Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-২৯-২০১৬

‘দালালি চলবে না, একদম পরিষ্কার’ (ভিডিও সংযুক্ত)

সাব্বির আহমেদ


‘দালালি চলবে না, একদম পরিষ্কার’ (ভিডিও সংযুক্ত)

ঢাকা, ২৯ মে- এবার মন্ত্রীর গন্তব্য মিরপুর বিআরটিএ অফিস। দালালদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ট মানুষের অভিযোগ শুনতে সরাসরি হাজির তিনি।

প্রবেশপথেই অভিযোগের স্তূপ আসতে থাকে মন্ত্রীর কাছে। এক হাতে অভিযোগ আরেক হাতে আঙ্গুলের নির্দেশে বিআরটিএ’র এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে ছুটছেন দালাল ধরতে। ঘাম বেয়ে পড়ছে তার শরীরজুড়ে। তবু থামছেন না।

সবার সামনাসামনি তিনি বলছেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে লাভ হবে না। সরকারি দলের কারও ক্যাডার বা কোনো নেতার ক্যাডার- এটা আমি শুনবো না। এখানে দালালি চলবে না- একদম পরিষ্কার’।

রোববার (২৯ মে) দুপুর ১টায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আচমকা এই অভিযানে বেশ হুলুস্থুল পড়ে যায় মিরপুর বিআরটিএ অফিসে।  

তবে রাতারাতি এ পরিস্থিতি যে বদলাবে না তা মন্ত্রী নিজেই স্বীকার করছেন। তবে এসব অভিযানে যে লাভ হচ্ছে সুফল পাচ্ছে তা সরাসরি জানাচ্ছেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলছেন, ‘রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়’।

ঘটনাস্থলেই মন্ত্রীকে অনেকেই অভিনন্দন জানান এমন ঝটিকা অভিযানের জন্য। অনেকেই দৌড়ে এসে বছরের পর বছর বিআরটিএতে ঘুরে ভোগান্তির শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী তাদের কাগজ হাতে নিয়ে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে গালমন্দ করেন বিআরটিএ’র মিরপুরের পরিচালক মাসুদ আহমেদকে।

মন্ত্রী তাকে বলেন, ‘মাসুদ তুমি কি পুরনো খেলা শুরু করেছো? তুমি কি কোনোদিনই ভালো হবে না? দালাল টাকা দিলে আগে কাজ করো আর যারা টাকা দেয় না তাদেরকে বছরের পর বছর ঘোরাও’।

ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, বিআরটিএতে জনবল সংকট রয়েছে। যখনই একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে অন্য জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হয়, সে জায়গায় গিয়ে ওই লোক আবার পুরনোটা শুরু করেন’।

তবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা পদ্ধতি ডিজিটাল করা হচ্ছে এমন সুখবর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি শুরু হলে দালালি বন্ধ হবে অনেকটা। সরাসরি গাড়ি নিয়ে এসে কম্পিউটারের মাধ্যমে গাড়ির ফিটনেস দেখা হবে। ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে গাড়ি চেক করা হবে’।

মন্ত্রী এরপর ডিজিটাল পদ্ধতির ফিটনেস পরীক্ষাগার পরিদর্শন করেন। খুব শিগগিরই এটি উদ্বোধন করা হবে বলে জানান। কোরিয়ার সহযোগিতায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে পরীক্ষাগারে ডিজিটাল মেশিনগুলো স্থাপন করা হয়েছে।

এর আগে যখন মন্ত্রী বিআরটিএ’র দালাল খুঁজতে দৌড়াচ্ছেন তখনই একজন অভিযোগ করেন যে, ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট ডেলিভারি কাউন্টারে মানুষকে দাঁড় করিয়ে রেখে ভেতরে কর্মকর্তারা গেম খেলছেন।

বিষয়টি জানানোর পরই মন্ত্রী ছুটে যান ওই কাউন্টারের দিকে। কাউন্টারের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উঁকি দিয়ে কর্মকর্তাদের বলেন, ‘কোন কোম্পানির (দলের) তোমরা, আমি এটা কেয়ার করি না, এখনই বাদ দিয়ে দেবো...’।

পরপর কয়েকটি অভিযোগ মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন ভোগান্তির শিকার লোকজন। মন্ত্রী মিরপুর বিআরটিএ’র পরিচালককে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা দিতে নির্দেশ দেন। একই অভিযোগ যখন অনেকের কাছ থেকে মন্ত্রীর কাছে আসা শুরু হয় তখন মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে আলাদা বুথ খুলে এসব সমাধানের নির্দের্শ দেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেন, ‘আজকেই সমাধান করতে হবে।’ এরকম ১৩টি অভিযোগ মন্ত্রীর হাতে আসে।

আর/১০:৩৪/২৯ মে

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে