণা বলছে, বসতি ও কৃষিকাজের জন্য ঘাগর-হকরা নদীর তীরে বসবাস শুরু করেছিল হরপ্পা-পূর্ব মানবজাতি। ৭০০০ বছর থেকে ৯০০০ বছর পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল বলে ধরা যেতে পারে।’

উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তানের বিশাল হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে এলাকাজুড়ে সিন্ধু নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল সিন্ধু সভ্যতা। ১৮৪২ সালে ব্রিটিশ গবেষক চার্লস ম্যাসন তার ‘ন্যারেটিভস অব ভেরিয়াস জার্নিস ইন বালোচিস্তান, আফগানিস্তান অ্যান্ড দ্য পাঞ্জাব’ বইয়ের হরপ্পার ধ্বংসাবশেষের কথা প্রথম উল্লেখ করেন। ধারণা করা হয়, হরপ্পা বা সিন্ধু সভ্যতার পূর্ণবর্ধিত সময় ২৬০০ থেকে ১৯০০ খ্রিষ্টপূর্ব পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল।

আর/১৭:১৪/৩০ মে

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে