Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-২০-২০১৬

বঙ্গে পরাজয়ের ধাক্কায় আরও শক্ত হতে পারেন মানিক

প্রসেনজিৎ চৌধুরী


বঙ্গে পরাজয়ের ধাক্কায় আরও শক্ত হতে পারেন মানিক

আগরতলা, ২০ মে- আকাশপথে এক ঘণ্টার কম সময়ে পৌঁছে যাওয়া যায়৷ সড়ক বা রেল পথে সেটা লাগবে কমবেশি ৭২ ঘণ্টা৷ এমনই দূরের রাজ্য ত্রিপুরা৷ বাম শাসিত ছোট্ট রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ বাংলায় বাম-কংগ্রেস জোট রাজনীতি নিয়ে প্রবল হাওয়ার মাঝেই রীতিমত বিতর্ক উস্কে দিয়েছিলেন ত্রিপুরার দাপুটে শাসক৷ পশ্চিমবঙ্গে বাম-কংগ্রেস জোটের সমালোচনায় নিজেদের ‘ছাগলের তৃতীয় সন্তান’ মনে করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মানিক সরকার৷

আগরতলায় সিপিএমের সাংগঠনিক সভা থেকে তাঁর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের সর্বত্র৷ তাঁর যুক্তি ছিল- পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে কংগ্রেস ও বামপন্থী দলগুলোর জোট হয়েছে তাতে বামশক্তির অপর ঘাঁটি ত্রিপুরাতে নিজেদেরকে ছাগলের তৃতীয় সন্তানের মতো মনে হচ্ছে৷ কারণ ত্রিপুরাতে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই শক্তি ৷ মানিকবাবুর আগে ত্রিপুরায় দুবার সিপিএম ক্ষমতায় এসেছিল৷ ১৯৮৮ সালে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন নৃপেণ চক্রবর্তী৷ আর ১৯৯৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন দশরথ দেব৷ দুই নেতা প্রয়াত৷  ৮৮ ও ৯৩ সালের মধ্যবর্তী সময়টি ত্রিপুরার ইতিহাসে  কংগ্রেসের শাসন৷ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সুধীর রঞ্জন মজুমদার (১৯৯৮-১৯৯২) ও সমীর রঞ্জন বর্মণ(১৯৯২-১৯৯৩) ৷ এই সময়টিতে হিংসাত্মক উপজাতি আন্দোলন ও সংঘর্ষ তীব্র আকার নেয়৷ আপাতত শান্ত ত্রিপুরার শাসনকর্তা মানিক সরকার সিপিএমের সবেধন মুখ্যমন্ত্রীদের একটি৷ এহেন হেভিওয়েট নেতা পশ্চিমবঙ্গের বাম-কংগ্রেস জোটকে কটাক্ষ করে ত্রিপুরার সিপিএমকে ছাগলের তৃতীয় সন্তান বলে ক্ষেদ জানালেও  তা পাত্তা দেননি বুদ্ধবাবু, সূর্যবাবুরা৷

বস্তুত ১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে বাম শাসন শুরু হওয়ার পর বা তারও আগে থেকে রাজ্য বাম নেতৃত্ব কখনই ত্রিপুরার আন্দোলনকে তেমন তুলে ধরেননি৷ উত্তর-পূর্ব ভারতের এক কোনায় তিনদিকে বাংলাদেশ ঘেরা অত্যন্ত স্ট্রাটেজিক রাজ্য ত্রিপুরা বহু আগে থেকেই দুয়োরানি৷ সেই ধারা বজায় রেখেই বঙ্গীয় বাম নেতৃত্ব ত্রিপুরার কথা খুব একটা বলতেন না৷ কাজেই মানিক সরকারের ক্ষেদ আগরতলাতেই থেকে গিয়েছে৷ বরং উল্টো ঘটনার সাক্ষী ত্রিপুরা৷ বাংলায় বাম-কংগ্রেস জোটের কারণে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের মধ্যে বিদ্রোহ প্রায় রাস্তায় এসে পৌঁছেছে৷ বিরোধী দলনেতা  সুদীপ রায়বর্মন এবং দলের রাজ্য যুব সভাপতি সুশান্ত চৌধুরীকে সাসপেন্ড করেছে কংগ্রেস হাইকমান্ড।

তারপরেই কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা চালান সমর্থকরা। কলকাতায় চলে আসেন বিদ্রোহী কংগ্রেস নেতৃত্ব৷ দেখা করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর সঙ্গে৷ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাম-কংগ্রেস জোটের ভরাডুবির পর সম্ভবত ত্রিপুরার প্রদেশ কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেতৃত্ব তৃণমূলের খাতায় সরাসরি নাম লেখাবেন৷ তাতে প্রবল সাংগঠনিক ক্ষমতায় বলীয়ান মানিক সরকারের শক্তিক্ষয় হবেনা৷ নিজেদেরকে ‘ছাগলের তৃতীয় সন্তান’ হিসেবে ক্ষেদোক্তি করা সিপিএমের এই পলিটব্যুরো সদস্য হাড়ে হাড়ে বুঝে গিয়েছেন নিজের রাজ্য নিজেকেই দেখতে হবে৷ সেখানে লড়াইটা সরাসরি কংগ্রেসের সঙ্গে৷

ত্রিপুরা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে