Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২৪-২০১৬

জমিদারি মানসিকতা সিপিএম, জোট, বিশ্বাসযোগ্যতা

জমিদারি মানসিকতা সিপিএম, জোট, বিশ্বাসযোগ্যতা

কলকাতা, ২৪ মে- ফ্রন্টের ছাতার তলায় তবু ছোট শরিকদের নামগুলি টিকে আছে। ফ্রন্ট ছাড়লে তারা অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও ধরা পড়বে না। সময় বদলেছে। বাম শরিকেরা এখন অণু থেকে অণুতর হয়েছে। কোনও কোনও দলের প্রাপ্ত ভোট ‘নোটা’র চেয়েও কম। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেও ভোটক্ষয় আটকানো যায়নি।

তাঁরা দাদা। তাঁরা যা বলবেন, শরিকদের তাই মানতে হবে। একসময় সিপিএম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ ছিল বামফ্রন্টের শরিক নেতাদের। একান্নবর্তী ফ্রন্টে কোনও ভাইয়ের ক্ষমতা বেশি, কারও ক্ষমতা কম। হাতের পাঁচ আঙুল সমান হয় না। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে ফ্রন্ট ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারেনি শরিক দলগুলি। কারণ স্পষ্ট— অস্তিত্বসংকট। ফ্রন্টের ছাতার তলায় তবু ছোট শরিকদের নামগুলি টিকে আছে। ফ্রন্ট ছাড়লে তারা অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও ধরা পড়বে না। সময় বদলেছে। বাম শরিকেরা এখন অণু থেকে অণুতর হয়েছে। কোনও কোনও দলের প্রাপ্ত ভোট ‘নোটা’র চেয়েও কম। ‘নোটা’র সঙ্গে তুলনীয় না-হলেও এক সময়ের অবস্থাপন্ন দাদার চেহারাও করুণ হয়েছে। বাংলায় অস্তিত্বসংকটে ভুগছে সিপিএম। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেও ভোটক্ষয় আটকানো যায়নি।

প্রশ্ন উঠছেই যে, বিধানসভা ভোটে ব্যাপক বিপর্যয়ের পর কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের জোট আদৌ টিকবে কি না। সর্বস্তরের সিদ্ধান্ত জানা না-গেলেও মনে করা হচ্ছে, আগামী লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত জোট টিকে যাবে। সিপিএমের রাজ্যসম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকও সে ইঙ্গিত দিয়েছে। কংগ্রেসেরও এই মুহূর্তে জোট ছাড়ার কারণ নেই। বাম-সমঝোতা তাদের ‘সাইনবোর্ড’ থেকে ‘হোর্ডিং’য়ের ব্যাপ্তি দিয়েছে। দুর্যোগের আবহে মোটের উপর তাদের ফলাফল মন্দ নয়। এবং জোট টিকে গেলে তারাই হবে বড় শরিক। দাদা। সিপিএমের পক্ষে বিষয়টা খানিক অপমানের। কিন্তু উপায় নেই। একসময় যে কারণে ছোট শরিকেরা বামফ্রন্ট ছাড়তে পারত না, সিপিএমের এখন সেই অবস্থা। অস্তিত্বরক্ষার জন্য তাদের অপেক্ষাকৃত সবল বৃক্ষের প্রয়োজন। যাকে জড়িয়ে ধরে শিখরের দিকে অগ্রসর হওয়া যায়। আপাতত কংগ্রেস ছাড়া পরাশ্রয়ী সিপিএমের সামনে অার কোনও বৃক্ষ নেই। কংগ্রেস এবং সিপিএমের পারস্পরিক প্রয়োজনের এই যুক্তি আগেও আলোচিত হয়েছে। সিপিএমের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, দলের সর্বোচ্চ স্তর থেকে সর্বনিম্ন স্তর পর্যন্ত জোট বিষয়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, ভাবনার মধ্যে ভাবনা ছিল। সে ভাবনায় নিশ্চয়ই ইতি এবং নেতি— সব দিকই ছিল। একটা নির্বাচনের পরাজয় নিশ্চয়ই সেই ভাবনা, সেই চর্চাকে লহমায় অগ্রাহ্য করতে পারে না ! বরং প্রয়োজন আত্মানুসন্ধান। যে জোটের কথা সিপিএম নেতারা বলেছিলেন, সেটা তাঁরা কার্যক্ষেত্রে সফলভাবে পরিচালনা করতে পেরেছেন তো !

জরুরি কথা। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরেই কোনও কোনও সিপিএম নেতা কাঠগড়ায় তুলতে শুরু করেছেন কংগ্রেস এবং জোটপন্থী নেতাদের। দিল্লির সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিশ্চয়ই আরও বেশি মেরুকৃত হবে। ভাবটা এমন, যেন জোট না-হলে সিপিএম ২৯৪টি আসনই জিতে নিতে পারত এবং কংগ্রেসই যত নষ্টের গোড়া। এ-ও এক ধরনের মানসিকতা। জমিদারি প্রবণতা। দীর্ঘদিন সিপিএম যা উপভোগ করেছে। অবস্থা বদলালেও নেতারা সকলে তা উপলব্ধি করতে পারছেন না। তাই আত্মসমীক্ষা না-করে শরিকের ঘাড়ে দায়িত্ব চাপাচ্ছেন। মনে রাখলে ভাল, নেতারাই যদি জোটের দায়িত্ব না-বোঝেন,সাধারণ মানুষের কাছে সেই জোটকে কখনওই বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা যায় না।

এফ/১০:২৫/২৪মে

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে