Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-২৩-২০১৬

হিমু হত্যা, বিচারের আশায় চার বছর পর

হিমু হত্যা, বিচারের আশায় চার বছর পর

চট্টগ্রাম, ২৩ মে- হিমাদ্রি মজুমদার হিমুকে কুকুল লেলিয়ে দিয়ে নির্মমভাবে হত্যার চার বছর পরও বিচার পায়নি তার পরিবার।  বিচারের আশায় আদালতে ধর্ণা দিতে দিতে কার্যত এখন হতাশ হয়ে পড়েছেন তার বাবা প্রবীর মজুমদার ও মা গোপা মজুমদার।  

হিমু হত্যা মামলাটি বর্তমানে বিচার শেষের পথে অনেকদূর এগিয়েছে।  রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।  তবে যুক্তিতর্কের পর্যায়ে এসে গত প্রায় ছয় মাস ধরে মামলাটি স্থবির হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট অনুপম চক্রবর্তী।

পিপি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে মামলাটি দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়েছে।  আদালতের বিষয়, সবকিছু খুলে বলাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়।  তবে আমরা রাষ্ট্রপক্ষে বারবার আদালতের কাছে মামলার বিচারে সময়ক্ষেপণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছি।  কিন্তু বিচার আর এগুচ্ছেনা। ’

প্রবীর মজুমদারের অভিযোগ, হিমু হত্যা মামলার আসামিদের পরিবার ধনাঢ্য এবং প্রভাবশালী হওয়ায় বিচারে অযৌক্তিকভাবে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

‘মনে হচ্ছে, আমরা যাতে বিচার না পাই সেজন্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।  দেশের ইতিহাসে এত নির্মমভাবে কুকুর লেলিয়ে দিয়ে কাউকে হত্যা করার মতো ঘটনা অতীতে ঘটেছে কিনা আমার জানা নেই।  এই নির্মম ঘটনার বিচার যদি না হয় তাহলে তো দেশ খুনীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। ’ বলেন হিমুর বাবা।

এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ‘ফরহাদ ম্যানশন’ নামের ১০১ নম্বর বাড়ির চারতলায় হিমুকে হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দিয়ে নিমর্মভাবে নির্যাতন করে সেখান থেকে ফেলে দেয় অভিজাত পরিবারের কয়েকজন বখাটে যুবক।  গুরুতর আহত হিমু ২৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২৩ মে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান।  হিমু পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ইংরেজি মাধ্যমের সামারফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘এ’ লেভেলের শিক্ষার্থী ছিল।

এ ঘটনায় হিমুর মামা প্রকাশ দাশ অসিত বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় পাঁচজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।  আসামিরা হলেন, ব্যবসায়ী শাহ সেলিম টিপু, তার ছেলে জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদ এবং রিয়াদের তিন বন্ধু শাহাদাৎ হোসাইন সাজু, মাহাবুব আলী খান ড্যানি এবং জাহিদুল ইসলাম শাওন।

পিপি অ্যাডভোকেট অনুপম চক্রবর্তী জানান, মামলা দায়েরের পর টিপু, রিয়াদ ও সাজু কারাগারে গিয়েছিল।  পরে ড্যানিও গ্রেফতার হয়েছিল।  কিন্তু এখন ড্যানি ছাড়া কেউ কারাগারে নেই।  বাকি তিনজন জামিনে আছেন।  শাওন শুরু থেকেই পলাতকে আছে।

২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ওই মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজন আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।  ১৮ অক্টোবর পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।  

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ‍শুরু হয়েছে।  কার্যত এরপর গত আট মাস ধরে মামলাটির আর কোন অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন পিপি।

প্রবীর মজুমদার বলেন, ‘আসামিরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলেও তারা খুনি।  খুনির কোন রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারেনা।  কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাষ্ট্রের আইন প্রভাবশালীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।  আর এ কারণে আমরা বিচার পাচ্ছিনা। ’

‘আমরা হতাশ, খুবই হতাশ।  সন্তান হত্যার বিচার না পেলে এই দেশে থেকে আর কি করব ? এই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় দেখছিনা। ’ বলেন প্রবীর মজুমদার।

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে