Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২৮-২০১৬

অপচুক্তির মাধ্যমে ৭০০ কোটি টাকার কর ফাঁকি!

অপচুক্তির মাধ্যমে ৭০০ কোটি টাকার কর ফাঁকি!

ঢাকা, ২৮ মে- বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে বিদেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছর প্রায় ৭০০ কোটি টাকার কর ফাঁকি দিচ্ছে। ১৮টি দ্বিপাক্ষিক ‘অপচুক্তি’র মাধ্যমে এ দেশ থেকে এই টাকা নিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের ১৫টি দেশের প্রতিষ্ঠান।

মূলত রাজনৈতিক ও সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো নিয়ন্ত্রণমূলক ‘অপচুক্তি’করিয়ে এই আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে।

আজ শনিবার ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে ‘দুর্বিনীত কর-আঘাত, অসমর্থিত বাজেট’ শীর্ষক আলোচনায় এমন তথ্য ও মতামত উঠে আসে। আলোচনাটি শুরু হয় অ্যাকশনএইডের করা  ‘অপচু্ক্তি’ নামের একটি প্রতিবেদনের  ফলাফল তুলে ধরার মাধ্যমে।

প্রতিবেদন নিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “কর্পোরেট ট্যাক্সের মতো প্রত্যক্ষ কর আদায়ে আমরা খুব বেশি চতুর ও দক্ষ হতে পারিনি। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে আমাদের সুযোগ দিতে হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের যতটা কঠোর ও কৌশলী হওয়া উচিত ছিল সেটা আমরা হতে পারিনি।”

অনুষ্ঠানে ‘অপচুক্তি’নামের গবেষণাটি তুলে ধরেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ডিরেক্টর আজগর আলী সাবরি। এই চুক্তি বাংলাদেশে বাজেট, উন্নয়ন ও নীতিতে কী প্রভাব ফেলছে সেটিও তুলে  ধরা হয় গবেষণার ফলফলে।

গবেষণাটিতে ৫০০-রও বেশি আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে সমীক্ষা করা হয়। সেখানে দেখা যায়, বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশেই সর্বোচ্চসংখ্যক ১৮টি অপচুক্তি আছে এবং বেশি কর ফাঁকি হচ্ছে। এই চুক্তিগুলোর একটি ধারার কারণে বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের টাকার ওপর করের লভ্যাংশ নিতেও বাংলাদেশের ক্ষমতা সীমিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, “আমাদের সক্ষমতার অভাবে কর্পোরেটরা বেশি সুযোগ নিচ্ছে। আমরা বলছি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তবে সেটা করতে গিয়ে আমরা যদি তাদের কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ করে দেই, সেটা যৌক্তিক না।”

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, “আশির দশকে আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ দরকার ছিল বেশি। তাই বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডেকে আনতে হয়েছে। সেই সুযোগে তারা তাদের মতো করে চুক্তি করেছে এ দেশের নীতিনির্ধারকদের দিয়ে। আমাদের দেশে কর ফাঁকি দিয়ে টাকা নিয়ে যাচ্ছে।”

আবদুল মজিদ বলেন,  “আমি যদি জামাই আদর না করি তবে সে আসবে না, এটা ভাবার সময় এখন আর নেই। এখন চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়ন বা বাতিল করা উচিত।”

 এ বিষয়ে বাংলাদেশের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, “যে দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে, সে দেশে যদি আমাদের বিনিয়োগ করা যেত তবে আমরা চুক্তির আলোকে  কথা বলতে পারতাম। চুক্তি থেকে কীভাবে সুবিধা নিতে হবে সে বিষয়ে সচেতনতা দরকার। আমরা অনেক ক্ষেত্রে সচেতন ছিলাম না।”

বাংলাদেশ বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, “আমাদের বিদেশী বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য ছিল দেশে কর্মসংস্থান তৈরি করা। সেটি হয়নি। উল্টো টাকা নিয়ে যাচ্ছে। তাই বিদেশি বিনিয়োগ আমাদের প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান কিংবা দক্ষতা বৃদ্ধিতে কতটা কাজে আসছে, তা বিবেচনায় আনতে হবে।”

কী করা যেতে পারে এ বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “জাতিসংঘের বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার যে নীতিমালা আছে বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, সেটি যদি আমাদের দেশে বাস্তবায়ন করা যায় তবে ফাঁকির পরিমাণ কমিয়ে আনা যাবে। সেটি করতে হবে  একটি আন্তর্জাতিক ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে। তা না হলে অন্য দেশ সুযোগ বেশি দিয়ে বিনিয়োগকারীদের নিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে কর্পোরেট ট্যাক্স ফাঁকি কামাতে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, সব দেশ মিলে একটা একটা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে যাতে কেউ সুযোগ না নিতে পারে। দেশীয় পর্যায়ে চুক্তিগুলো জনমম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে সরকারসহ সব  পর্যায়ে।

আর/১০:৩৪/২৮ মে

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে