Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২৪-২০১৬

মমতারই উপরে মানুষের অগাধ বিশ্বাস

মমতারই উপরে মানুষের অগাধ বিশ্বাস

কলকাতা, ২৪ মে- একযোগে হাজার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াই করে দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ হ্যাঁ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই৷ তৃণমূল কংগ্রেস বলছি না৷ কারণ, সাধারণ মানুষ মমতাকেই ভোট দিয়েছেন৷ কোথায় কে প্রার্থী, তা বিবেচ্য ছিল না৷ সব জায়গাতেই প্রার্থী মমতা৷ মমতা নিজেও তা-ই বলেছেন৷ ২৯৪টি আসনই লড়ছি আমি৷ আমাকেই ভোট দিন৷ তৃণমূল কংগ্রেস বলছি না, তারও কারণ, মমতার পিছনে যে দলের পতাকাই থাকত, সেই পতাকারই জয় হত৷ আবারও বলছি, মানুষ ভোট দিয়েছেন মমতাকেই৷ ২০১১ সালেও তাঁরা মমতাকেই ভোট দিয়েছিলেন৷ সঙ্গে কংগ্রেস ছিল৷ ছিল বটে, তবে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের জাহাজের সঙ্গে গাদাবোটের মতো৷ কারণ তা যদি না হত, তাহলে কংগ্রেসকে বিচ্ছিন্ন করেও মমতার এই বিপুল জয় আসত না৷

২৭ মে দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রেড রোডে, আমজনতার মধ্যে৷ গতবার রাজভবনে শপথ নিয়ে জনতার সঙ্গে হেঁটে পায়ে পায়ে মহাকরণে পৌঁছেছিলেন৷ এবারও হয়তো তারই পুনরাভিনয় হবে৷ তবে রেড রোড থেকে৷ নিন্দুকেরা হাজার নিন্দেমন্দ করলেও ভোটের আগে জেলায় জেলায় ঘুরে দেখেছি, উন্নয়নের কী ব্যাপক কর্মকাণ্ড চলেছে৷ একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে শহর এবং শহরতলিগুলিতে৷ নিজেদের ৩৪ বছরেও বামফ্রন্ট সরকার যা করে উঠতে পারেনি, মমতা তা-ই করেছেন পাঁচ বছরে৷ তারই ডিভিডেন্ড পেয়েছেন তিনি৷ যাঁরা কণ্ঠস্বর উচ্চগ্রামে তুলে নিয়মিত তাঁকে কোতল করেছেন, তাঁরাও ভাবেননি অথবা ভাবতে চাননি সাধারণ মানুষ এই কর্মকাণ্ডের জন্যই মমতাকে আবার ক্ষমতায় নিয়ে আসবেন৷ বিদ্বজ্জনেরা বিভিন্ন টেলিভিশনের চ্যানেলে বসে বাছা বাছা শব্দ প্রয়োগ করে এমনভাবে মমতার বিরুদ্ধাচরণ করেছিলেন, আপাতভাবে অনেকেরই মনে হয়েছিল তার ব্যাপক প্রভাব পড়বে৷ পড়েনি৷ কারণ, আমজনতা বিদ্বজ্জনেদের কপচানো বুলিতে বিশ্বাস করেননি৷ তাঁরা পেয়েছেন, বিনিময়ে উজাড় করে দিয়েছেন৷ অনেকেই বলেছেন, মমতা উন্নয়নের নামে যা করেছেন তা আসলে লোকদেখানো৷ আর দানখয়রাতি করে ভোট কিনেছেন৷ কাজগুলো লোকদেখানো, না প্রয়োজনীয়, তা বুঝেছেন সাধারণ মানুষ৷ তাঁরা মমতাকে ভোট দিয়েছেন, যাতে এই জাতীয় কাজকর্ম বন্ধ না হয়ে যায়৷ অনেকে বলেছেন, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, পড়ুয়াদের জন্য সাইকেল, জামা-জুতো, এইসব করে রাজ্যের ভাঁড়ার শূন্য করে দিয়েছেন৷ দেনার দায় চাপছে ঘাড়ে৷ বলছেন বটে, ভাবছেন না– বামফ্রন্ট সরকারও তো ২ লক্ষ কোটি টাকা দেনা রেখে গিয়েছে৷ কিন্তু এমন কাজ তো কিছু করেনি!

তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মমতার কথাই শেষ কথা৷ অনেকেই বলেছিলেন, বিপুল এই জয়ের পর তাণ্ডবনৃত্য করবে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা৷ ফল বেরনোর দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাশ টেনে ধরেছেন৷ বলেছেন, বিজয় উদযাপন যেন কারও কাছে অত্যাচার না মনে হয়৷ সাংস্কৃতিক নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়েই আমাদের বিজয় উদযাপন হবে৷ হয়েছেও তা-ই৷ আলোয় সেজেছে এলাকা৷ মাইকে বেজেছে রবীন্দ্রসঙ্গীত৷ এমনটাই দেখা গিয়েছে বেশিরভাগ জায়গাতেই৷

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জানেন৷ তবু দ্বিতীয় দফায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে কতগুলি বিষয়ে যাতে তিনি বিশেষ নজর দেন, সেজন্য উল্লেখ করার প্রয়োজন অনুভব করছি৷

জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর আমলে প্রতি পাড়ায় একজন করে তাঁদের মিনি সংস্করণ জন্ম নিয়েছিল৷ পরের দিকে তা আরও বেড়ে যায়৷ তাদের হুকুমদারিতেই এলাকা চলত৷ স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া থেকে কাকে কত তোলা দিতে হবে, তারাই তার বিধান দিত৷ তৃণমূল কংগ্রেসের আমলেও তারা ছিল৷ তা কেন, আছেও৷ তবে তারা কেউ মমতার ক্ষুদ্র সংস্করণ নয়৷ একহাতে মমতার ছবি এবং অন্যহাতে তৃণমূল পতাকা নিয়ে এমন কাজ করার লোকও কিন্তু কম নেই৷ এবং, তাদের অনেকেই লাল আমলে একই ভূমিকায় অভিনয় করে গিয়েছে৷ সিপিএমের আমলে তা নিয়ন্ত্রিত ছিল৷ প্রণামী একটা নির্দিষ্ট জায়গায় দিতে হত৷ এখন সেই প্রণামী দফায় দফায় দিতে হয়৷ কখনও রক্তদান অনুষ্ঠানের নামে, কখনও সাংস্কৃতিক মেলা উদযাপনে৷ এসব নিয়ে সাধারণ মানুষ খুব একটা ভাবিত নন৷ তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার বহর বরং কমে গিয়েছে৷ ক্ষুব্ধ তাঁরাই, যাঁদের কিছু না কিছু করতে হয়৷ কারণ, কিছু করতে গেলেই দিতে হয়৷ দফতর থেকে মাল খালাস করাতেও দস্তুরী ছাড়তে হয়৷ l

সাধারণ মানুষের অনেকেরই ধারণা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসব জানতে পারেন না৷ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাঁকে জানানো হয় না৷ মমতা যাঁকে বিশ্বাস করেন তাঁর উপর পুরোপুরি নির্ভর করেন৷ তাঁর কাছে সব খবর ঠিকমতো, ঠিক ঠিকভাবে পৌঁছায় না৷ জানতে পারলে এবং একবার হুংকার দিলেই এসব বন্ধ হয়ে যাবে৷ মমতার প্রতি তাঁদের সেই বিশ্বাস রয়েছে৷ কারণ, তাঁরা দেখেছেন, কোথাও কোনও অন্যায়-অবিচার দেখলে রাস্তায় গাড়ি থামিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে ছুটে যান৷ হাসপাতালে বা ওষুধের দোকানে হঠাৎ হঠাৎ ঢুকে পড়েন৷ তাই৷

মমতার এই রকম কিছু ঝটিতি উদ্যোগে কিছুটা সংযত হলেও সরকারি স্তরেও যে দুর্নীতি বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তা নয়৷ অনেক দফতরের কথাই উল্লেখ করা যায়৷ তা না করে শুধুমাত্র পুলিশের কথাই বলা যাক৷ পুলিশের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যথেষ্ট ভাবেন, করেনও৷ ফলে পুলিশের কোনও অভাব থাকার কথা নয়৷ নানা প্রকারে পুলিশ অনৈতিকভাবে টাকা কামায়, যে টাকার পুরোটাই রাজকোষে আসার কথা৷ একটা দৃশ্যের কথা তুলে ধরি৷ ইদানীং দেখা যাচ্ছে, কলকাতায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে বেআইনিভাবে চালানোর জন্য কিংবা হেলমেট না পরার জন্য বাইক আরোহীদের পাকড়াও করছে৷ বাণিজ্যিক যানবাহনকেও একইভাবে ধরা হচ্ছে৷ টাকাও আদায় হচ্ছে৷ কিন্তু সে টাকার বেশিরভাগটাই রাজকোষে যাচ্ছে না৷ একটা ঘটনার কথা বলি৷ সময় এবং জায়গার উল্লেখ করছি না৷ তাতে নির্দিষ্ট কেউ দোষী সাব্যস্ত হতে পারে৷ কিন্তু এ দোষ তো তাঁর একার নয়৷ সর্বত্রই এমন চলছে৷ কলকাতার জনবহুল এক রাস্তার মোড়ে দিন কয়েক আগে দাঁড়িয়েছিলাম৷ দেখলাম, তরুণ উজ্জ্বল পুলিশ অফিসাররা ধরে ধরে ফাইন করছেন৷ কিছু গাড়িকে তাঁরা সরকারি রসিদ দিচ্ছেন, বেশিরভাগের কাছেই তাঁদের হয়ে রফা করে নিচ্ছেন আর এক তরুণ, যাঁর বাইকেও ‘পুলিশ’ লেখা৷ গৌরব বা সৌরভ এমন একটা নামও লেখা রয়েছে বাইকে৷ এমন ঘটনা এত বেশি যে, তার খোঁজখবর রাখা কোনও মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষেই সম্ভব নয়৷ তবু মানুষের আশা, মমতা সব জানবেন এবং ব্যবস্থা নেবেন৷

সত্যিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একা যেভাবে ছুটে-দৌড়ে কাজকর্ম করেন, কোনও মুখ্যমন্ত্রীকেই সেভাবে কাজ করতে দেখেননি সাধারণ মানুষ৷ তাই তাঁদের ধারণা, মমতা ঈশ্বরীশক্তি৷ তিনিই পারেন এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে৷ তাঁদের আশা, মমতাই পারেন দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়তে৷ গড়বেন৷

এফ/১৮:২২/২৪মে

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে