Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-৩০-২০১৬

খেলাপি আবদুল কাদের, হাজত খাটলেন আরেক কাদের

সানাউল্লাহ সাকিব


খেলাপি আবদুল কাদের, হাজত খাটলেন আরেক কাদের

ঢাকা, ৩০ মে- ব্র্যাক ব্যাংকের ঋণখেলাপি গ্রাহক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দিলকুশা শাখার কর্মকর্তা আবদুল কাদের। আর হাজত খেটেছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা আবদুল কাদের। প্রথমজন ঋণখেলাপি, পরেরজন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক। প্রথমজনের পরিবর্তে পরেরজনকে ধরিয়ে দিয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা।

ব্যাংকের ভুলে নির্দোষ এক গ্রাহকের হাজতবাস খাটার এ ঘটনায় ব্র্যাক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় উত্থাপন করে ব্যাংকের পক্ষ থেকে লিখিত ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা আবদুল কাদেরকে গত ১১ এপ্রিল মতিঝিল থানার পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাঁকে জানানো হয়, ব্র্যাক ব্যাংকের ৪৫ হাজার টাকা খেলাপি ঋণগ্রহীতা হওয়ায় আদালতের রায়ে তাঁর ১ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৭৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ রয়েছে। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক কর্মকর্তা থানায় এসে আবদুল কাদেরকে খেলাপি হিসেবে শনাক্ত করেন। এ সময় আবদুল কাদেরের ছবি, স্বাক্ষরসহ ক্রেডিট কার্ডের ফরম দেখানো হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল আবদুল কাদের আইনজীবীর সহায়তায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে আদালতের নথি সংগ্রহ করে দেখতে পান, খেলাপি আবদুল কাদের ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের দিলকুশা শাখার এক কর্মকর্তা। এরপর তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবদুল কাদের ক্রেডিট কার্ড গ্রহীতা এবং কখনোই খেলাপি হননি। অথচ দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে নিরপরাধ একজন গ্রাহককে আসামি হিসেবে শনাক্ত করার ফলে হাজতবাস করতে হয়েছে। এতে তিনি সামাজিক, পারিবারিক ও দাপ্তরিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা ও সার্ভিস কোয়ালিটি বিভাগের প্রধান জারা জাবীন মাহবুব গত মঙ্গলবার এক মেইল বার্তায় বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম ও পিতার নাম একই হওয়ায় দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংস্থা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁকে আদালতে উপস্থাপন করে। পরে দেখা যায়, নামবিভ্রাটের কারণে জনৈক মো. আবদুল কাদের সাহেব গ্রেপ্তার হন। প্রকৃতপক্ষে তিনি আমাদের খেলাপি ঋণ গ্রাহক নন এবং উক্ত মামলায় তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। যেকোনো গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংস্থার নিজস্ব বিধি অনুসরণ করা হয়ে থাকে।’

জারা জাবীন মাহবুব আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে ব্যাংকিং আইন ও বিধি মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক হয়রানিতে ব্র্যাক ব্যাংক আন্তরিকভাবে দুঃখ এবং সমবেদনা প্রকাশ করছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়।

এফ/১৫:৪৯/৩০মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে