Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২৯-২০১৬

ট্যানারি জটিলতা, সরকারের আলটিমেটাম অগ্রাহ্য

ট্যানারি জটিলতা, সরকারের আলটিমেটাম অগ্রাহ্য

ঢাকা, ২৯ মে- হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে বুড়িগঙ্গা নদী দূষণ করে চলছে। এতে মৎস্য ও জলজ প্রাণি প্রায় বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। এ নদীর পানি এখন শিল্প-কারখানা, কৃষি বা গৃহস্থালীর কাছে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমনকি পরিশোধন করেও খাবার পানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এ অবস্থায় সরকার হাজারীবাগের সব ট্যানারি সাভারে সরানোর উদ্যোগ নিলেও নানা কারণে তা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। হাইকোর্টের রায়, বারবার মন্ত্রণালয়ের আলটিমেটাম কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।

ট্যানারি স্থানান্তর বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ বাংলামেইলকে বলেন, সাভারে কারখানার কাজ সম্পন্ন করতে আরও চার বা পাঁচ মাস সময় লাগবে। এসময়ের মধ্যেই ট্যানারিগুলো স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।

তবে এতো কম সময়ের মধ্যে স্থানান্তর সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সোবহান। তিনি বলেন, ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য কাজের যে অগ্রগতি প্রয়োজন তার কোনো বাস্তব চিত্র দেখা যাচ্ছে না। বাস্তবতা হলো, ৬৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রথম তলা থেকে পঞ্চম তলার ছাদ ঢালাই হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ এখনও শুরুই হয়নি। যেখানে ২৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে রয়েছে ২৫০-২৬০টি ছোট বড় কারখানা। এ অবস্থায় ট্যানারি স্থানান্তরে বিটিএ সভাপতির দাবি যুক্তিসম্মত নয়।

সাভারস্থ চামড়া শিল্প নগরীতে ট্যানারিগুলো স্থানান্তরের জন্য একাধিকবার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। গত ৩ জানুয়ারি শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন। অন্যথায় প্লট বাতিল এবং গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিছিন্নসহ কারখানা বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন। ১৪২টি ট্যানারিকে লিগ্যাল নোটিশও দেয়া হয়। 

পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ মার্চ করা হয়। ১ এপ্রিল থেকে হাজারীবাগে চামড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সর্বশেষ এই সময়সীমা ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন মালিকরা সামনের কোরবানির ঈদ পর্যন্ত সময় চাইছেন।

এদিকে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) একটি প্রতিনিধি দল গত ২৫ মে ট্যানারি স্থানান্তর কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। তারা একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাভারে সিইটিপির দুটি মডিউলের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। বাকি দুটি মডিউলের নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে চলছে। ট্যানারির বর্জ্য তিনটি ইপিএস (বর্জ্য পাম্পিং স্টেশন) এর মাধ্যমে সিইপিটিতে যাবে। ২নং ইপিএস এর নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, ১নং ইপিএস এর নির্মাণ কাজ চলছে এবং ৩নং ইপিএস এর নির্মাণ কাজ অত্যন্ত ধীর গতি চলছে। ইপিএস হয়ে বর্জ্য সিইটিপিতে যাওয়ার পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়েছে।

তিনটি ক্রোম রিকভারি ইউনিটের মধ্যে একটির নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন এবং বাকি দু’টির নির্মাণ কাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। শিল্প ভবন নির্মাণের পর যন্ত্রপাতি স্থানান্তর ও স্থাপন করা; বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ স্থাপন; বর্জ্য স্ক্রিনিং ও মূল পাইপলাইনে সংযোগ স্থাপন করার পরই কেবল সেগুলো চালু করা সম্ভব হবে। ৬৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রথম তলা থেকে পঞ্চম তলার ছাদ ঢালাই হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টিতে ট্যানিং ড্রাম স্থাপন করা বা স্থাপনের কাজ চলছে। ১০টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব।

কিন্তু সিসিআরইউ ও ইপিএস-১ সম্পন্ন না হওয়ায় উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সাবস্টেশন নির্মাণ এবং পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিতে আবেদন করা ও ডিমান্ড নোট ইস্যুর পর প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দেয়া। ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাবষ্টেশন নির্মাণ করা বা নির্মাণের কাজ চলছে।

সাভারে শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের শিল্প ভবন নির্মাণ, যন্ত্রপাতি স্থাপন, ইউলিটি সংযোগ স্থাপন কার্যক্রম অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে উল্লেখ করে পবা’র পক্ষ থেকে বলা হয়, যে ৩১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ট্যানিং ড্রাম স্থাপন করা বা স্থাপনের কাজ চলছে তার ৭০ শতাংশের বিদ্যুৎ সাবস্টেশন নির্মাণ করা হয়নি বা নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়নি। ফলে সবকিছু প্রস্তুত হলেও বিদ্যুতের অভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব হবে না। 

পবা বলছে, ট্যানারি স্থানান্তরের দীর্ঘসূত্রিতার প্রধান অন্তরায় একদিকে ট্যানারি মালিকদের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যেকে গুরুত্ব না দেয়া, অন্য দিকে নিজেদের ব্যক্তিগত মুনাফাকে প্রাধান্য দেয়া এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রাহ্য না করা। এছাড়া সিইটিপির দুটি মডিউলের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও, সিসিআরইউ সম্পন্ন না হওয়ায় ১০টি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মতৎপরতা এবং সিইটিপির নির্মাণের ধীরগতিতে আমরা শুধু হতাশই নই, ক্ষুব্ধও বটে। ট্যানারি স্থানান্তরের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কোনো একটি অদৃশ্য শক্তি এখানে তৎপর, এমনটিই জানিয়েছে পরিবেশ আন্দোলন বাংলাদেশ (পবা)।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে