Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-১৭-২০১৬

ব্যাংকখাতের আরো ৮ হাজার কোটি টাকা গায়েব!

শওকত আলী পলাশ


ব্যাংকখাতের আরো ৮ হাজার কোটি টাকা গায়েব!

ঢাকা, ১৭ মে-  বাংলাদেশের ব্যাংকিংখাত থেকে ঋণ নিয়ে যারা খেলাপি হয়, তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় খুব একটা চোখে পড়ে না। যত-সামান্য আদায় হয় তা খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই। কিন্তু যেসব গ্রাহকের কাছে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়া আছে তা নানা কারণে আদায় করতে পারে না ব্যাংকগুলো। আর সেকারণে পুরনো ৫১ হাজার কোটি টাকার সঙ্গে পুরো ব্যাংকিংখাতে নতুন করে খেলাপি ঋণের হিসেবে যুক্ত হয়েছে আরো ৮ হাজার কোটি টাকা। যা আর ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খেলাপি ঋণের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি করা সর্বশেষ (জানুয়ারি-মার্চ- ২০১৬) হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকিংখাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৯ হাজার ৪১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। যা ব্যাংকগুলোর অনাদায়ী মোট ঋণের ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি ছিল ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি ২২ লাখ টাকা। যা ওই সময়ের অনাদায়ী ঋণের ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ব্যাংকিংখাতে বর্তমানে মোট অনাদায়ী ঋণের পরিমান ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪৮ কোটি ২১ লাখ টাকা।

দীর্ঘদিন ধরেই ৫০ হাজারের ওপরে খেলাপি ঋণ ঘুরপাক খাচ্ছে। আদায়ের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় নতুন নতুন খেলাপি ঋণে যুক্ত হয়ে টাকার অংক বেড়েই চলেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এ ঋণগুলো আর আদায় হওয়ার নয়। যা গেছে তা ব্যাংকের লোকসান। এগুলো আর ফেরত পাওয়ার মত নয়। কারণ, এগুলো যারা নেয় তাদের খুব একটা জামানতও থাকে না। যদিও কেউ জামানত রাখে, খোঁজ করে দেখা যায়, তা ভুয়া। তাই আদায়ের আসলে পথ নেই। তবে বিতরণের আগে সতর্ক হওয়াটা খুবই জরুরি বলেও মনে করছেন তারা।    

এ বিষয়ে জানাতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো দুর্নীতির মাধ্যমে এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো অতি আগ্রাসীভাবে এ লোনগুলো দিয়েছে। ফলে, এ ঋণ আদায় হবে না। যা হবে তা খুব সামান্য। বাকিগুলো ধীরে ধীরে ব্যাংকগুলো লোকসান দেখাবে। অর্থাৎ যা গেছে তা আর ফিরে আসবে না।’

এ থেকে বেরিয়ে আসা যায় কিভাবে তা জানতে চাইলে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এসব ঋণ সম্পর্কে এখনই সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। তা না হলে অনেক ব্যাংক তাদের অস্তিত্ব হারাতে পারে।’     

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সূত্রে জানা যায়, খেলাপির তালিকায় থাকা বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। কেউ আছেন কারাগারে, কেউবা পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের করা মামলা বছরের পর বছর ধরে চলছে। আর মামলা চলার অজুহাতে ব্যাংকগুলো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই লম্বা হচ্ছে অনাদায়ের তালিকা।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এটা উদ্বেগজনক। এর কারণে যেসব ব্যবসায়ী সৎভাবে ঋণ নিয়ে সময়মত পরিশোধ করছে তারা নিরুৎসাহীত হবে। ৫৯ হাজার কোটি টাকা মন্দ খেলাপি মানে মোট ঋণের প্রায় ১০ শতাংশই খেলাপি। আর ব্যাংকিংখাতে এ খেলাপি না হলে নিম্নমুখি ঋণের সুদহার আরো কমানো সম্ভব হত।’

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কী কী কারণে ঋণ খেলাপি হচ্ছে তা বের করতে হবে এবং এসব কারণ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করতে হবে। প্রয়োজনে আইন চেঞ্জ করে এ অবস্থা থেকে বের হতে হবে। এছাড়াও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে এর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারী বাড়ানো প্রয়োজন।’

এদিকে, ব্যাংকখাতের সবচেয়ে বেশি ঋণ খেলাপি হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর। সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমান ২৭ হাজার ২৮৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা; যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেক। এটি আবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অনাদায়ী ঋণের ২৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। ডিসেম্বর পর্যন্তও এ ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৭৪৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা; যা অনাদায়ী ঋণের ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আর বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমান দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। শতাংশের হিসেবে যা অনাদায়ী ঋণের ২৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।  

বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমান দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৩৩১ কোটি টাকায়; যা ব্যাংকগুলোর অনাদায়ী ঋণের ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত এ ঋণের পরিমান ছিল ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বিদেশি নয়টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮২২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।    

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা  বলেন, ‘খেলাপি হওয়া বেশিরভাগ ঋণ বিতরণ হয় যোগসাজসে। ব্যাংকের একটা পক্ষ থাকে, আরেকটা পক্ষ গ্রহীতা। এসব ঋণে গ্রহীতারা আসলে জামানত যেটা রাখে সেটা থাকে লোক দেখানো। তাই এসব ঋণ আদায় হওয়া সম্ভব না।’

এত বেশি ঋণ খেলাপি হওয়ার কারণ সম্বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র শুভংকর সাহা বলেন, ‘জুন এবং ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর ক্লোজিং থাকে বলে আদায় একটু বেশি হয়। সে কারণে ওই সময়টাতে একটু কম ঋণ খেলাপি হয়। অন্য সময়টাতে আদায় কম হয় বলে সেসময় খেলাপির পরিমাণ কম হয়।’

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণের পরিমান ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা, বেসরকারি ৩৯ ব্যাংকের ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৫৪ কোটি, বিদেশি ৯ ব্যাংকের ২৪ হাজার ২৫৯ কোটি এবং বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের ২১ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা।

আর/১০:৩৪/১৭ মে

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে