Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২০-২০১৬

ঘটি-বাঙালের যৌথ বিদ্রোহের কালে ভোটে জোটের পরাজয়

ঘটি-বাঙালের যৌথ বিদ্রোহের কালে ভোটে জোটের পরাজয়

কলকাতা, ২০ মে- জোটের পরাজয় প্রশ্ন তুলে দিল বাঙাল ঘটি যৌথ বিদ্রোহের ভবিষ্যত নিয়ে৷ রাজনীতির ময়দানে একে অপরের শত্রু বলে চিহ্নিত কংগ্রেস আর সিপিএম নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সম্প্রতি হাতে হাত ধরেছিল৷ কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হল না ৷ এদিকে আইএসএল-এর চাপে ফুটবলের আঙিনায় সংকটে পড়েছে বাংলার দুই প্রধান মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল৷ শোনা যাচ্ছে পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ক্ষেত্রেও খেলার মাঠের চিরশত্রুরা কাছাকাছি আসছে৷ কিন্তু যদি কাছকাছি আসেও তাতে কি শেষ রক্ষা হবে নাকি? হবে না৷ রাজনীতির পাশে পাড়ার রকে ঘটি বাঙালদের আলোচনায় আজ এমন কথাও ঘুরে ফিরে আসছে৷

গত শতাব্দীর ৬০-৭০ দশকে থেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের শত্রুতা৷ বঙ্গজীবনের অঙ্গের মতো পাড়ার রক থেকে চায়ের দোকানে তর্কের বিষয় যেমন হয়ে উঠত মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল, তেমনই তর্ক চলত সিপিএম আর কংগ্রেসকে সমর্থন ঘিরে৷ শুধু তাই নয়, এই দুই দলের রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে বলি হতে হয়েছে দু’দলের সমর্থকদের৷ যদিও এই কংগ্রেস ভেঙে বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গড়ে তুললেন তৃণমূল কংগ্রেস৷ আর তারপরের থেকে অবশ্য সিপিএম তথা বামফ্রন্টের প্রধান শত্রু হয়ে ওঠে তৃণমূল কংগ্রেস৷ সেই সময় মাঝে মাঝে তৃণমূলীরা সিপিএমের ‘বি’-টিম বলে কটাক্ষ করলেও দিল্লিতে টাই হোক না কেন এ রাজ্যে কংগ্রেসের হাত ধরতে দেখা যায়নি সিপিএমকে৷ বরং শাসক বামফ্রন্টকে রাজ্য থেকে হঠাতে মাঝে মাঝেই কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসকে জোট করতে দেখা গিয়েছে৷ আর এভাবেই ২০১১ সালে রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ছিল তৃণমূলের৷ সেই জোটই ৩৪ বছরের সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম জমানার অবসান ঘটিয়েছিল৷ কিন্তু সেই মধুচন্দ্রিমা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি৷ কংগ্রেস তৃণমূলের ছাড়াছাড়ি হওয়ার বর্তমান শাসক দল প্রায়শই সিপিএমের পাশাপাশি কংগ্রেসকে সাইনবোর্ডে পরিণত হবে বলে কটাক্ষ করতে ছাড়ত না৷ এই পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বজায় রাখতে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে কাছাকাছি এসেছিল কংগ্রেস আর সিপিএম৷ হয়েছিল কংগ্রেস -বামেদের জোট ৷  রাজনৈতিক দিক থেকে চিরশত্রু কংগ্রেস সিপিএমের সম্প্রতি হাত মেলানো নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি৷ রাজনৈতিক স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই সেই সমালোচনা উপেক্ষা করেই কংগ্রেসএবং সিপিএমের কিছু নেতা এই সমঝোতা মেনে নিয়েছিল৷ কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ফল ঘোষণা শুরু হতেই বোঝা গিয়েছিল ভোট বৈতরণী পার হতে পাচ্ছে তারা বরং গো হারান হার হচ্ছে৷

এদিকে সম্প্রতি এআইএফএফ-এর বৈঠক বদলে দিয়েছে ভারতীয় ফুটবলের চিত্র৷ যার প্রভাবে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের মতো ক্লাবগুলির ভবিষ্যত ক্রমশ অনিশ্চিত থেকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে৷ দীর্ঘদিন ধরেই বলা হচ্ছিল আই লিগ ও আইএসএল এক হয়ে যাবে৷কিন্তু আদতে হলো উল্টো৷ দুই লিগ মিলছে না৷ বরং দেশের সুপারহট ও সুপারকুল দুই টুর্নামেন্টকে মেলানোর জন্যই প্রফুল প্যাটেল ও কুশল দাশেরা ইস্ট-মোহন কর্তাদের সঙ্গে বসেছিলেন বৈঠকে৷ এক লিগের বদলে চলে আসছে তিনটে টুর্নামেন্ট৷ আইএসএল এবং আই লিগ থাকছে স্বমহিমায়।ফেডারেশন কাপকে উঠিয়ে দিয়ে আনা হচ্ছে সুপার কাপ।সার্বিক বিচারে আইএসএল তার গ্ল্যামার, জৌলুস আর কর্পোরেট পরিকাঠামোর জেরে হয়ে যাচ্ছে দেশের এক নম্বর টুর্নামেন্ট৷আই লিগ হয়ে যাবে দ্বিতীয় ডিভিশন যেখানে খেলবে নাকি বাঙাল ঘটিদের ক্লাব । আই লিগ-টু হবে তৃতীয় ডিভিশন। ইতিমধ্যেই শোনা গিয়েছে মোহনবাগান -ইস্টবেঙ্গলের আইএসএলে খেলার রাস্তা জটিল বলে নাকি অ্যাটলেটিকোর কর্তারা উল্লসিত৷ এমনকী এটিকে-র কর্তাদের বার্তা আইএসএল খেলতে হলে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলকে অন্য শহরে গিয়ে খেলতে হবে৷ কারণ এই শহর থেকে তারা শুধু এই টুর্নামেন্ট খেলতে পাবে৷ পরিস্থিতিটা এমনই যে, মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের মতো জনসাধারণের ক্লাব আইএসএল খেলতে পারবে না৷ চিরকাল মাঠের শত্রু ঘটি-বাঙাল তাই বাধ্য হচ্ছে কাছে আসতে৷ কারণ তাদের ভাঁড়ারে অত পয়সা তো নেই৷ কোটি-কোটি টাকার লড়াইয়ে তারা প্রথম থেকেই ব্যাকফুটে৷ যারজন্য শুরুতেই আইএসএল খেলবে না বলে বাংলার ফুটবলের দুই প্রধান প্রতিবাদ জানিয়েছিল৷ কিন্তু আর তো পারা যাচ্ছে না ফলে পুরনো শত্রুতা ভুলে এবার তো সরাসরি জোটবদ্ধ ভাবেই বিদ্রোহের পথে মোহনবাগান- ইস্টবেঙ্গল৷

অথচ ঠিক এই সময়ই আবার বিধানসভা ভোটে ছন্দপতন ঘটল সিপিএম -কংগ্রেস জোটের৷ ভোটের ফল নিয়ে চা খেতে খেতে বাঙালির একাংশের আলোচনা করতে বসে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে এই ভেবে ফুটবল মাঠেও শেষরক্ষা হবে তো ৷

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে