Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-১৯-২০১৬

সিলেটে রেলওয়ের হাজার কোটি টাকার ভূমি বেদখল!

সিলেটে রেলওয়ের হাজার কোটি টাকার ভূমি বেদখল!

সিলেট, ১৯ মে- সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ রেলওয়ের হাজার কোটি টাকার জমি বেদখল হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বেহাত হচ্ছে এসব মূল্যবান সরকারি সম্পদ। ভূমি দখলের পাশাপাশি একটি চক্র অরক্ষিত রেলপথের স্লি­পার, রেলপাত, উডপিন, সিগন্যালের তার হাতিয়ে নিচ্ছে। লুটেরা সিন্ডিকেটের সঙ্গে রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘদিন কুলাউড়া-শাহবাজপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। বেহাত হয়ে গেছে ৬শ’ একর ভূমি। কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় শাহবাজপুর, মুড়াউল, বড়লেখা, কাঁঠালতলী, দক্ষিণভাগ, জুড়ী ও কুলাউড়া রেলস্টেশন এলাকার ১০ লাখেরও বেশি মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল জোনের কুলাউড়া-জুড়ী-শাহবাজপুর (লাতু) রোডটি ২০০২ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর থেকে ৬টি রেলস্টেশনের বেহাল অবস্থা। সম্প্রতি এই রেল লাইনটি আবার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু অবৈধ বেদখল ভূমি উদ্ধারে কোনো তৎপরতা নেই।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে রয়েছে দেশের বৃহৎ পাথর কোয়ারি। এ কোয়ারি পাথর ছাতক সিমেন্ট কারখানায় সরবরাহের জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল রেলওয়ের রজ্জুপথ (রোপওয়ে)। এ রজ্জুপথ এখন হুমকির মুখে। রেলওয়ের ৩৭৯ একর ভূমি কমে ৩৬ একরে দাঁড়িয়েছে। বাকি ৩৪৩ একর ভূমি পাথর ব্যবসায়ীরা দখল করে নিয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, রজ্জুপথের বাংকার ও ভূমি উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়েছে। বাংকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, রেলওয়ের ভূমি দখলের সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ নেতা শামীম আহমদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতরসহ কোয়ারি ও রজ্জুপথের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যরা পাথর ব্যবসায়ী ও ভূমি দখলদারদের পক্ষে কাজ করছে।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জোনের সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনের বেদখল জমিতে অনেক স্থানে তৈরি করা হয়েছে বাণিজ্যিক মার্কেট। বাসাবাড়ি তৈরি করে ভাড়া দেয়া হয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের পর যৌথ বাহিনীর তদারকিতে কিছু জমি উদ্ধার হলেও এসব জমি আবার বেদখল হয়ে গেছে। ২৬টি স্টেশনের উভয় পাশের জমি দখল করে দোকানপাট, ঘরবাড়ি, পুকুর, রাস্তাঘাটসহ শিল্পকারখানা নির্মাণ করছে সুবিধাবাদী চক্র। ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে রেলওয়ের বাণিজ্যিক ভূমিগুলো চর দখলের মতো চলে গেছে অবৈধ দখলে। এসব ভূমিতে গড়ে উঠেছে কয়েকশ’ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবন। এভাবে রেলওয়ে কর্মচারী-কর্মকর্তা অবৈধ উপায়ে আয় করছে লাখ লাখ টাকা।

রেলওয়ের কয়েকশ’ একর ফাঁকা জমি এবং কর্মচারীদের বসবাসের প্রায় ৪শ’ কোয়ার্টারের মধ্যে ৩শ’টি বেদখল হয়ে গেছে। এসব কোয়ার্টারের সামনে পেছনে ও বিভিন্ন স্থনে ফাঁকা জায়গাগুলো মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভূমিদস্যুদের হাতে তুলে দেয় কতিপয় শ্রমিক নেতা।

সুনামগঞ্জের ছাতকে একটি প্রভাবশালী মহল রেলওয়ের ভূমি দখল করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে তারা বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন নদীর ঘাট, ডাম্পিং সাইটসহ প্রায় দুই একরেরও অধিক ভূমি দখল করে অটোটেম্পো স্ট্যান্ড, কাঁচা মার্কেট, দোকান তৈরি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ছাতক পৌরসভা কার্যালয়ের পাশে রেলওয়ের প্রায় আধা একর ভূমিতে অটোটেম্পো, লেগুনা স্ট্যান্ড স্থাপন করে একটি মহল প্রতিদিন ভাড়া হিসেবে অবৈধভাবে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি নদীর ঘাট দখল করে ডাম্পিং সাইট হিসেবে ভাড়া দিচ্ছে। মার্কেট নির্মাণসহ ১০/১২টি দোকান নির্মাণ করেছে দখলদার বাহিনী। এছাড়াও রেলওয়ের ভূমিতে কয়েকটি হোটেল, ব্যবসায়ীদের অফিস, ভাঙারি দোকানসহ বেশ ক’টি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। গাছ লাগিয়ে এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে রেলওয়ের ভূমি দখলে রেখেছে আশপাশের কিছু লোক।

এফ/২৩:০৮/১৯মে

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে