Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২৫-২০১৬

মমতা সম্পর্কে কিছু তথ্য, যা আপনি হয়তো জানেন না

মমতা সম্পর্কে কিছু তথ্য, যা আপনি হয়তো জানেন না

কলকাতা, ২৫ মে- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আলাদা করে পরিচয় দেওয়া মানে অত্যুক্তি। রাজনীতিতে কুত্‍‌সা, অপপ্রচারকে হাতিয়ার করেন অনেকেই। নানা প্রতিবাদ, প্রতিরোধ থাকেই। লড়াইটাই শেষ কথা। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের ফল দেখে বলা যায়, এক এবং অনেক জন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একা। বিরুদ্ধে সব বিরোধী শক্তির মিলন। এবং

যাবতীয় আক্রমণ, ঝড় সামলে বিপুল জনাদেশ। শেষ হাসি মমতার। যাক, অনেক কুত্‍‍‌সা তো হল। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কিছু না-জানা তথ্য জেনে নেওয়া যাক। তৃণমূল নেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের সেই তথ্যগুলি রইল পাঠকদের জন্য।

১. বিরোধীরা অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিগ্রি নাকি ভুয়ো। আসল সত্যিটা হল, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমোর একটি MA ডিগ্রি রয়েছে। এছাড়াও তিনি LLB-ও।

২. নিরাপত্তারক্ষী থেকে শুরু করা আমলা-- সকলেই ক্লান্ত। হাঁপাচ্ছেন। একজনের কোনও ক্লান্তি নেই। মাইলের পর মাইল হেঁটে চলেছেন। হাসি মুখে। রাস্তার দু'পাশে বিপুল সমর্থকদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। বয়স্ক মহিলাকে জড়িয়ে ধরছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন দৃশ্যের সঙ্গে পরিচিত রাজ্য-সহ জাতকীয় রাজনীতি। এই অফুরন্ত জীবনীশক্তির চাবিকাঠি কিন্তু কড়া ডায়েট। হ্যাঁ, ডায়েট সম্পর্কে মমতা যথেষ্ট সচেতন। তেল ও মশলা জাতীয় খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলেন। মুড়ি, চা ও চকোলেট-- রোজকার ডায়েটে মাস্ট। আর প্রচুর পরিমাণে জল। তবে তেলেভাজা ছোটবেলা থেকেই তাঁর খুব প্রিয়। তাই মাঝেমধ্যে আলুর চপ এড়াতে পারেন না।

৩. স্বাস্থ্য সম্পর্কেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সদা সচেতন। এমনিতেই তিনি প্রচুর হাঁটেন। তা ছাড়াও বাড়িতে প্রতিদিন নিয়ম করে ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার ট্রেডমিলে হাঁটেন। বিধানসভা ভোটের আগে তো একদিনে টানা ১০ কিলোমিটারও হেঁটে ফেলেছেন অনায়াসে।


৪. জাতীয় রাজনীতিতে দিদির পোশাকও চর্চার বিষয়। মমতা ছাড়া ভারতের কোনও রাজনীতিবিদের পোশাক ওরকম নয়। সরু পাড়ের সুতির শাড়ি ও পায়ে সাদা হাওয়াই চটি। মমতা বন্দ্যোয়ারে শাড়ি ধনেখালির তাঁত। ওই শাড়ি ছাড়া তিনি অন্য কোনও শাড়ি কোনও দিনও পরেন না। ৫. অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনেই অভ্যস্ত তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। তাই একাধিক বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও কালীঘাটের টালির চালের একতলা বাড়িটি ছেড়ে চলে যাননি। বৃষ্টি হলে টালি নালার ধারে মমতার বাড়িতে এখনও জল ঢুকে যায়। বর্যাকালে প্রবল বৃষ্টিতে এক হাঁটু জল টপকে বাড়ি ঢুকতে হয়। যা দেখে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী অবাক গিয়েছিলেন। মমতার সাধারণ জীবনযাপনের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন বাজপেয়ী।

৬. প্রকৃতিকে বড় ভালোবাসেন মমতা। তাই বার বার চলে যান হিমালয়ে কিংবা জঙ্গলমহলে। ব্যস্ততা থেকেও সময় বার করে পাহাড়ে বা জঙ্গলে কাটিয়ে আসেন দিন কয়েক। নিজের ট্যাবে প্রকৃতির ছবিও তোলেন দেদার।

৭. প্রকৃতি ভালোবাসেন বলেই শহরকে সাজানোর নানাবিধ পরিকল্পনা নিয়ে নেন মুহূর্তে। একবার রাজারহাট বাইপাস হয়ে ফিরছিলেন মমতা। চোখে পড়ে রাজারহাটে একদিকে বিস্তীর্ণ জলাশয়। সঙ্গে সঙ্গে পুর ও নরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে নির্দেশ দেন, এই জলাশয়কে কেন্দ্র করে পার্ক তৈরি হোক। যার নির্যাস, সেন্ট্রাল পার্ক, ক্যাফে একান্তে ও একটি ট্যুরিস্ট রিসর্ট।

৮. গানও খুব প্রিয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সব ধরনের মিউজিক শোনেন তিনি। তাই ক্ষমতায় এসেই কলকাতার ট্র্যাফিক সিগনালগুলিতে চালু করে রবীন্দ্র সঙ্গীত বাজানো। কাজি নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানও ভালোবাসেন মমতা। গানের প্রতি তাঁর ভালোবাসা পেয়েছেন মায়ের কাছ থেকে। ছোটবেলায় মায়ের কাছে নানা বাংলা গান শুনতেন তিনি।

৯. ছেলেবেলার কথা মনে পড়লেই মমতার মনে পড়ে বীরভূমে মামাবাড়ির দিনগুলো। ধানখেতের আল ধরে হেঁটে যাওয়া, ধানের শিষ দিয়ে পুতুল গড়া সেই স্মৃতি তৃণমূল নেত্রীর কাছে বড় মধুর।


১০. রাজনীতিতে আসার আগে একাধিক চাকরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকেই জানেন না, স্টেনোগ্রাফার হিসেবে কিছুকাল কাজ করেছেন। অভাবের সংসার চালাতে প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রাইভেট টিউটর, এমনকি সরকারি দুগ্ধ কেন্দ্রে সেলসগার্লের কাজও করেছেন তিনি।

১১. রাজ্যের বহু প্রবীণ নেতা, যাঁরা একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাইড ছিলেন, তাঁরা এখন অনেকেই মমতার মন্ত্রিসভার সদস্য। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল, সুব্রত মুখোপাধ্যায়। বলা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই সুব্রত মুখোপাধ্যায় এখন মমতা সরকারের মন্ত্রী।

১২. রাজনীতি ছাড়া সাহিত্যচর্চাও করেন মমতা। অবসর সময়ে বই লেখেন। উপন্যাস, গল্প, কবিতা। এছাড়া তিনি ভালো আঁকেনও।

১৩. চটজলদি কবিতা লেখার প্রতিভা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দলের স্লোগান, কথা সব তত্‍‌ক্ষণাত্‍‌ বলেন। আগে থেকে ঠিক করে রাখেন না।

১৪. গ্রাম বাংলার শিল্প ও সাহিত্য মমতার খুবই প্রিয়। কাউকে উপহার দিলে, গ্রাম বাংলার হস্তশিল্পই উপহার দেন। প্রত্যন্ত গ্রামের কোনও হস্তশিল্প পছন্দ হলে চটজলদি কিনে ফেলেন।নিজে যে ব্যাগটা ব্যবহার করেন, সেটাও বাংলার হস্তশিল্প।

১৫. প্রযুক্তিতেও পিছিয়ে নেই তিনি। অত্যাধুনিক গ্যাজেট সম্পর্কে খোঁজ নেন নিয়মিত। ফেসবুক, টুইটার-সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন। ফেসবুক পেজে সব সময় আপডেট দেন।

 

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে