Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-২২-২০১৬

মন্ত্রীকে পাত্তাই দিলো না ব্যবসায়ীরা!

মন্ত্রীকে পাত্তাই দিলো না ব্যবসায়ীরা!

ঢাকা, ২২ মে- রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে চামড়া শিল্পনগরী সাভার হেমায়েতপুরের হরিণধরায় স্থানান্তরের জন্য সরকারের কয়েক দফা সময়সীমা ও মন্ত্রীর আলটিমেটামের মধ্যেও তার বাস্তবায়ন এখনো অনিশ্চিত। সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ আলটিমেটাম শেষে ১ এপ্রিল থেকে হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশে বাধা দেয়া হয়।

কিন্তু মন্ত্রীর আলটিমেটামের ৩ মাস পাড় হলেও হাজারীবাগ থেকে এখনো চামড়া শিল্প স্থান্তর করা সম্ভব হয়নি। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে চামড়াশিল্পের অর্ধেক প্রতিষ্ঠানও সাভারে স্থানান্তর হয়নি। ফলে লালবাগ-হাজারীবাগ এলাকার লাখ লাখ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। আর উদ্যোক্তারা ভাসছেন হতাশার মহাসমুদ্রে। আবার অনেক উদ্যোক্তা এ ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে সাভারের হেমায়েতপুরে ২০০ একর জায়গায় পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরীতে বরাদ্দকৃত ১৫৫ শিল্প ইউনিটের প্রথম তলার ছাদ ঢালাই করেছে মাত্র ৭০ কারখানা। আর মাত্র ২৪ টি কারখানা দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। বেজ ঢালাই শেষ করে গ্রেটবিম ও কলাম ঢালাই করেছে ৩৫ কারখানা। আর মাত্র চারটি কারখানা উৎপাদনে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৩ সালের শুরুর দিকে গ্রহণ করা হয় তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি। এরপর কেটে যায় পুরো এক যুগ। এর মধ্যে প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে সাত সাতবার। আর বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচগুণ। অথচ এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না ঠিক কবে নাগাদ সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরায় রাজধানীর হাজারীবাগের চামড়া শিল্প স্থানান্তর সম্ভব হবে।

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তরের জন্য ২০০৩-২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের জন্য মালিকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ধরা হয় ২৫০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে ৬৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যয় ধরা হয় ১৮৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ ছাড়া বাকি ৬৬২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা সরকারি খাত থেকে এবং বাকি ১৬৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেয়া হবে। তবে ঋণের অর্থ ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে আদায় করার কথা।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া  বলেন, আমরা কাঁচাচামড়া হাজারীবাগে ঢুকতে দিচ্ছি না, তবে কেউ লুকিয়ে ব্যবসা চালিয়ে গেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে নিয়মিত তা তদারকি করা হচ্ছে। শিল্পমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। যদিও ট্যানারি মালিকরা স্থানান্তরের জন্য সময় চেয়ে আসছেন। কিন্তু তারা নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। আমরা ট্যানারি দ্রুত স্থানান্তরের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, সরকারের কঠোর অবস্থানে ব্যবসায়ীরা হতাশ। হাজারীবাগে কাঁচাচামড়া ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কাঁচাচামড়া ব্যবসায়ীরা। এতে ট্যানারি মালিকরাও ঠিকমত চামড়া পাচ্ছেন না। আমাদের আরোও সময় দিতে হবে তা না হলে সহজে এটি স্থান্তর সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সহসভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে চামড়া শিল্পনগরী স্থানান্তরে সরকারের অনেক কিছু করার আছে, কিন্তু সরকার তা করছে না। তারা যেখানে স্থান্তর করবে সে জায়গাটি এখন প্রস্তুত নয় । আমি মনে করি সরকার ও মালিকপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করে অতি দ্রুত নতুন শিল্পনগরীতে উৎপাদন শুরু হবে।

এফ/২০:২৪/২২মে

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে