Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.8/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২৬-২০১৬

এবার যমুনায় হচ্ছে ফোরলেন রেলসেতু

মফিজুল সাদিক


এবার যমুনায় হচ্ছে ফোরলেন রেলসেতু

ঢাকা, ২৬ মে- বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুকে রক্ষা করতেই এবার এর পাশে আলাভাবে ফোরলেন ডুয়েলগেজ রেলসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকার। বিষয়টি নিয়ে বুধবার (২৫ মে) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সচিব শশী কুমার সিংহের সঙ্গে কথা বললে এ তথ্য জানা যায়।  

বঙ্গবন্ধু সেতু বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে দুই অংশকে একত্রিত করেছে। সড়কের পাশাপাশি সেতুতে রেল সংযোগও রয়েছে। তবে এই রেল সংযোগ বর্তমানে না থাকার সমতুল্য। সেতুতে কচ্ছপ গতিতে চলে ট্রেন। ইচ্ছে করলে কোনো যাত্রী দৌঁড়ে ট্রেনের আগেই সেতু পার হতে পারবেন। কারণ এর আগে কয়েকবার সেতুতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা। কারণ ট্রেন আউটার সিগনালিং খাঁচা ভেঙে ফেলেছে দুস্কৃতকারীরা। বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুতে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার রেল সংযোগ এখন এক আতঙ্কের নাম।

এই আতঙ্ক থেকে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষকে পরিত্রাণ দিতে এবং বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুকে রক্ষা করতেই এবার বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে আলাভাবে আরও একটি রেলসেতু নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। মহাসড়কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফোরলেন ডুয়েলগেজ রেলসেতু নির্মাণ করা হবে। যাতে করে ওয়াগন ও কন্টেইনার বাল্ক অধিক পরিমাণে বহন করা যায়।

ফলে উত্তর বঙ্গ, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ নিরাপদ ও দ্রুতগামী রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা পেতে যাচ্ছে। বর্তমানে রেলপথ মন্ত্রণালয় ‘যমুনা রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্প’ তৈরির কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যাতে করে প্রকল্পের কাজ দ্রুত সময়ে শুরু করা যায়। কারণ বর্তমানে যাত্রীবাহী ছাড়া কোনো ভারী মালবাহী ট্রেন এ সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। সেতুর বর্তমান অবস্থার কথা চিন্তা করেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে এর আগে পদ্মা সেতু হয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে নতুন রেলওয়ে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) সভা। ডাবল ডেকার পদ্মাসেতুর নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
 
অন্যদিকে পদ্মা নদীর উপরে যেভাবে ১ দশমিক ৮ কিমি সেতুটির দৈর্ঘের লালন শাহ সড়ক সেতু  ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ রেল সেতু অদূরে অবস্থান করছে। একইভাবে পদ্মার মতো যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতু ও রেলসেতু অবস্থান করবে। ইতি মধেই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।
 
যমুনায় রেল সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে সচিব শশী কুমার সিংহ বলেন, বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ট্রেন চলাচল করছে। সেতুর উপরে ধীরগতিতে রেলপথে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়াও আমরা ভারী পণ্য পরিবহন করতে পারছি না। ফলে যম‍ুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশ দিয়ে আলাদা রেল সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা ইতিমধ্যেই জাইকার কাছ থেকে ঋণ পেতে যাচ্ছি সেতুটি নির্মাণে। দ্রুত সময়ের মধেই প্রকল্পটি পাশ করানো হবে। এই বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে।’
 
যমুনায় নতুন রেলসেতু নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে। একই সঙ্গে রেলপথের মাধ্যমে ভারী মালামাল পরিবহনে কন্টেইনার পরিবহন বাড়ানো হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের কন্টেইনারসমূহ দেশ-বিদেশে পরিবহন বাড়ানো হবে। এতে করে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়বে। উত্তর বঙ্গের সঙ্গে দ্রুতগামী রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নতুন রেলসেতুর মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ ব্যবস্থা করা হবে। কন্টেইনার পরিবহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়ানো হবে।
 
প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাবিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৭৪০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২০১ কোটি ৫৭ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য ৭ হাজার ৭২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে জুলাই ২০১৭ সাল থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ সাল নাগাদ।
 
এমনকি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বছরওয়ারী প্রকল্পটির জন্য টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) প্রকল্পে ঋণ দেবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান করবে সেতুটি। ফলে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) ভূক্ত চারটি দেশের সঙ্গে রেলপথে ব্যবসা বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়বে। ভারত, মায়ানমার, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন হবে।

রেল মন্ত্রণ‍ালয় থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, বিশেষভাবে যমুনায় রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্পে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের মে মাসে জাপান সফরে গিয়ে ছিলেন। সেই সময় প্রকল্পটির বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল। প্রকল্পের তাৎপর্য এবং গুরুত্বের কথা বিবেচনা এবং বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে জাইকা ঋণ দিতে সম্মত হয়।

বঙ্গবন্ধু সেতুতে কন্টেইনার পরিবহন বন্ধ: বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে অদূর ভবিষ্যতে দাঁড়াবে ৪ হাজার ৭৩০ কিলোমিটার। গড়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ২৬টি ট্রেন বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে পার হয় কিন্তু ঝুঁকির কারণে সেই তুলনায় কন্টেইনারবাহী ট্রেন চলাচল এক প্রকার বন্ধ রয়েছে।

ভারী পণ্য পরিবহনে এক প্রকার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে ৩০টা ট্রেন চলাচলের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে থাকবে দুটি কন্টেইনার, একটি পেট্রোলিয়াম ও দুটি খনিজ সম্পদবাহী। ২০৩৩ সালে ৫টি ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে যার মধ্যে ৫টি কন্টেইনার একটি পেট্রোলিয়াম ও দুটি খনিজ পণ্যবাহী। ২০৪৩ সালে যমুনা নদীর উপর দিয়ে ৭০টি ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি কন্টেইনার চারটা পেট্রোলিয়াম ও দুটি খনিজবাহী ট্রেন চলাচল করবে।

২০১৮ সালের মধ্যেই মংলা পোর্ট উন্নয়নের কাজ সম্পূর্ণ হবে। তখন বঙ্গবন্ধু সেতুর গুরুত্ব কয়েকগুন বেড়ে যাবে। উন্নত দেশের মতো ২০২৩ সাল নাগাদ ৫০ শতাংশ ভারী পণ্য রেলপথে যাতায়াতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।   

আধুনিক সকল সুযোগ ‍সুবিধার সমন্বয়ে নির্মিত হবে রেল সেতুটি। বঙ্গবন্ধু সেতু ইস্ট (বিবিই) স্টেশন এবং বঙ্গবন্ধু সেতু ওয়েস্ট (বিবিডাব্লিউ) স্টেশন স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলিংকিং (সিবিআই) সিগনালিং সিস্টেম থাকবে। সেতু বরাবর গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপলাইনও থাকবে। যেটি সম্পূর্ণভাবে নির্মিত হলে উত্তর বঙ্গ, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে আশির্বাদ হিসেবে ধরা দেবে বলে মনে করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

এফ/২২:৫৫/২৬মে

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে