Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.7/5 (18 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২১-২০১৬

মমতার বিজয়ে তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা বাড়ল!

মিজানুর রহমান খান


মমতার বিজয়ে তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা বাড়ল!

মমতা ব্যানার্জিকে অভিনন্দন। তিনি অনেকগুলো নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেই তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন।

একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বেশি খুশি হয়েছি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দ্রুতই তাঁকে অভিনন্দন জানাতে দেখে। এর আগে যে দূরত্বের কথা জানাজানি হয়েছিল, এবারে সেটা মনে হচ্ছে উবেই গেছে। বিরোধীরা ঠেস দিয়ে বলছেন, ‘কিছু আসনে তৃণমূল-বিজেপি গোপন সমঝোতা হয়েছে। আগেই বলেছিলাম, মোদি-দিদি একই, এবার তার প্রমাণ মিলল।’ মিলুক, কেউ মানুক আর না-ই মানুক, দুনিয়ার বহু জায়গাজুড়ে এমন ধারার ভোটের রাজনীতিই এখন যেন ক্রমে বেগবান হতে থাকা মূলধারা! তবে পশ্চিমবঙ্গে বামেরা যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছে, তা সত্যিই অনুশোচনীয়।

কিন্তু সে কথা আপাতত তোলা থাক। এখন কথা হলো ভোটের পরে তিস্তা চুক্তির সম্ভাবনা বাড়ল না কমল? আমরা চোখ বুজে বলব, বাড়ল। কারণ মোদি-দিদি তিক্ততা বা আলগা সম্পর্ক টুটে সেখানে মধুর কিছুর আওয়াজ স্পষ্টতর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিদের অভিনন্দনের কয়েক ঘণ্টা বাদে কালীঘাটের সাংবাদিক সম্মেলনে সোনিয়া গান্ধীর প্রতি একটু উষ্মা আর মোদিদের প্রতি অপেক্ষাকৃত অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ সচেতন মহলের নজর এড়ায়নি।

আমরা সম্ভবত প্রস্তাবিত তিস্তা চুক্তির বিষয়ে আগের চেয়ে একটু বেশি আশাবাদী হতে পারি। এর আগে আমরা ধারণা পেয়েছিলাম, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারের একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গকে যথেষ্ট আস্থায় না নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যেন কতকটা চাপিয়ে দেওয়া চুক্তিতে রাজি হতে বলেছিল, মমতা অন্তত সেটাই দাবি করেছিলেন। আশা করব, এবারে আর সেটা হবে না।

শুধু যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মমতাদের দূরত্ব কমেছে সেটাই শুধু নয়, ইকোনমিক টাইমস পত্রিকায় রিপোর্ট পড়েছিলাম, তিস্তা নিয়ে মমতার যে এত বেশি স্পর্শকাতরতা, তার মূলে ছিল ভোটের রাজনীতি। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ। এই একটি অঞ্চল যেখানে তৃণমূল বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের থেকে তারা ঢের পিছিয়ে ছিল। মমতার মতে, ‘রাজনৈতিকভাবে ভুল’ তিস্তা চুক্তিতে রাজি হলে তাঁকে নির্বাচনে পস্তাতে হবে।

রাজ্যের সেচমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি বলেছিলেন, ‘উত্তরবঙ্গের অন্তত পাঁচটি জেলা সেচের কাজে তিস্তার পানির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ ও উত্তর দিনাজপুরে সংখ্যালঘুদের বিরাট উপস্থিতি রয়েছে। তারা উত্তর দিনাজপুরে ৪৭ ও অন্যান্য জেলায় ৩০ শতাংশ। অক্টোবর থেকে মে—এই শুষ্ক মৌসুমে আমাদের ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচসুবিধা দিতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী এই অঞ্চলের চাষিদের স্বার্থ রক্ষা করতে চান।’

তৃণমূল সাংসদ অধ্যাপক সুগত বসু বলেছিলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করেই তবে তিস্তার সুরাহা চান। আধাআধি নয়, ৭০: ৩০ এবং ৬০: ৪০ নিয়ে আলোচনা চলছে। আমার বিশ্বাস, রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা পেলে তিনি ৬০: ৪০-এ রাজি হতে পারেন।’ অবশ্য অনেকের মতে, চুক্তি হলেও বাংলাদেশের আর ততটা লাভ হবে না। কারণ সিকিমের মতো উজানে পানি প্রত্যাহারধর্মী বহু প্রকল্প তৃণমূল সরকার ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে। এটা আদৌ সত্য হলেও কেউ কেউ বলবেন, নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো! আমরা তখন বলব, ভারত নিশ্চয় ন্যায্য হিস্যার নীতি মানবে।

পশ্চিমবঙ্গে অনেকেই আছেন, যাঁরা দুই দেশের মৈত্রীর সম্পর্ক দৃঢ় করতে এই চুক্তির সম্পাদন দেখতে চাইছেন। এবারের ভোটের ফলাফল ও মমতার প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদির স্বস্তি—দুটিই ইতিবাচক প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ, সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে মমতা সুনামি উত্তরবঙ্গকেও প্লাবিত করেছে। উত্তরবঙ্গেও জয়ের পতাকা উড়িয়েছেন তিনি।

আসামের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রথম বিজয়ে উদ্বেলিত মোদি হয়তো অদূর ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেও তাঁদের আগমনী গান শুনতে পাচ্ছেন। মমতার ভূমিধস বিজয় বিজেপির জন্য কৌশলগত বিজয়। তাই সার্বিক বিচারে মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে এখন ‘রাজনৈতিক ক্ষতিপূরণ’ দিতে আরও বেশি উৎসাহ ও কার্যকরণ খুঁজে পেতে পারে। নির্বাচনের অনেক আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারা দিদির নিন্দামন্দ করা একপ্রকার বন্ধ করে দিয়েছেন। স্থলসীমান্ত চুক্তি সইয়ের পরে মমতার সরকারকে যেভাবে তিন হাজার কোটি রুপির পুনর্বাসন প্যাকেজ দেওয়া হয়েছিল, তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের বহু কর্মকর্তার চক্ষু চড়কগাছ হয়েছিল। কারও কারও সন্দেহ, এই বিশেষ তহবিলের কারণেই মমতা বিনা বাক্য ব্যয়ে সীমান্ত চুক্তি সমর্থন করেছিলেন।

ফেডারেল সরকারের সঙ্গে প্রদেশের গিভ অ্যান্ড টেক কূটনীতিতে উদাহরণ তৈরিতে মমতার তুলনা নেই!

ভারতের ইকোনমিক টাইমস পত্রিকার ১৩ জুন ২০১৫ রিপোর্টে তিস্তা নিয়ে কাজ করেন, এমন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে দাবি করা হয়েছিল, তিস্তা চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য দিদি প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি নগদ এবং উত্তরবঙ্গের বর্ষার পানি ধরে রাখা ব্যবস্থাপনার বিকেন্দ্রীকরণ আশা করেন। পর্যবেক্ষকেরা একমত যে মোদি-দিদি এখন পরস্পরকে পরস্পরের প্রয়োজন। সারদা-নারদা কাণ্ডে বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত-প্রক্রিয়াও দিদির মোদি-নির্ভরতা বাড়িয়েছে। এমনকি ভোটের পরে এই প্রশ্নও উঠেছে, তাহলে কি ক্ষমতাসীন এনডিএতে তৃণমূলকে স্বাগত জানানো হবে? আগে মানে মমতার প্রথম বিজয়ের পরে এ প্রশ্নটিই প্রাসঙ্গিক ছিল না। এখন কেউ অপ্রাসঙ্গিক মনে করে না। বরং স্মরণ করেন, মমতা আগে তো তাদের মন্ত্রিত্ব করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি অমিত বলেন, ‘আমি তাঁকে ইতিমধ্যেই অভিনন্দন জানিয়েছি। দেশের উন্নয়নের জন্য যাঁরা আসতে চান, তাঁদের স্বাগত।’

সামনে ২০১৯, পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন অত বেশি দূরের নয়। আর আমাদের সামনে ন্যায্য তিস্তা চুক্তি, তুমি কত দূর? বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক মিলনায়তনের জনাকীর্ণ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদির পানি ও পাখির অবাধ যাতায়াতবিষয়ক উক্তি শুনে মুগ্ধ হয়েছিলাম। মমতাকে তাঁর অভিনন্দন জানানোর খবর পড়ে সেটাই এখন মনে পড়ল।

আর/১২:৪৪/২১ মে

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে