Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-১৯-২০১৬

তনু হত্যা: গণেশ পাল্টে যাচ্ছে?

তনু হত্যা: গণেশ পাল্টে যাচ্ছে?

কুমিল্লা, ১৯ মে- শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের রহস্য কোন দিকে যাচ্ছে কারোরই জানা নেই। ঘটনার গণেশ পাল্টে যাচ্ছে কি? নতুন কোন ঘটনা বা নাটকের জন্ম হচ্ছে কি? প্রথম ময়না তদন্ত রিপোর্ট ও পরবর্তিতে ডিএনএ রিপোর্টের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্যই এসব প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে সাধারণ মানুষ ও তনু হত্যার বিচার প্রার্থীদের মধ্যে।

হত্যার দুই মাস পরেও রহস্যের কোন কিনারা করতে না পারায় প্রশ্নবিদ্ধ তদন্ত ও বিচার ব্যাবস্থা। বাকি দ্বিতীয় ময়না তদন্ত রিপোর্টটি কবে নাগাদ প্রকাশ করা হবে তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধুম্রজাল।

গত ২০ মার্চ হত্যা হয়, ৩০ মার্চ আদালতের নির্দেশে ময়না তদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করা হয়। ৪ এপ্রিল প্রথম ময়না তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। ১৬ মে ডিএনএ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। অপেক্ষমাণ দ্বিতীয় ময়না তদন্তের রিপোর্ট। সম্পূর্ণ তদন্ত কাজটি করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

৪ এপ্রিল প্রথম ময়না তদন্তের রিপোর্টে তনুকে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এছাড়া কোনো রাসায়নিক ক্রিয়ায় তনুর মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের (কুমেক) ফরেনসিক বিভাগ। সেই রিপোর্টের দেড়মাস পরেই ১৬ মে সিআইডি কর্তৃক ডিএনএ পরীক্ষায় তনুকে হত্যার আগে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এছাড়া তনুর, শরীরের অংশবিশেষ, কাপড় ও রক্তের ডিএনএ প্রতিবেদনে ৩ ব্যক্তির বীর্য পাওয়ার কথা বলা হয়। এই দুই রিপোর্টের মধ্যে এই ব্যবধান জনগণের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করছে। তাহলে তো এখানের যে কোন একটি রিপোর্ট মিথ্যে। কেন হচ্ছে? তাই দিত্বীয় ময়ানা তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্নের।

এদিকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা সিআইডি কর্তৃক প্রকাশিত ডিএনএ প্রতিবেদনের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলেই গণমাধ্যমের কাছে জানান।

সূত্রে জানা যায়, ফরেনসিক বিভাগের ৩ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড তনুর দাঁত, কাপড়, নখের ডিএনএ ও ফিঙ্গার প্রিণ্টের প্রতিবেদন চেয়ে সিআইডি’র নিকট চিঠি প্রেরণ করে। কিন্তু ওই প্রতিবেদন সরবরাহে সিআইডি অপারগতা প্রকাশ করে।

প্রথম ময়নাতদন্তের যে প্রতিবেদন দেওয়া হয় তাতে তাঁর মাথার পেছনের জখমের কথা গোপন করা হয় এবং গলার নিচের আঁচড়কে পোকার কামড় বলে উল্লেখ করা হয়। সর্বশেষ ডিএনএ রিপোর্ট প্রমাণ করে যে সেই ময়নাতদন্তের রিপোর্টটি ছিল মনগড়া।

এদিকে তনুর মা’ অভিযোগ করেছেন সেনানিবাসের ভেতরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর দুজন সদস্য তাঁকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর তনু ফিরে আসেননি। যাঁরা তনুকে ডেকে নিয়েছেন, তাঁদের নামও বলেছেন তিনি।

অপরদিকে তনু হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর বিচারের দাবি জানিয়েছে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ। বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি। গণজাগরণ মঞ্চসহ আন্দোলনের উত্তাল ছিল সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। সময়ের সাথে সাথে ঘটনার পট পরিবর্তন এবং নাটকীয়তার জন্ম। একদিকে যেমন হতাশ সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে অপরাধীরা মঞ্চস্থ হচ্ছে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কালো পর্দায়। দেশের মানুষের প্রত্যাশা এখন একেবারেই ক্ষীণ, সকল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার কার্যকর করা হোক।

আর/০৭:৪৫/১৯ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে