Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-১৩-২০১৬

আড়াই বছর পার, এখনো আসামি খুঁজছে পুলিশ

আশিক আহমেদ


আড়াই বছর পার, এখনো আসামি খুঁজছে পুলিশ

ঢাকা, ১৩ মে- প্রায় আড়াই বছর হয়ে গেছে রাজধানীর গোপীবাগের  আলোচিত সিক্স মার্ডার মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।  তাদের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু এই মামলায় আর কোনো গ্রেপ্তার যেমন নেই, তেমনি  পুলিশ এখনো দিতে পারেনি চার্জশিট।

পুলিশের বক্তব্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তির জবানবন্দি অনুযায়ী ডিবি অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে পারলে এই মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয়া হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে লুৎফর রহমান ফারুক ও অন্য পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহত লুৎফর নিজের একটি ধর্মীয় মতাদর্শ প্রচার করতেন, যা ইসলামি শরিয়তের পরিপন্থী ও বিপরীত।  ঘটনাস্থলে খুনিরা কোনো ধরনের ক্লু রেখে যায়নি। ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে তারা।

২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর গোপীবাগের আর কে মিশন রোডের ৬৪/৬ নম্বর বাড়ির দোতলায় লুৎফর রহমান ফারুক (৬০), তার ছেলে মনির হোসেন (৩০), অনুসারী সাইদুর রহমান (৩০), মজিবর রহমান (৩২), রাসেল (৩০) ও বাসার তত্ত্বাবধায়ক মঞ্জুর আলম ওরফে মঞ্জুকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন ওয়ারী থানায় অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন  লুৎফর রহমানের ছোট ছেলে আবদুল্লাহ আল ফারুক। ওই দিনই থানা পুলিশের কাছ থেকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।  এর প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ডিবির পরিদর্শক আবুল খায়ের।  তিনি প্রায় দেড় বছর আগে বদলি হয়ে গেলে এখন মামলাটি তদন্ত করছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. কবির হোসেন।

প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, কারাগার থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) চার সদস্যকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা হলো গোলাম সারওয়ার রাহাত, আজমির অমিত, সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম জিতু ও আল আমিন। পরে তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে ওই জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, প্রায় আড়াই বছর হয়ে গেলেও এখনো হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। শুরু থেকেই মামলার তদন্ত চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আবদুল্লাহ আল ফারুক আরো বলেন, “মামলার তদন্তের স্বার্থে আমি ডিবি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছি। এই হত্যাকাণ্ডের  যেন সুষ্ঠু তদন্ত হয় এবং আসামিরা যেন ধরা পড়ে, সেই আশায় তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি।”

মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (পরিদর্শক) মো. কবির বলেন, এই মামলায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন-  মো. তরিুকুল ইসলাম ও আবদুল গাফফার। তাদের মধ্যে তরিকুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তরিকুলের জবানবন্দি অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে আটজন অংশ নেয়। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এদের গ্রেপ্তার করতে পারলে এই মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হবে। তরিকুলের দেওয়া তথ্যমতে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমরা ধারণা করছি। তবে নিহত লুৎফর রহমানের বাসায় আসামিদের আগেও যাওয়া-আসা ছিল বলে মনে হচ্ছে।”

২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর পুরান ঢাকার গোপীবাগের সিক্স মার্ডারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেশে ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে আলোচিত হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডে পুলিশ এখনো কাউকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারেনি।

জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা বলেন,  আসামিকে পলাতক দেখিয়েও পুলিশ অভিযোগপত্র দিতে পারে। পলাতক অবস্থায়ও বিচারের প্রভিশন রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে লাভ হয় না। এ জন্য পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে অভিযোগপত্র দিতে চায়।  আসামি জেলখানায় থাকা অবস্থায় তার বিচার হলে সুবিধা বেশি হয়।

এফ/০৯:১৭/১৩মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে