Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২৬-২০১৬

আম্মা, নীতীশ পারেন। মমতা কেন মদ নিষিদ্ধ করতে পারবেন না? জেনে নিন

পিনাকপাণি ঘোষ


আম্মা, নীতীশ পারেন। মমতা কেন মদ নিষিদ্ধ করতে পারবেন না? জেনে নিন

কলকাতা, ২৬ মে- বিহারে ক্ষমতায় এসেই মদ নিষিদ্ধ করেছেন নীতীশ কুমার। একই কথা বলছেন জয়ললিতা। আগে থেকেই নিষিদ্ধ গুজরাত-সহ আরও কয়েকটি রাজ্যে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সম্ভব কি?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রথম ইনিংসের পাঁচ বছরে সব থেকে বেশিবার কী বলেছেন? কোন কথাটি তাঁর মুখ থেকে বেশি শোনা গিয়েছে? ‘‘বাম-জমানার ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে। কেন্দ্রকে সুদ দিতে দিতে রাজ্যের কোষাগার ফাঁকা।’’

ঠিক এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার মদ নিষিদ্ধ করার কথা ভাবতেই পারে না। কল্পনা করাও কষ্টকর। কারণ, ভাঁড়ে মা ভবনী রাজ্যের কোষাগারে বড় আয় এনে দেয় মদ। সবথেকে বেশি বাংলা মদ। রাজ্যে মমতা সরকার ক্ষমতায় এসেই বুঝতে পারে, মদ থেকে আয় বাড়ে আর ‘বাংলা-মদ’ অতি লাভজনক। সূত্র বলছে, ২০১৪-২০১৫ আর্থিক বছরে রাজ্যে বাংলা মদের বিক্রি বাড়ে ২০%। বিলিতি মদ আবগারি দফতরের লক্ষ্যপূরণ করতে পারেনি।

পেরেছে বাংলা। নতুন সরকার দেখেছে, ২০১১-২০১২ আর্থিক বছর থেকেই দেশি মদ থেকে সরকারের আয় চড়চড় করে বেড়েছে। ২০১২-’১৩ আর্থিক বছরে তার আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৫৬% রাজস্ব বেড়েছে শুধুমাত্র দেশি মদের কারবারেই। অন্য দিকে, বিলিতি মদে সেই বৃদ্ধি ১০%-এরও কম। সরকারি রিপোর্টই বলছে, ২০১২-২০১৩ আর্থিক বছরে বাংলা খাওয়ার হার আগের বছরের চেয়ে ২৫% বেড়েছে। মানে নগণ্য ওই ‘দিশি’-ই দেখাচ্ছে আয়ের দিশা।

এমন যে বাজার দেয় তার মার্কেটিংও তো করতে হবে। তাই সেই কাজটা গত ৫ বছরে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে করা হয়েছে। বাংলা মদকে ব্র্যান্ড বানিয়ে তার নানা রকম জম্পেশ নাম রাখা হয়। দাদা, উড়ান, জয়, বাঘ— এই রকম সব নাম রাখা হয়েছে। এটা শুনলে তুখোড় মদ্যপায়ীরও নেশা ছুটে যাবে যে, বাংলায় এখন ‘বাংলা’র ব্র্যান্ড নেম একশোরও বেশি। সঙ্গে আকর্ষণীয় ক্যাপশন। 


বাংলা মদ নয়, পানীয় জলের বিজ্ঞাপন।

‘দাদা’। ছবিতে— ‘জোড়া-ঘুসি’। ক্যাপশন— ‘বাংলার জোশ’। নানা ব্র্যান্ডের নানা রকম। কোথাও সচিত্র বাংলার ‘বাঘ’, ক্যাপশন—‘জবরদস্ত তেজ!’ আবার, কোনও-কোনওটার নাম বিলিতির অনুকরণ— ‘বেঙ্গল’স প্রাইড’, ‘বেঙ্গল টাইগার’, ‘ব্লু লেবেল’, ‘ভ্যাট ৭০’। এছাড়াও রয়েছে, আবার লেবু-গন্ধী ‘ক্যাপ্টেন নিম্বু’, কমলা ফ্লেভারড ‘জেডি অরেঞ্জ’! বিলিতির বিজ্ঞাপনে এক কোনায় যেমন ‘মিউজিক সিডি’ কিংবা ‘প্যাকেজ্‌ড ড্রিংকিং ওয়াটার’ লেখা থাকে, বাংলুর বিজ্ঞাপনেও তেমনটাই থাকে। 

মাঝে কাচের বোতল ফেরত দিলে টাকা পাওয়া যাচ্ছিল। এখন অবশ্য সবটাই প্লাস্টিক। পিও আউর ফেকো। বাংলা মদের কৌলীন্যে যাঁদের গায়ে ফোসকা পড়ছে কিংবা নাক সিঁটকোচ্ছেন, তাঁরা এটুকু মনে রাখবেন, ‘বাংলা’ই বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাকে।

বাংলা এখন আর পাতি বাংলা নয়। সে লাভদায়ক। তাই খালাসিটোলার গণ্ডি পেরিয়ে বাংলা অভিজাতের বৈঠকখানায় না-পৌঁছলেও কুলীন হয়েছে। রাজ্যে বাম জমানায় ‘ব্র্যান্ড-বুদ্ধ’ সময়াকালেই ‘ব্র্যান্ড বাংলা’-র পত্তন। কিন্তু এখনকার মতো প্রচারের আলো পায়নি।

দিন যাচ্ছে, লাভ বাড়ছে। মার্কেটিং প্ল্যানও বদলাচ্ছে। মাঝে কাচের বোতল ফেরৎ দিলে কোনওটায় ৩ টাকা, কোনওটায় ৫ টাকা পাওয়া যেত। এখন প্লাস্টিকের বোতল করে সেটা বন্ধ হয়েছে। তবে মদ্যপায়ীদের বক্তব্য, বাংলার ঝাঁঝ অনেক কমে গিয়েছে। আগের মতো ‘ধুনকি’ আসে না। বেশি খেতে হয়। এও তো এক মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি।

রাজ্যে শিল্প সম্ভাবনার কথা অনেক শোনা গেলেও বাস্তবে কিছুই প্রায় হয়নি। অন্তত নির্ভর করার মতো অবস্থা আসেনি। তাই বড় আয় বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া। এই রাজ্যে মদ-বিরোধী আন্দোলনও সেভাবে নেই। তাই বাকিরা করছে বলে এই রাজ্যে মদ নিষিদ্ধ করার কথা ভাবার প্রশ্নই ওঠে না। আবগারি বিভাগের এক কর্তার কথায়, ‘‘রাজ্যে মদ নিষিদ্ধ হলে সরকারি কর্মীদের ঠিকমতো বেতন দেওয়া যাবে কিনা তাতেও সন্দেহ আছে।’’

আর/১২:০৪/২৬ মে

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে