Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২৫-২০১৬

ভারতে আন্তঃনদী প্রকল্প বাস্তবায়ন, শঙ্কিত বাংলাদেশ

ভারতে আন্তঃনদী প্রকল্প বাস্তবায়ন, শঙ্কিত বাংলাদেশ

ঢাকা, ২৫ মে- খরা মোকাবিলায় ভারতের আন্তঃনদী প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণায় উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরাও শঙ্কিত। এটি বাস্তবায়িত হলে গঙ্গায় পানিই থাকবে না বলে মনে করছেন তারা। সরকারি মহলে অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়নি। ঢাকা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিতে দিল্লিস্থ বাংলাদেশ মিশনকে ঢাকার তরফে তাগিদ দেয়া হয়েছে। দিল্লির রিপোর্ট পাওয়ার পর সরকারের তরফে ভারত সরকারের কাছে একটি নোট ভারবাল পাঠানো হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে।

সূত্রমতে, খরা মোকাবিলায় দিল্লি যে নতুন কিছু করতে যাচ্ছে সে বিষয়ে দেশটির বিদেশ সচিব ড. এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে ইঙ্গিত হয়েছিল। কিন্তু এটি যে আন্তঃনদী প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করবে তখন তা বলা হয়নি। পররাষ্ট্র সচিব দিল্লি ফেরার পর দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রী উমা ভারতী আন্তঃনদী প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুততর করার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি নিয়ে ঢাকার তরফে আগেও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। ভারত প্রকল্পটি এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে সত্যিই উদ্যোগী হলে ফের প্রতিবাদ জানানো হবে। খরা মোকাবিলায় ভারতের নতুন এ চিন্তার বিষয়ে সম্প্রতি বিবিসি বাংলা যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তাতে বলা হয়েছে- খরা মোকাবিলায় ভারত বড় বড় নদীগুলোর পানির প্রবাহ পরিবর্তন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

ওই দুটি নদীর পানি প্রত্যাহার করে খরা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। উমা ভারতী স্পষ্টই বলেছেন, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গার মতো বড় নদীগুলোর পানিপ্রবাহ পরিবর্তন করে খরাপ্রবণ এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহ করা তার সরকারের এখন অগ্রাধিকারে রয়েছে। ভারতে খরার শিকার কমপক্ষে ৩৩ কোটি মানুষ। দেশটির বেশির ভাগ এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র দাবদাহ।

কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। এ জন্য অনেকগুলো নদীর মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। অনেকগুলোতে পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিবিসি’র রিপোর্টেই ভারতের পরিবেশবিদদের প্রকল্পটির বিরোধিতার কথা জানানো হয়েছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, এতে জীববৈচিত্র্য বিপর্যস্ত হবে। কিন্তু তাতে কী? তাদের সেই সতর্কতা এড়িয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের যে নির্দেশনা দিয়েছে তা সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। উমা ভারতী বলেন, নদীগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা আমাদের প্রধান এজেন্ডা। এক্ষেত্রে আমরা জনগণের সমর্থন পেয়েছি। দ্রুততার সঙ্গে আমরা এ কাজ করতে চাই। আমরা এখন ৫টি সংযোগ নিয়ে কাজ করছি।

প্রথমেই উত্তর প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের মধ্যে কেন-বেতওয়া সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। এ কাজ এখন যেকোন সময় শুরু করা হবে। এর পরে আমরা ডামনাগঙ্গা-পিনজাল সংযোগ নিয়ে কাজ করবো। এতে মুম্বইয়ের পানীর সংকট সমাধা করবে। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা অর্জনের পর এটাই হবে প্রথম আন্তঃনদী সংযোগ।

তিনি বলেন, এ ছাড়াও আরো প্রকল্প আছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিকাজে সেচের পানি সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে পানীয়জল সরবরাহ করা হবে। এমনটা ঘটবে কয়েক বছরের মধ্যে। ভারতের পানি-সম্পদ মন্ত্রীর ওই ঘোষণার বিরোধিতা করেছেন দেশটির সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক ফর ড্যামস, রিভারস অ্যান্ড পিপল-এর হিমাংশু থাক্কার। তার মতে, এটি অসম্ভব কাজ। শুধু পানির প্রবাহ পরিবর্তন করতে এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। সেখানে বিজ্ঞানসম্মত কোনো গবেষণা করা হয়নি।

বাংলাদেশের বিশিষ্ট পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত এ বিষয়ে বলেন, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। তার মতে, দু’দেশের মধ্যে এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কাজেই সরকারকে রাজনৈতিকভাবেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

যৌথ নদী কমিশনের কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত গঙ্গা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি সরিয়ে নিলে বাংলাদেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের কবলে পড়বে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কথা বারবার ভারতকে জানিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতের এ পরিকল্পনার বিষয়ে পানি-সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক গণমাধ্যমকে বলেন, ভারতের পানি-সম্পদমন্ত্রী উমা ভারতীর বক্তব্য আমাদের উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ বন্ধুপ্রতিম ওই রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এর সন্তোষজনক সমাধান চায় জানিয়ে তিনি বলেন, ভারত প্রকৃত অর্থে কী করছে, আমরা তার টেকনিক্যাল দিকগুলো জানতে চাইবো। আমরা তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইবো- কেন তারা এমন প্রকল্প করতে চাচ্ছে। ভাটির দেশ বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা বাধাপ্রাপ্ত হয় এমন কিছু ভারত করবে না বলে রাজনৈতিক পর্যায়ে যে অঙ্গীকার রয়েছে তা স্মরণ করে দবি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। দু’দেশের স্বার্থেই ভারতকে এসব নদী বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতেই ভারতকে তার আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প থেকে সরে আসতে হবে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প নিয়ে ভারতের পরিবেশবাদীরাও সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের জন্যও এই প্রকল্প উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার কারণ।

তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এর নিষ্পত্তি না হলে বাংলাদেশ প্রয়োজনে বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলবে। ভারতের বিদেশ সচিব ড, এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে যে বিষয়টি আলোচনা হয়েছে তার আভাস পাওয়া যায় পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের কথায়।

ওই বৈঠক শেষে সচিব বলেন, ‘আপনারা জানেন পুরো দক্ষিণ এশিয়াই খরায় আক্রান্ত। ভারতে একটু বেশি, বাংলাদেশে কম। এটি মোকাবিলায় কিভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো যায় তা নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।’

খরা মোকাবিলায় দুই সচিবের সেদিনের আলোচনার বিষয়ে সামপ্রতিক এক কর্মকর্তা বলেন, ভারতের তরফে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে তোলা হয়েছিল। এ নিয়ে তারা যে নতুন কিছু ভাবছে তা সেদিন স্পষ্ট হয়নি। পরবর্তীতে দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রীর ঘোষণায় তা স্পষ্ট হয়েছে জানিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, গঙ্গা নিয়েও নতুন করে আলোচনা চাইছে দিল্লি।

ঢাকার তরফে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়নি জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা এ নিয়ে বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় আছি। দিল্লিস্থ বাংলাদেশ মিশনে এ নিয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

-সূত্র: মানবজমিন।

এফ/০৯:৩৫/২৫মে

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে