Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-১৬-২০১৬

সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ৫০ বছর পূর্তিতে নীরব চীন

আরাফাত পারভেজ


সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ৫০ বছর পূর্তিতে নীরব চীন

বেইজিং, ১৬ মে- চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। বিংশ শতকের চীনে এই বিপ্লব যেমন ছিল বিপর্যয়ের কারণ তেমনি ছিল বিবর্তনেরও কারণ। কিন্তু বিপ্লবের ৫০ বছর পূর্তিতে আধুনিক চীনে ছিল শুধুই নীরবতা। চীনের গণমাধ্যমে টু শব্দটি করেনি এই বিপ্লব কিংবা নেতা মাও সে তুং'কে নিয়ে। 

১৯৬৬ সালের ১৬ই মে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মাও সে তুং সমাজের বিত্তহীন শোষিত শ্রেণীর প্রতি সামাজিক বিপ্লবের ডাক দেন। মানুষকে রাজনৈতিক দীক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীক্ষিত করানোই ছিল এই বিপ্লবের প্রধান উদ্দেশ্য। মাও একটা পর্যায়ে বুঝেছিলেন, মানুষকে বল প্রয়োগ করে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, নিয়ন্ত্রণ করতে হয় মানসিক দীক্ষায়। 

কিন্তু এই দীক্ষা বিত্তবান ও প্রভাবশালী স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে মানুষকে একত্র করে ফেলল। এরপরের কাহিনী দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাত আর অস্থিতিশীলতার কাহিনী। যে কারণে চীনের এই বিপ্লব যেমন কাঙ্ক্ষিত তেমনি অনাকাঙ্ক্ষিত।  

এই বিপ্লবের শুরু থেকে ১৯৭৬ সালে মাওয়ের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলে শাসক ও শোষিতের এই রক্তক্ষয়ী লড়াই। সেই লড়াইয়ের অর্ধশতাব্দী পূর্তিতে চীনের কোন সংবাদপত্র প্রকাশ করেনি বিশেষ কোন প্রতিবেদন। এমনকি কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদিত ট্যাবলয়েড পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস পর্যন্ত উপেক্ষা করেছে চীনের এই বিশেষ অধ্যায়টিকে। 

বেইজিং মর্নিং পোস্ট পত্রিকায় বিতর্কিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসনের আকস্মিক উক্তি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের ছড়াছড়ি থাকলেও মাও সে তুং এবং গণআন্দোলন নিয়ে একটা কথাও নেই। সরকারের কড়া নজরদারিতে থাকা চীনা গনমাধ্যমের কোথাও ঐ ভঙ্গুর সময়ের কোন কথা উল্লেখ নেই।


মাঝখানে কমিউনিস্ট নেতা মাও সে তুং

সরকার থেকে কোন ধরনের স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়নি। চীনা একজন চিন্তাবিদ কানাডার ‘দ্য গ্লোবাল এন্ড মেইল’ সংবাদপত্রে বলেন, চীনা গবেষকরা এমনকি সাংস্কৃতিক বিপ্লব নিয়ে কোন গবেষণা প্রস্তাব পর্যন্ত গ্রহণ করেন না।

‘ভিকটিমস অব দ্যা কালচারাল রেভ্যুলুশন’ গ্রন্থের লেখক অয়াং ইয়োকিন দ্যা গার্ডিয়ান সংবাদপত্রে বলেন, ‘চীনের সরকার মনে করে আমরা যদি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অন্ধকার দিকগুলো মানুষের সামনে উন্মোচন করি তাহলে তারা রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।’  

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক বিপ্লব বিশেষজ্ঞ রডেরিক ম্যাকফারকার বলেছেন, ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লবের এই ৫০ জন্মবার্ষিকীতে কেউ যেন দলের অতীত নিয়ে অস্বস্তিকর বিষয় উত্থাপন করতে না পারেন সেজন্য চীনা প্রেসিডেন্ট শী জিনপিং সদা সতর্ক। বিশেষ করে ঐ বিপ্লবে মাওয়ের ভূমিকা নিয়ে। মাও সেই বিশৃঙ্খলার ভেতরে জ্বলজ্বল করে জলেছেন। কিন্তু মাওয়ের ঐ চিত্র তিনি প্রকাশ্যে টেনে বের করতে চান না।’

কাজেই চীনে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সৃতি চাপা পড়ে গেছে। তবে হংকংয়ের সংবাদ মাধ্যমে এর কিছুটা অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। চীনের অংশ হলেও সেখানে রাজনৈতিক স্বাধীনতা অনেক বেশী, চীনের মত নয়।

হংকংয়ের পত্রিকা দ্যা সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘৫০ বছর হয়ে গেছে, অথচ চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ঐ কষ্টদায়ক ঘটনার প্রকাশে ন্যায় বিচার দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পার্টি যদি অতীত নিয়ে নিজের সত্য প্রকাশে এতোই ভয় পায় এবং তা থেকে কিছুই শিখতে না পারে, তাহলে তারা কিভাবে ভবিষ্যতে সত্যের পথে যাবে?’  


সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রচারণায় হাই স্কুল ও ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত রেড গার্ডের একটি দল 

পঞ্চাশ বছর পার হয়ে গেছে কিন্তু এখনো চীনা বুদ্ধিজীবীরা মাও পরবর্তী চীনা নেতাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণায় লিপ্ত। ড্যানিয়েল লেসে নামের একজন সাংস্কৃতিক বিপ্লব বিশেষজ্ঞ বলেন, বর্তমান চীনের ক্ষমতাসীন নেতাদের দেখলে বোঝা যায় যে, একটা জিনিস তারা উত্তরাধিকার সূত্রে ভালমতোই পেয়েছেন এবং হাতছাড়া করতে নারাজ- সেটা হচ্ছে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ। বর্তমান চীনের অতি নিয়ন্ত্রিত চিত্র দেখলে সেটা পরিষ্কার বোঝা যায়। 

চীনা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আলোকিত ও অন্ধকার দুটো দিকই রয়েছে। বিপ্লবের ভয়াবহতার চিত্রটি অনেকটা অন্ধকারে থাকা মানুষ হঠাৎ আলোর দেখা পেলে যেমন অন্ধ হয়ে যায় ঠিক সেই রকম। জনগণকে অন্ধকারে রাখলে শাসকের জন্য সুবিধা। কিন্তু জনগণকে হঠাৎ আলতে আনলে শাসকের গতি নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে। সংঘাত অনিবার্য। ঐ সময়ে নিজেরদের ভেতরে খুনোখুনি আর নিষ্ঠুরতা বেড়ে গিয়ে যে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছিল তার পেছনে মাও দায়ী ছিলেন। যদিও অনেকে মনে করেন ঐ সময়ের বামপন্থী আদর্শই ছিল মহৎ আদর্শ। 

চীনের বর্তমান ক্ষমতাবানরা চান না চীনের সাধারণ মানুষ ঐ ইতিহাস ঘাটুক। তারা সত্যটা ঢেকে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু চীনের লেখক বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন, সত্য কখনো গোপন করা যায় না। মানুষের সত্যটা জানা উচিৎ। অনেকের মত ‘ভিকটিমস অব দ্যা কালচারাল রেভ্যুলুশন’ গ্রন্থের লেখক অয়াংও আশাবাদী। তিনি মনে করেন, ‘এই অবস্থা বদলাবে। আমরা যদি নিষ্ঠার সাথে মানুষকে সত্যটা জানাই, মানুষ সেটা গ্রহণ করবে।’


এফ/২২:৫৩/১৬মে

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে