Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.6/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২০-২০১৬

প্রকৃতির অদ্ভুত খেয়াল ২- গ্রেট ব্লু হোল

আফসানা সুমী


প্রকৃতির অদ্ভুত খেয়াল ২- গ্রেট ব্লু হোল

এই পৃথিবী পরিপূর্ণ নানান বিচিত্রতায়। অদ্ভুত তার রহস্যময় বিন্যাস, একই সাথে সুন্দর, অপূর্ব। রহস্য মানুষকে সবসময়ই টানে। তাই, ভয় পেয়ে, প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে থেমে থাকেনি সে। বার বার কাছে গেছে রহস্যের, কখনো প্রাণের বিনিময়ে উত্তর খুঁজে এনেছে আমাদের জন্য। বিশ্বের অগুণতি বিস্ময়ের মধ্যে গ্রেট ব্লু হোল একটি।
 
দ্যা গ্রেট ব্লু হোল বেলিজ উপকূল থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি পানির গভীরে একটি গহ্বর। গবেষকদের মধ্যে পৃথিবীতে যে কয়টি এমন গহ্বর রয়েছে এটি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড়। গোলাকৃতির গহ্বরটি চমৎকার নীল রঙের কারণে আলাদা আকর্ষণের তৈরি করে। এর বিস্তৃতি ৩০০ কিলোমিটার এবং গভীরতা ১২৫ মিটার। এটি একটি উপহ্রদের প্রবাল প্রাচীরের মধ্যে অবস্থিত যার নাম লাইটহাউজ রিফ। পুরো গহ্বরটিকে ঘিরে আছে একটি কোরাল দ্বীপ যার তীরে এসে গাঢ় নীল রঙের পানি হালকা ফিরোজায় রূপ নিয়েছে। এখানে পানির গভীরতাও কম। কোরাল দ্বীপটি একটি চমৎকার শেড এনে দিয়েছে গহ্বরটিকে। উপর থেকে দেখলে নীলের এই বর্ণচ্ছটা মুগ্ধ করবে আপনাকে।
 
ডুবে থাকা গহ্বরটি সৃষ্টি হয় সেই তুষারযুগে। এটি ছিল একটি চুনাপাথরের গুহা আর তখন সমুদ্রের গভীরতা ছিল অনেক কম। যতই সমুদ্রপৃষ্ঠের গভীরতা বাড়তে থাকে ততই গুহাটি ডুবে যেতে থাকে পানির নিচে। আর একসময় পুরোপুরি তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় সমুদ্রে 'ভার্টিক্যাল কেভ'। সমুদ্রে ডাইভ করে বেড়াতে ভালবাসেন যারা তারাই মূলত এখানে যান এবং উপভোগ করেন গুহাটির ভৌগলিক গঠন যা এখন পরিণত হয়েছে পানির নীচের গহ্বরে।
 
এরকমই একজন সমুদ্র তলদেশে বিচরণকারী জ্যাক কস্টিউ, তিনিই এই এলাকাটিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেন। ১৯৭১ সালে তিনি ঘোষণা করেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে চমৎকার ১০ টি ডাইভিং স্পটের একটি। কস্টিউ যখন ক্যালিপসো ভ্রমণ করছিলেন তখন তিনি এই গহ্বরের গভীরে অনুসন্ধান করেন এবং নিশ্চিৎ করেন যে এটি চুনা পাথরের গুহার গঠন থেকে সৃষ্ট। প্রচুর স্ট্যালাকটাইট এবং স্ট্যালাগমাইট পাওয়া গিয়েছিল গহ্বরটির তলদেশে। কোন কোনটা এমনকি ৯-১২ মিটার দৈর্ঘ্যের ছিল।
 
এই অপূর্ব ভৌগলিক গঠন এখনো দেখতে পাওয়া যাবে, কিন্তু ডাইভিং করে যেতে হবে। আর সেজন্য আপনাকে হতে হবে অভিজ্ঞ ডাইভার। বলা হয় যে, গুহাটির যত গভীরে যাওয়া যায়, পানি ততই পরিষ্কার এর গঠন ততই জটিল। দ্যা গ্রেট ব্লু হোল, বেলিজ ব্যারিয়ার রিফ রিজার্ভ সিস্টেমের একটি অংশ। বেলিজ বেরিয়ার রিফ ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।
 
রোমাঞ্চপ্রিয় ভ্রমণকারীরা যারা সমূদ্রের নেশায় মত্ত, তারা অবশ্যই নিজের বাকেট লিস্টে রাখুন এই গহ্বরটি। সমুদ্র জীবনের মানে বদলে দেয়। সমুদ্রের রহস্য এমন যে, আর ফেরা যায় না ঘরে। তাই ভ্রমণ করুন, দেখুন, জানুন, গ্রেট ব্লু হোল সমৃদ্ধ করুক আপনার অভিজ্ঞতাকে।

আর/১১:১৪/২০ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে