Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-১৫-২০১৬

জিপিএ-৫ পেলো সাত দিনমজুরের ছেলেমেয়ে

রফিক মজিদ


জিপিএ-৫ পেলো সাত দিনমজুরের ছেলেমেয়ে

শেরপুর, ১৫ মে-  জেলার আলমগীর, শাহীন, রুবেল, নবী, নিতা, নমিতা ও শারমিন জিপিএ-৫ পেয়েছে এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায়। গত ১১ মে ঘোষিত ফলাফলে মেধা তালিকায় উঠেছে জেলার এই সাত শিক্ষার্থীর রোল নম্বর। শিক্ষাবোর্ডের মেধা তালিকায় নাম লিখিয়েছেন দিন-রাতের চেষ্টায়। কখনও খেয়ে অাবার কখনও না খেয়ে।

অসামান্য এ ফলাফলে দেশের আর হাজারো শিক্ষার্থীর মতো আনন্দিত হওয়ার কথা তাদেরও। আনন্দের এ ফলাফল নিয়েও উচ্ছ্বাস নেই, হতাশায় দিন কাটছে মেধাবী এ শিক্ষার্থীদের। তাদের স্বপ্নের উচ্চশিক্ষার পথে প্রধান বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে পরিবারের আর্থিক দৈন্যতা।

মেধাবী এ সাত শিক্ষার্থীর কারো বাবা ভ্যানচালক, কারো বাবা রিকশাচালক, কারো বাবা দিনমজুর, কারো বাবা মাছ বিক্রেতা। সম্পদ ও সম্বল বলতে একমাত্র থাকার ভিটে। যেটুকু আয় তা দিয়ে খেয়ে, না খেয়ে দিন চলে পরিবারের সদস্যদের। এর মধ্যে সন্তানের উচ্চশিক্ষা। সে তো ওই পরিবারের কাছে বিলাসিতার মতো। এতে মেধাবী এ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তাদের অভিভাবকরা।

জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলতৈল গ্রামের আলমগীর কবির এ বছর এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপজেলার এফ রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে। তার বাবা মজিবুর রহমান ওই গ্রামের একজন রিকশাচালক। একই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ঘাগড়া কোণাপাড়া গ্রামের শাহীন মিয়াও। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এ শিক্ষার্থীর বাবা আবু তালেব মিয়া পেশায় একজন দিনমজুর।

পার্শ্ববর্তী মালিঝিকান্দা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে হাতিবান্ধা গ্রামের রুবেল হোসেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অসামান্য ফলাফলের অধিকারী এ শিক্ষার্থীর বাবা মোজাফ্ফর আলী, তিনিও একজন দিনমুজুর। এ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া রুবেলের সঙ্গী আরো দুই শিক্ষার্থী। একজন একই গ্রামের নিতা রাণী দাস। মেধাবী এ শিক্ষার্থীর বাবা নেপাল চন্দ্র দাস একজন দিনমজুর। স্কুলের আরেক অদম্য মেধাবী নবী হোসেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া এ শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী ঘাঘড়া মারুয়া পাড়া গ্রামের। নবী হোসেনের বাবা আনছার আলী ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

একই উপজেলার নন্নী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে জিপিএ-৫ পেয়েছে শারমিন খাতুন। নন্নী পশ্চিম পাড়া গ্রামের বাসিন্দা শারমিনের বাবা আবু সাঈদ একজন মাছ বিক্রেতা। একই বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে নমিতা রাণী বর্মণ। একই গ্রামের বাসিন্দা নমিতা রাণী বর্মণের বাবা সুভাস চন্দ্র বর্মণ একজন দিনমজুর।

এ যাবৎ শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দরিদ্র ও অসহায় উন্নয়ন সংস্থা (ডপস্) সহায়তা দিয়ে আসছিল এ মেধাবীদের। ওই সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সহায়তার পরিমাণ খুব একটা বাড়াতে পারবে না তারা। তাই অভিভাবকদের চিন্তা এখন সন্তানের উচ্চশিক্ষা নিয়ে। পড়াতে পারবেন, নাকি থেমে যাবে এ অদম্যদের শিক্ষাজীবন।

মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করা এসব শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিজেদের চেষ্টায় এ ফলাফল করেছে। সবাই পিএসসি ও জেএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়ে এসেছে। এর মধ্যে আলমগীর হোসেন সমাপনীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং ঝিনাইগাতী উপজেলায় মেধা তালিকায় ষষ্ঠ হয়েছিল।

আর/১৮:০৪/১৫ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে