Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২৬-২০১৬

বস মিথ্যা বললে যা করবেন

বস মিথ্যা বললে যা করবেন

প্রচুর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারেন যেকোনো প্রতিষ্ঠানের বসরা। তবে কিছু সময় তারা মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন, কিছু সময় সকল ক্ষুদ্র বিষয়ের সমাধান করেন আবার কখনও তারা কোনো কিছুই করতে অসম্মতি জানান।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানের বসের মিথ্যা বলা কর্মী এবং ম্যানেজারদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি করে। যখন একবার বসের উপর থেকে আস্থা উঠে যায় তখন বসের সিদ্ধান্ত মানা খুব কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। তার মুখ থেকে যা বের হয় সবই প্রশ্নবিদ্ধ হয় তখন। এমনকি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা সম্পর্কিত তথ্য, নতুন প্রোজেক্ট এমনকি আপনার ভালো কাজের প্রশংসাও তখন কিছুক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়। আর এটা আপনার সহজ কাজকেও কঠিন করে তোলে।

সুতরাং আপনার বস যখন মিথ্যা বলে তখন আপনার কী করা উচিত?
বিষয়টি নিয়ে ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিথ্যা বলা আসলে এমন একটি অভ্যাস যা বলা থেকে আপনি কাউকে বিরত রাখতে পারবেন না। সুতরাং এ অবস্থায় আপনাকে প্রথমে নিজের সাথে সন্ধি করতে হবে যে আপনি এমন এক ব্যক্তির সাথে কাজ করতে পারবেন কিনা যাকে আপনি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করতে পারবেন না। সুতরাং এ অবস্থায় আপনাকে আগাতে হলে নীচের বিষয়গুলো আপনাকে সহায়তা করতে পারে।

তার উদ্দেশ্য কী?
বিষয়টি বোঝার জন্য দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে ফোর্বস। ম্যাগাজিনটিকে এক ব্যক্তি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে টাইম-সেনসেটিভ একটি বিরাট কাজ করছিল এমন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ করতে হতো। আমি একটি বিভাগের সুপারভাইজার ছিলাম। সুতরাং কাজের অগ্রগতি নিয়ে অন্যান্য ম্যানেজার এবং নিয়মিত আমার বসের সঙ্গে বসতে হতো। ঠিক সময়ে যেন কাজ শেষ হয় সেজন্য প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ টিম আমাদের জন্য চার সপ্তাহের একটি সমসয়সীমা বেধে দেয়, যা আসলে ছয় সপ্তাহ ছিল। তিনি কনফার্ম হতে চাচ্ছিলেন আমরা বেধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবো কি-না।

সর্বশেষ আমরা কাজ শেষ করতে সমর্থ হই যা পুরো ডিপার্টমেন্টের নাম উজ্জল করে।

অন্য একটি কাজে আমার এক বস ছিলেন যিনি গণমাধ্যমকে সবকিছু বাড়িয়ে বলতেন। যখন তিনি কোনো সংবাদপত্র কিংবা সাক্ষাৎকারে কথা বলতেন তখন তিনি কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে বলতেন। তিনি মোট কর্মীর সংখ্যা বলতেন ৩৫০ যেখানে প্রকৃত কর্মী ছিল ১০০ জন।

এ দুটি মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে প্রথম বস টিমের সফলতার জন্য মিথ্যা বলেছেন। তার মিথ্যার উদ্দেশ্য ভালোর জন্য ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বস তার প্রতিষ্ঠানকে সফল প্রমাণ করার জন্য এবং বড় প্রতিষ্ঠানের খেতাব পাওয়ার জন্য মিথ্যা বলেছেন। তার মিথ্যা প্রমাণ করেছে তিনি একজন স্বার্থপর। 

এটা কীভাবে আপনাকে এবং অন্যদের প্রভাবিত করে?
প্রথম বসের ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এটা কর্মীদের মধ্যে কাজের চাপ বাড়িয়েছে। সর্বপরি কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে সফল হতে হয়েছে।

কিন্তু অন্য ঘটনা প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীদরে মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী যদি গণমাধ্যমের কাছে প্রশ্নের মুখোমুখি হতেন তাহলে তাদেরকে মিথ্যা বলতে হতো কিংবা সত্য বলে চাকরি হারানোর ভয়ে থাকতে হতো।

এ দুটি ঘটনার মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। প্রথমটা কর্মীদের প্রশংসা জোগালেও দ্বিতীয়টি কর্মীদের অসৎ হতে বাধ্য করেছিল।

সর্বশেষ কথা হচ্ছে, আপনার বসের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন একবার তার মিথ্যা বলা তার উপর থেকে আপনার বিশ্বাস অনেকটাই কমিয়ে দেয়। সুতরাং এ অবস্থায় আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কি এ বসের হয়ে কাজ করতে পারবেন নাকি বিশ্বাসযোগ্য অন্য কোনো বস খুঁজবেন?

উপরের ঘটনা দুটির ভুক্তভোগীর তথ্যমতে, তিনি প্রথম বসের হয়ে কাজ করতে পারলেও দ্বিতীয় বসের হয়ে কাজ করতে পারবেন না। কারণ, এ মিথ্যা বলা বসের উপর তার সম্মানই বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু দ্বিতীয় বস তার নিজের স্বার্থের জন্য মিথ্যা বলেছেন। ওই বসের হয়ে কাজ করতে রাজি নন ওই ব্যক্তি এমনকি তাকে শ্রদ্ধা করতেও।

আপনার বসের মিথ্যা বলা আপনাকে একটা জটিল পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। কিন্তু নিজেকে কিছু প্রশ্ন করুন, নিজের শক্তিকে বিশ্বাস করুন এবং আপনার ক্যারিয়ারকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কোনটা ঠিক হবে তা পর্যালোচনা করুন। 

আর/১৭:১৪/২৬ মে

ব্যক্তিত্ব

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে