Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২৮-২০১৬

মাংস খেলে কি ক্যান্সার হতে পারে?

সাবেরা খাতুন


মাংস খেলে কি ক্যান্সার হতে পারে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয় যে, লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংসের সাথে ক্যান্সারের ঝুঁকি সম্পর্কযুক্ত। গবেষণাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই চলুন।

ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার(IARC -  যা  WHO এর একটি অঙ্গ সংস্থা) মাংস ও ক্যান্সার এর সম্পর্ক নিয়ে করা প্রায় ৮০০ টি গবেষণার পর্যালোচনা করে। এই গবেষণাগুলোতে সারা বিশ্বের বিভিন্ন জাতির ও বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রক্রিয়াজাত মাংস যা থাকে বেকন, সসেজ বা হটডগে তা মানুষের ক্যান্সার সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। প্রতিবেদনে লেখক চিহ্নিত করেন- যদি দৈনিক ৫০ গ্রাম প্রসেসড মাংস গ্রহণ করা হয় তাহলে কলোরেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ১৮% বৃদ্ধি পায়। গরুর মাংস, ছাগলের মাংস, ভেড়ার মাংস, শূকরের মাংস এই ধরণের লাল মাংসকে মানুষের সম্ভাব্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারীর ক্যাটাগরিতে রাখা হয়। কিন্তু গবেষক দলটি মাংস ও ক্যান্সারের মধ্যে সম্পর্কের নিশ্চয়তার ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত প্রমাণ পান। দৈনিক ১০০ গ্রাম লাল মাংস খেলে কলোরেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ১৭% বৃদ্ধি পায় বলে উল্লেখ করা হয়।

আপনি হয়তো শুনেছেন যে টোব্যাকো ও প্রসেসড মাংস একই ক্যাটাগরির। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ভেড়ার সসেজ খাওয়া ধূমপানের মতোই ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ণ। IARC এর শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতে বলা যায় যে, এদের কিছু ক্যান্সার সৃষ্টিকারী হতে পারে কিন্তু প্রকৃত ঝুঁকি সৃষ্টিকারী নয়। তামাক সেবনের ফলে সারা বিশ্বে প্রতিবছর দশ লক্ষ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যদিকে অত্যধিক প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার ফলে ৩৪,০০০ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জেনে নেয়া যাক এবার -

মাংস খেলেই কি ক্যান্সারে আক্রান্ত হবেন?
IARC এর ডাইরেক্টর ডা. ক্রিস্টোফার ওয়াইল্ড বলেন, “মাংস ভোজন সীমিত করতে  বর্তমান জনস্বাস্থ্য পরামর্শ মেনে চলুন”। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ডিজিজ  প্রিভেনশন এর চেয়ারম্যান ডা. জন লোয়ানিডিস বলেন, “আমি মনে করি এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আদৌ লাল মাংস খাওয়া উচিৎ নয় বলে আমরা মানুষের মনে ত্রাস সৃষ্টি করতে চাইনা”। মাংস গ্রহণ করার কোন নির্দিষ্ট মাত্রার উল্লেখ করা হয়নি। আমেরিকার টাফট ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ নিউট্রিশন সাইন্স এন্ড পলিসি এর ডিন ডা. দারিয়ুস মুযাফফারিয়ান পরামর্শ দেন, “মাসে এক বা দুই সারভিংস এর বেশি  প্রক্রিয়াজাত মাংস গ্রহণ করবেন না এবং অপ্রক্রিয়াজাত মাংসও সপ্তাহে এক বা দুই সারভিংসের বেশি গ্রহণ করবেন না”।

কোন ধরণের মাংস নিরাপদ?
আপনি মুরগী বা গরুর মাংস যেটাই খান না কেন চর্বিহীন মাংসই সবচেয়ে নিরাপদ। প্রাণীজ চর্বিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরল থাকে যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও অকাল মৃত্যুর সাথে সম্পর্কিত। সার্বিক স্বাস্থ্য ও ভুঁড়ির মেদ কমানোর জন্য প্রক্রিয়াজাত মাংস গ্রহণ সীমিত রাখাই উচিৎ।

কিভাবে রান্না করা হচ্ছে তা কি গুরুত্বপূর্ণ?
বস্তুত গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, গ্রিল বা বারবিকিউ করা ঝলসানো মাংস যা অধিকতাপে তৈরি  করা হয় তাতে এক ধরণের রাসায়নিক উৎপন্ন হয় যা ক্যান্সার সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়।     

নিরামিষভোজী হয়ে যাওয়াই কি নিরাপদ?
এমনটা ভাবার কোন প্রয়োজন নেই। আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলের চমৎকার উৎস হচ্ছে মাংস। এই উপাদানগুলো ব্রেইন, মাসেল ও ইমিউন সিস্টেমের কাজের জন্য প্রয়োজনীয়। তাই মাংস খাওয়া বাদ দিলে প্রধান পুষ্টি উপাদানগুলো থেকে বঞ্চিত হবেন আপনি যা আপনার শরীরের উপর প্রভাব ফেলবে যদিনা এগুলো পাওয়ার অন্য উপায় খুঁজে না নেন।  

আর/১৭:১৪/২৮ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে