Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (22 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২২-২০১৬

মেঘনায় অর্ধশত নৌকা ডুবি

মেঘনায় অর্ধশত নৌকা ডুবি

লক্ষ্মীপুর, ২২ মে- ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ায় মেঘনা উপকূলীয় লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় পাঁচ শতাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো কয়েকশ’ কাঁচাঘর। মেঘনার জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বেড়ে জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হওয়ায় এবং ঝড়ো হাওয়ায় নদীতে ডুবে গেছে মাছধরার অর্ধশত নৌকা। জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে দুই উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী নিম্মাঞ্চল। এছাড়া ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ায় ওই দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। 

এলাকাবাসী জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে কমলনগর উপজেলার চরকালকিনি, সাহেবেরহাট, পাটারীরহাট ও চরফলকন এবং রামগতি উপজেলার চরআলেকজান্ডার, চরআব্দুল্যাহ, চরআলগী, চররমিজ ও বড়খেরীসহ বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাত এবং শনিবার (২১ মে) দুপুরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এ সময় মেঘনার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় ফুট বেড়ে জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হলে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে। 

এতে জোয়োরের পানিরস্রোতে এবং ঝড়ো হাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার পাঁচ শতাধিক কাঁচা বসতঘর বিধ্বস্ত হয়। মেঘনায় ডুবে যায় বিভিন্ন মাছ ঘাটের অর্ধশত মাছধরার নৌকা। তবে এতে কোনো জেলে নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, ঝড়ে গাছ ভেঙে সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। 

কমলনগর উপজেলার পাটারীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাস্টার মো. শাহজাহান জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারে পানির চাপে এবং ঝড়ো হাওয়ায় তার এলাকার ১০টি কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

সাহেবের হাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবুল খায়ের জানান, ঝড়ো হাওয়ায় তার ইউনিয়নের ২০টি কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় পাশাপাশি অন্তত মাছধরার ২৫টি নৌকা তীরে আছড়ে পড়ে ভেঙে নদীতে ডুবে গেছে।

রামগতি উপজেলার বিচ্ছিন্ন ‘দ্বীপচর’ তেলিরচর এলাকার বাসিন্দা মো. তছলিম হোসেন জানান, দুপুর থেকে মেঘনা নদীর জোয়ারের পানি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকে চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় ফুট বেড়ে গেলে পুরো এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়।

চরআব্দুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বেল্লাল হোসেন জানান, জোয়ারের পানিতে তার ইউনিয়নের তেলিরচর ও চরগাসিয়া এলাকার কামাল বাজার, চেয়ারম্যান বাজার ও জনতা বাজারসহ চর দু’টি প্লাবিত হয়। সেই সঙ্গে ঝড়ো হাওয়ায় দু’শতাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্ত এবং তিন শতাধিক কাঁচাঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রামগতি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম শফি কামাল জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ো হাওয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নে তিনশ’ কাঁচাঘর বিধ্বস্তসহ প্রায় পাঁচশ’ ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার জন্য বলা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়া হবে।

এফ/০৬:৪৫/২২মে

লক্ষীপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে