Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২৪-২০১৬

দেশের প্রথম বর্ধমানেই ঝুলবে ভারতীয় রেল

দেশের প্রথম বর্ধমানেই ঝুলবে ভারতীয় রেল

কলকাতা, ২৪ মে- ভারতীয় রেলের ইতিহাসে প্রথম দীর্ঘ ১৮৮.৪৩ মিটার কোনও রেল লাইনের ওপর ঝুলন্ত ব্রিজ। আর আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই ভারতবর্ষের সেই ইতিহাসকে খুলে দেওয়া হতে চলেছে বর্ধমান শহরে। দীর্ঘ টালবাহানা, দীর্ঘ দাবিদাওয়ার পর অবশেষে বর্ধমান শহরে নতুন ফোর লেন কাটোয়া ওভারব্রিজের শেষাংশ বা এ্যপ্রোচ রোডের কাজ শুরু হতে চলেছে। আর আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই শেষ হলে তা জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। আজ সোমবার রেল এবং বর্ধমান জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতিতে হাই প্রোফাইল বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে হাজির ছিলেন যেমন ব্রিজ নির্মাণকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা, তেমনি হাজির ছিলেন রেলের পদস্থ কর্তা, জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার প্রমুখরাও।

জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন জানিয়েছেন, রেল ব্রিজের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরপর ব্রিজের দুপাশে এ্যাপ্রোচ রোড তৈরির কাজ শুরু হতে চলেছে আগামী ২৯ মে থেকে। তারা আশা করছেন, আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই এই সংযুক্তিকরণ রাস্তার কাজ শেষ হয়ে যাবে। আর তারপরেই তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। জেলাশাসক আরও জানিয়েছেন, এই ধরণের জটিল ব্রিজ গোটা ভারতবর্ষের মধ্যেই নজিরবিহীন। শুধু তাই নয়, বর্ধমান কাটোয়া এই ওভারব্রিজ চালু হয়ে গেলে বর্ধমান সহ পার্শ্ববর্তী জেলার আর্থ সামাজিক পরিকাঠামোই অনেকটা উন্নতি হবে।  এদিন এই ব্রিজ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত প্রতিনিধি সহ বর্ধমান পুরসভার পুরপতি ডা. স্বরূপ দত্ত, অন্যান্য কাউন্সিলররাও হাজির ছিলেন। জেলাশাসক জানিয়েছেন, মূল ব্রিজ তৈরির জন্য অর্থ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এ্যাপ্রোচ রাস্তা তৈরির জন্য অর্থ দেবে রাজ্য সরকার।

অন্যদিকে, রেল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয় করে এই ঝুলন্ত ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। ভারতবর্ষ তথা ভারতীয় রেলের ইতিহাসে রেল লাইনের ওপর দিয়ে এই ধরণের দীর্ঘতম ঝুলন্ত ব্রিজ এই প্রথম। মুম্বইয়ের বান্দ্রা ওরলি সি লিঙ্কে এই ধরণের একটি ঝুলন্ত ব্রিজ থাকলেও তা বর্ধমানের ব্রিজের তুলনায় অনেকটাই ছোট। কেবল স্টেট ব্রিজ বিভাগের অধীনে এই ব্রিজ নির্মাণ করছে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড। রেল লাইন থেকে সেতুর উচ্চতা প্রায় সাড়ে ছয় মিটার। ব্রিজের দুপাশে দুটি পিলার থেকে ব্রিজটিকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে অনেকটাই হাওড়া ব্রিজের মতই।

জানা গিয়েছে, কনসালটেন্সি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেসকে দিয়ে এই সেতুর নকশা তৈরি করানো হয়। তা আই আই টি (রুরকি)র সাহায্যে যাচাই করা হয়। সেতুটি নির্মাণে দুবছরের সময়সীমা দেওয়া ছিল। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ্যাপ্রোচ রোড তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দোকান ও বসতিকে উচ্ছেদ করা নিয়ে প্রথম দিকে কিছুটা সমস্যা থাকলেও পরবর্তীকালে তা মিটে যায়। আর এরপরেই আগামী ২৯ মে থেকে এ্যাপ্রোচ রোড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হল।

জেলা পুলিশ সুপার গৌরব শর্মা জানিয়েছেন, এ্যাপ্রোচ রোড তৈরির ক্ষেত্রে পুলিশ সবরকমের সহায়তা করবে। বিশেষত, যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বর্ধমান কাটোয়া পুরনো রেল ওভারব্রীজটি ক্রমশই ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ক্রমশই এর ওপর চাপও বাড়ছিল। ইতিমধ্যে কয়েকদফায় দুর্ঘটনাও ঘটেছে। ফলে নতুন করে একটি ব্রিজ তৈরির প্রাসঙ্গিকতা জোর পায়। বিগত কয়েক দশক ধরেই সেই দাবিতে নানাসময় আন্দোলন, স্মারকলিপি দেওয়াও হয়েছে। বাম আমলেও এই ব্রিজ তৈরি নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকার সময়ই এই ব্রিজের কার্যত অনুমোদন পায়। তারপর রাজনৈতিক রেষারেষির জেরে কার্যত উদ্যোগে ভাঁটা পড়ে। বিশেষ করে রেল ব্রিজ নির্মাণের দায়িত্ব নিলেও এ্যাপ্রোচ রোড তৈরির অর্থ কে দেবে তা নিয়েও চলে চাপান উতোর। অবশেষে সমস্ত জল্পনা কল্পনা কাটিয়ে ভারতবর্ষ তথা ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এবং একইসঙ্গে বর্ধমানের ইতিহাসেও নতুন পালক যোগ হতে চলেছে।

এফ/০৯:২৫/২৪মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে