Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-২৩-২০১৬

২৩ মে কে ‘নৌ-নিরাপত্তা দিবস’ ঘোষণার দাবি

২৩ মে কে ‘নৌ-নিরাপত্তা দিবস’ ঘোষণার দাবি

ঢাকা, ২৩ মে- ‘নদী এবং নদীতে প্রাণ বাঁচাতে ঐক্য’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ২৩ মে কে জাতীয় নৌ-নিরাপত্তার ঘোষণার দাবি জানিয়েছে নৌ-নিরাপত্তা সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর’। তারা বলেছেন, সারা দেশে অভ্যন্তরীণ ৬ হাজার কিলোমিটার নৌ-পথের ৭৪টি রুটের ছোট বড় ২০ হাজার নৌযান চলাচল করে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি লঞ্চের রেজিস্ট্রেশন নেই। যাও আছে তার মধ্যে নৌযানের ফিটনেস নেই। 

নিয়ম অনুযায়ী নৌযান তৈরির নকশা অনুমোদন করে সমুদ্র পরিবহণ থেকে রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদপত্র নিতে হয়। নৌ স্থপতিদের নৌযান নকশা নির্মাণের কথা থাকলেও এ কাজ করছেন অদক্ষ ড্রাফটসম্যানরা। ফলে নৌ-দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সোমবার (২৩ মে) দুপুরে ‘নোঙর’ আয়োজিত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ‘সন্ধানী’ জাহাজে মেঘনা নদীতে ভাসমান এক সেমিনারে এ দাবি ও তথ্য তুলে ধরা হয়। সেমিনানে সংগঠনের চেয়ারম্যান সুমন শামসের উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে গত ১৯৪৭ সাল থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ২ হাজার ৫৪৫টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৮ হাজার ২৬২ জন প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫২৭টি নৌযান নিমজ্জিত হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ৯৯৯টি। এর মধ্যে এখনো ৫২৯টি নৌযান উদ্ধার করা হয়নি। সবমিলে সম্পদহানি হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা।

এসব  দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সুমন শামস জানান, এসব দুর্ঘটনার প্রায় ৪০ ভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে চালকের দোষে, ২০ ভাগ মালিকের অতি লোভের কারণে, ২০ ভাগ খারাপ আবহাওয়া (ঘূর্ণিঝড়), ১০ ভাগ ড্রয়িং ডিজাইনের ক্রুটি, ৫ ভাগ নৌপথের নব্যতার অভাব, ৩ ভাগ পাইলটের ক্রুটি এবং ২ ভাগ মার্কিংয়ের অভাবে। এছাড়া, ২০১৪ সালের মোট দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪৬টি। এর মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে ৯৩টি, উদ্ধার হয়েছে ৭০টি, ডাকাতি হয়েছে ৩৭টি, প্রাণহানি হয়েছে ২৩৮ জনের এবং আহত ও নিখোঁজ হয়েছে ৪২৮ জন। সম্পদহানি হয়েছে ২২৫ কোটি টাকা।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নানামুখী পরিকল্পনার কারণে অনেক কাজই সহজ হয়েছে। গত ৬ মাস আগে বুড়িগঙ্গা নদীর দুই তীরে অসংখ্য স্থাপনা ছিল। যা গত ২ মাস আগে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সদরঘাটে একটি টার্মিনাল ভবনের কাজ চলছে। আসন্ন রমজান ঈদের আগেই টার্মিনাল ভবনের কাজ শেষ করা হবে।’ 

মোজাম্মেলন হক বলেন, ‘প্রতিটি নৌযান যাতে ফিট থাকে সে দিকে মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানাই। যারা জাহাজ পরিচালনা করেন তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’

বুড়িগঙ্গা নদী দূষণ সম্পর্কে মোজাম্মেলন হক বলেন, ‘ট্যানারি শিল্প সরে গেলেই বুড়িগঙ্গার ৩০ ভাগ দূষণ কমে যাবে। রাতে নৌযান সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য সিগন্যালিং ব্যবস্থা হাতে নেয়া হয়েছে। বয়া বাতি লাগনোরও পরিকল্পনা নয়া হয়েছে। যা দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ঈ মামুন বলেন, ‘বুড়িগঙ্গার দুই তীরই এখন দখল। কে দখল করছেন, সরকার তা জানেন।  সরকার নদীর তীর দখল উচ্ছেদ করছেন, আর পরের দিনই ক্ষমতাশালীরা দখল করছেন। সরকারের ভিতর যেন সরকারি কোনো কর্মকর্তা জড়িত না থাকেন। সরকারের নীতি নির্ধারণীর সঙ্গে যেসব রাজনীতিবিদ জড়িত তাদের একটি কমিটমেন্ট থাকতে হবে।’

এ সময় নারায়ণগঞ্জ বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মো. আরিফ হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ কাউসার, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহন সংস্থার সহ-সভাপতি বদিউজ জামান বাদলসহ বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসির সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ১০টায় সদরঘাট নৌ-টার্মিনাল থেকে সন্ধানী জাহাজটি ছাড়া হয়। এর পর পরই সেমিনার শুরু হয়। মেঘনার ব্রিজের কাছ থেকে পুনরায় সদরঘাটে ফিরে আসা হয়। ভাসমান অবস্থায় পুরো সেমিনারটি চলে।

সেমিনানের শেষে সুমন শামস বলেন, ‘৬৪টি জেলার ৪৭টি জেলাই কোনো না কোনোভাবে নৌ-যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত। নৌ-দুর্ঘটনা রোধে সরকার বা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনেক দায়িত্ব আছে।’ 

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খান গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে নৌ-দুর্ঘটনা রোধে যে ১০টি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, তা বাস্তবায়ন হলে নৌ-দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি।

এফ/১৬:০৬/২৩মে

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে