Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.5/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-১৫-২০১৬

ম্যালওয়্যার এসেছে পাকিস্তান বা উত্তর কোরিয়া থেকে

ম্যালওয়্যার এসেছে পাকিস্তান বা উত্তর কোরিয়া থেকে

ঢাকা, ১৫ মে- বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে ৫ কোটি ডলার উদ্ধার করা যেতে পারে। তবে এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে, জোরদারভাবে এ টাকা উদ্ধারের জন্য প্রচেষ্টা চালানো উচিত, রাজনৈতিক ছায়াতলে থেকে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা উচিত বলে মনে করেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন আহমদ।

রোববার (১৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে জমা দেয়া প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করেন তিনি।

হ্যাকাররা রিজার্ভ চুরির ক্ষেত্রে সুইফটের ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার ‘অ্যালায়েন্স একসেস’ থেকে ভুয়া মেসেজ পাঠানোর পর তার ট্র্যাক মুছে ফেলতে যে ম্যালওয়্যার চোরেরা ব্যবহার করেছিল, তা তৈরিও হয়েছে পাকিস্তানের ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যে কোনো একটি দেশে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন ফরাসউদ্দিন আহমদ। তবে কোন দেশে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি। ‘পরিকল্পিতভাবেই’ এই ম্যালওয়্যার বসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ম্যালওয়ার তৈরি হয়ে থাকে দুদেশে, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ায়। এর যেকোন একটি দেশে আলোচ্য ম্যালওয়্যারটি তৈরি হয়েছিল।

এসময় তিনি এ ঘটনার জন্য বেলজিয়ামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সুইফট দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্যও করেন তিনি। সেই সঙ্গে এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকেরও কিছুটা দায় আছে বলে মনে করেন তিনি।

তদন্ত কমিটির প্রধান ফরাস উদ্দিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বদনাম’ করার অপচেষ্টা হচ্ছে। আমরা এ সম্পর্কে তথ্য প্রমাণ যোগাড় করেছি, আমাদের কাছে যুক্তি আছে। ৪ ফেব্রুয়ারির যে দুর্ঘটনায় কত টাকা খোয়া গেছে তা নিয়ে বিতর্ক আছে। প্রায় ৯৫০ কোটি ডলার ডাকাতির চেষ্টা হয়েছিল। তার থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলারের অ্যাডভাইস চলে গিয়েছিল। ডাকাতি প্রচেষ্টায় চুরি হয়েছে যে টাকাটা ৮ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার ৬৩০ ডলার।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমত বলতে চাই এ ঘটনার জন্য প্রাথমিকভাবে সুইফট দায়ী। সুইফট এখন বলছে আমার কাজ হল সিস্টেম দেয়া, এর নিরাপত্তা বিধান করা ব্যবহারকারীর দায়িত্ব। আমি স্বীকার করলাম ঠিক আছে। কিন্তু সুইফট বা যে কোন লোক একটা সিস্টেম দিল। এ সিস্টেমকে সুরক্ষিত অবস্থায় দেয়া তার কর্তব্য এবং যদি সিস্টেমটিকে সুরক্ষিত অবস্থায় দিয়ে থাকে তাহলে মাঝপথে যেন অরক্ষিত করা না হয় সেটাও তার দায়িত্ব। এখানে ঘটনা যেটা হয়েছে, পঁচানব্বই সাল থেকে সুইফট খুব ভালোভাবে অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে সিস্টেমটা এ দেশে কার্যকর করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০১৫ সালের ৮ মার্চ তারিখে সুইফট বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি পত্র দেয়। পত্র দিয়ে তারা বলে, সুইফটকে আরটিজিএস সিস্টেমের সঙ্গে তারা সংযুক্ত করতে চাচ্ছে। ওই চিঠিটার মধ্যে তারা  উচ্ছ্বাস এবং তোষামোদ ছাড়া কোনো যুক্তি  ছিল না। এ কানেকশনটা করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কি লাভ হবে বা দেশের কি লাভ হবে এ রকম কোন যুক্তি ছিলনা। ওই চিঠি পাওয়ার পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী কমিটি আমি বলব দায়িত্বজ্ঞান ও কান্ডজ্ঞানহীনভাবে এটাকে অনুমোদন দেয়। কিন্তু ওই ওপেনিং কানেকশনটা করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল সুইফটের এবং এ কানেকশনটা করার আগে ১৩টা করণীয় ছিল। এর মধ্যে কোন কোনটা ছিল সুইফট করবে, কোনটা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং কোন কোনটা যৌথভাবে করার কথা ছিল।’

সুইফটের আগের মতো আর নিরাপত্তা নেই জানিয়ে সাবেক এই গভর্নর সম্প্রতি ভিয়েতনামের ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘তাদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যাপার যেটা আগে ছিল, সেটা এখন আর নাই। সম্প্রতি আপনারা দেখবেন এশিয়ার আরেকটি বড় দেশে একটি ব্যাংকে ঘটনা ঘটেছে, সেটা ভিয়েতনামে। কাজেই সুইফট যে বলছে সমস্ত বাংলাদেশের বা ব্যবহারকারীর দোষ এটা ঠিক নয়। এর মানে এ নয় আমরা সুইফটকে গালমন্দ করছি। আমরা বলছি যে সুইফটকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। তার দায়িত্ব আছে, দায় স্বীকার করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দ্বিতীয় হল ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিষয়। চার তারিখ রাত্রিবেলা সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাক অফিস থেকে আঠারটা ম্যাসেজ যায়। আঠারটা ম্যাসেজে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পেমেন্ট ইন্সট্রাকশন ছিল। তার মধ্যে চারটা ইন্সট্রাকশন ছিল বাসেল ব্যাংককে ২০ কোটি ডলার আমাদের বন্ড কেনার জন্য। ওইগুলোর মধ্যে তারা ১০টা ইমপ্লিমেন্ট করেছে, ৮টা রেখেছে তারা পরে করবে।

ওইদিন রাতের বেলা কে বা কারা এই সিস্টেমটাকে হস্তগত করে আরো ৩৫ থেকে ৭০টি ম্যাসেজ পাঠায় নিউইয়র্কে। প্রায় ৯৫০ কোটি পেমেন্ট স্থানান্তরের জন্য বাংলাদেশের নাম করে নির্দেশগুলো পাঠানো হয়। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা যারা, তারা পাঠিয়েছেন এ ধরনের কোনো প্রমাণাদি এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে আসে নাই।’

ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘এখন যেটা বড় প্রশ্ন সেটা হল ৪ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত সুইফট কোনো ম্যাসেজ রিকভার করে বাংলাদেশ ব্যাংকে দিতে পারে নাই। সুইফটের সিস্টেমটা কমপ্রোমাইজ হয়েছে। যদি কমপ্রোমাইজ না হত ৬ -৭ তারিখ বাংলাদেশ ব্যাংকে কী ম্যাসেজ পাঠিয়েছে, আর তাদের ওখানে কী ম্যাসেজ গেছে তা রিপ্রডিউস করে তারা পাঠাতে পারতো। দেড় মাসেও তারা কোন ইনফরমেশন রিকভার করে রিপ্রডিউস করতে পারে নাই। এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ, সুইফট সিস্টেম কমপ্রোমাইজ হয়েছে।’

আর/১৮:০৪/১৫ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে