Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 5.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-২৬-২০১৬

মহাসচিব হয়েও চরম অস্বস্তিতে মির্জা ফখরুল!

মহাসচিব হয়েও চরম অস্বস্তিতে মির্জা ফখরুল!
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঢাকা, ২৬ মে- বিএনপির মহাসচিব হওয়ার পর থেকেই চরম অস্বস্তিতে আছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রথম দিন থেকেই তাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। দলে এখন তার কোনও ভূমিকা নেই বললেই চলে।

সম্প্রতি এক রিপোর্টে বলা হয়েছিলো, মহাসচিব হয়েও কী করবেন ফখরুল? অর্থাৎ ওই পদ পেলেও তিনি কার্যকর কোনও ভূমিকা রাখতে পারবেন না বলে রিপোর্টে পূর্বাভাস ছিলো। বলা হয়েছিলো, মহাসচিব হলেও বেশিরভাগ সময় তার টেনশনেই থাকতে হবে।

বাস্তবেও পূর্ণ মহাসচিব হওয়ার পর গত একমাস ধরে ফখরুল টেনশনেই আছেন। আছেন চরম অস্বস্তিতেও। কারণ তার হাতে কোনও কাজ নেই। দলে কার্যকর কোনও ভূমিকা রাখার মতো দায়িত্বও তাকে চেয়ারপারসন দিচ্ছেন না। উল্টো প্রথম দিন থেকেই দলের ভেতরে-বাইরে তাকে কোণঠাসা করে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। বলতে গেলে ফখরুলবিরোধীরাই এখন বিএনপি চালাচ্ছেন। ফলে আড়ালে কেউ কেউ তাকে ‘ঠুটো জগন্নাথ’ বলতেও ছাড়ছেন না।

অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে, ফখরুল চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে বলতে বাধ্য হয়েছেন, তাকে নিয়ে দলে নানা কথা ছড়ানো হচ্ছে। চেয়ারপারসনের উচিৎ দলে কার্যকর ভূমিকা পালনের ব্যাপারে তাকে সুযোগ দেওয়া। গুলশান কার্যালয়ের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের ১০ দিন পর গত ২৯ মার্চ মহাসচিব পদে মির্জা ফখরুল, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব পদে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে মিজানুর রহমান সিনহার নাম ঘোষণার নির্দেশ দেন খালেদা জিয়া। কিন্তু পূর্ণ মহাসচিব পদ পাওয়ার প্রথম দিন থেকেই অস্বস্তি ও ঝামেলা দুটিতেই পড়তে হয় ফখরুলকে। অস্বস্তি এ কারণে যে, তিনি মহাসচিব হলেও কমিটি ঘোষণা করেন রিজভী আহমেদ। এর ফলে দলের ভেতরে ও বাইরে প্রশ্ন ওঠে, বিএনপিতে কে ক্ষমতাবান- ফখরুল না রিজভী?

শুধু তাই নয়, এরপর আরও দুই দফায় মোট ৪০ জনের কমিটি ঘোষণা করা হয়, সে ঘোষণাও দেন রিজভী। ফলে দলে মহাসচিবের যে কর্তৃত্ব নেই এটি আরও স্পষ্ট হয়ে পড়ে। আর ঝামেলা তৈরির কারণ, ২৯ মার্চই পল্টন থানার একটি নাশকতার মামলায় তাকে জেলে যেতে হয়। যদিও ৮ ঘণ্টা জেলে থাকার পর জামিনে তিনি ওইদিনই মুক্ত হন।

জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার মতে, মহাসচিবের কাজের পরিধি অনেক বড়। এ নিয়ে মন্তব্য করার কিছু নেই। তবে সিনিয়র একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ফখরুল কাজ করতে পারছেন না, এটি স্পষ্ট। তাদের মতে, দলের কতিপয় সুযোগ সন্ধানী নেতা ও গুলশান কার্যালয়ের কর্মকর্তা শিমুল বিশ্বাস ফখরুলের ব্যাপারে চেয়ারপারসনের ‘কান ভারী’ করে যাচ্ছেন। আর সে কারণেই ফখরুলসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে অনাস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে খালেদা জিয়ার।

অবশ্য দলীয় সমর্থক বুদ্ধিজীবী বলে পরিচিত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপির মতো বড় একটি দলের মহাসচিবকে সব সময়ই বৈরী পরিস্থিতি মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগোতে হয়।

তিনি বলেন, মরহুম সালাম তালুকদার, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এমনকি সর্বশেষ খোন্দকার দেলোয়ারকেও অনেকের বিরোধিতার মুখে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। তার মতে, এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি। এটি হলে পরিস্থিতি বদলে যাবে।

সূত্রমতে, বিভিন্ন পদ লাভে আগ্রহী বহু নেতা গত একমাস ধরে তদবির করতে মহাসচিব ফখরুলের বাসায় গেছেন। তাদের প্রায় প্রত্যেককে তিনি বলেছেন, ‘কমিটির ব্যাপারে আমি কিছু জানি না’। পাশাপাশি সিনিয়র নেতারাও তদবির করতে যাওয়া নেতাদের একই কথা বলেছেন। কেউ কেউ আরও একধাপ এগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য হয় রিজভী আহমেদ অথবা চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আর এভাবেই দলের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে পড়েছে, বিএনপি এখন পরিচালনা করছেন শিমুল ও রিজভী। আর এতে দলে ফখরুল পড়েছেন চরম অস্বস্তিতে। কারণ মহাসচিব হওয়ার ব্যাপারে তার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন এমন নেতারা এখন ‘ঘুরে দাঁড়িয়ে জোর গলায়’ কথা বলার জন্য ফখরুলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তাদের কেউ কেউ এমনও বলছেন, মহাসচিব হয়ে তাহলে আর লাভ কী হলো!

প্রসঙ্গত, প্রকাশিত একটি রিপোর্টে ফখরুলের কাজ করতে না পারার আগাম যুক্তি হিসেবে দলের মধ্যে ফখরুলের অনুগত নেতাদের বলয় সৃষ্টি করতে না পারা, দফতর থেকে শুরু করে গুলশান কার্যালয় পর্যন্ত তার বিরোধী বলে পরিচিত নেতাদের নিয়ন্ত্রণ, লন্ডনে বসবাসরত দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা ততোটা অনূকুলে না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিলো। বলা হয়েছিলো, ফখরুলের বিরোধীরা দলে এতই শক্তিশালী যে, চেয়ারপারসনকে বিভ্রান্ত করে সাড়ে তিন বছরের বেশি ফখরুলকে তারা ‘ভারপ্রাপ্ত’ রাখতে সক্ষম হন।

তাছাড়া সে সময় মহাসচিবের পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব পদে যার নাম শোনা যাচ্ছিল, সেই রিজভীও ফখরুলের বিরোধী বলে ওই রিপোর্টে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছিলো।

কমিটি ঘোষণার আগে অনেকের ধারণা ছিলো, ফখরুল পূর্ণ মহাসচিব হতে পারলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন আর কেউ তাকে চ্যালেঞ্জ করবে না। কিন্তু নেতাদের ওই ভবিষ্যৎবাণী ব্যর্থ করে দিয়ে রিজভী পুরোপুরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ফখরুলকে। আর এ কাজে তাকে সহায়তা করছেন শিমুল বিশ্বাস।

দলটির বেশিরভাগ নেতাকর্মী মনে করেন, এই দু’জন মিলে চেয়ারপারসন খালেদাকে পুরোপুরি কব্জা করে নিয়েছেন। ফলে সব ধরনের কমিটি ঘোষণা থেকে শুরু করে চেয়ারপারসনের কাছে ফখরুলকে কোণঠাসা করে রাখা পর্যন্ত সবখানেই তাদের আধিপত্য। শিমুল চালাচ্ছেন গুলশান কার্যালয়, আর রিজভী চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ‘এক নেতার এক পদ’ নীতিমালা গত কাউন্সিলে গঠনতন্ত্রে সংযোজিত হলেও রিজভী এখনও ধরে রেখেছেন দফতর সম্পাদকের পদ। কারণ ওই পদে না থাকলে দলে তার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা যাবে না বলে ঘনিষ্ঠ নেতাদের তিনি যুক্তি দিচ্ছেন। বলছেন, পারলে চেয়ারপারসন তাকে ওই পদ থেকে বাদ দিক। তবে তিনি নিজে ছাড়বেন না। অথচ মহাসচিব হওয়ার পরের দিনই ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও কৃষক দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ফখরুল।

কিন্তু রিজভী মনে করেন, দফতর ছেড়ে দিলে দলে তার কর্তৃত্ব কমে যাবে। জানা যায়, দফতরে যেনও মহাসচিব তার নিজের পছন্দের কাউকে বসাতে না পারেন তা ঠেকানোই রিজভীর মূল উদ্দেশ্য। দফতরে সব সময়ই মহাসচিবের নিজের পছন্দের লোক বসানো হয়, এটি রাজনৈতিক দলের সাধারণ নিয়ম। কিন্তু রিজভী তা মানবেন না।

এদিকে ফখরুল যাতে লাইমলাইটে না আসতে পারেন এজন্য প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন করে যাচ্ছেন রিজভী। পাশাপাশি নিজস্ব কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সব সময়ই অফিসে দখল করে রাখছেন তিনি। এছাড়া দলেও মেরুকরণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা একান্তে বৈঠক করছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে। পাশাপাশি দলে অন্য যারা এতদিন ফখরুলবিরোধী অবস্থানে ছিলেন তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করছেন তিনি। উদ্দেশ্য হলো এখন কোণঠাসা করে রাখা, আর ভবিষ্যতে সুযোগ হলে দলের শীর্ষ ওই পদটি দখল করা। 

এফ/১৫:৩২/২৬ মে

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে