Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-১৩-২০১৬

মেনকাকেই রাজনীতিতে নামাতে চেয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী

মেনকাকেই রাজনীতিতে নামাতে চেয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী
মেনকা গান্ধী।

নয়াদিল্লি, ১৩ মে- ছোট ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর মৃত্যুর পর পুত্রবধূ মেনকা গান্ধীকেই রাজনীতিতে নামাতে চেয়েছিলেন ভারতের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। কিন্তু তখন মেনকা এমন কিছু মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন, যাঁরা তাঁর বড় ছেলে রাজীব গান্ধীর প্রচণ্ড বিরোধী ছিলেন। আর সেই কারণেই ইন্দিরার থেকে দূরে সরে যেতে হয় মেনকাকে।

কোনারর্ক পাবলিকেশনের সদ্য প্রকাশিত ‘দি আনসিন ইন্দিরা গান্ধী’ নামক একটি বইতে এমনটাই লিখেছেন ইন্দিরা গান্ধীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক কেপি মাথুর।

২০ বছর ধরে ইন্দিরা গান্ধীর চিকিৎসক থাকা মাথুর তাঁর ১৫১ পৃষ্ঠার বইতে লিখেছেন,  ইন্দিরা চেয়েছিলেন মেনকা রাজনীতিতে তাঁকে সহায়তা করুক। যদিও রাজীব গান্ধীর স্ত্রী সোনিয়াকেই বেশি ভালোবাসতেন ইন্দিরা। তারপরও সঞ্জয়ের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী মেনকাকে কাছে টেনে নিতে চেয়েছিলেন তিনি।

গান্ধী পরিবারে গৃহস্থালীর দিকটি দেখাশোনা করতেন সোনিয়া গান্ধী। কিন্তু মেনকার যথেষ্ট রাজনৈতিক বুদ্ধি ছিল বলেই মনে করতেন ইন্দিরা গান্ধী। কিন্তু মেনকা এমন সব লোকজনের সঙ্গে মিশতেন যাঁরা সোনিয়ার স্বামী তথা ইন্দিরার বড় ছেলে রাজীব গান্ধীর বিপক্ষে ছিলেন। আর এই রাজীব বিরোধিতাই ধীরে ধীরে ইন্দিরা থেকে মেনকাকে দূরে সরিয়ে দেয়।

মাথুর লিখেছেন, সঞ্জয় গান্ধীর মৃত্যুর পর মেনকার প্রতি নরম মনোভাব দেখান ইন্দিরা গান্ধী। কিন্ত স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি সঞ্জয় বিচার মঞ্চ তৈরি করেন। শোনা যায়, সেই মঞ্চের প্রায় সবাই রাজীববিরোধী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই মঞ্চ কনভেনশনের আয়োজন করলে ইন্দিরা বারণ করেন। ইন্দিরা বিদেশ সফরে থাকাকালীন চিঠি দিয়ে ওই কনভেনশন বাতিল করতে বলেছিলেন মেনকাকে। কিন্তু ইন্দিরার বারণ উপেক্ষা করে লখনৌতে সেই কনভেনশন হয়। ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সকালে ইন্দিরার সঙ্গে কথা বলেছিলেন কেপি মাথুর।

মাথুরের ওই বই থেকে জানা যায়,  রাজীব গান্ধীর সঙ্গে বিয়ের পরই শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধীর স্নেহভাজন হয়ে ওঠেন সোনিয়া। ইন্দিরাকে ভীষণ সম্মান দিতেন সোনিয়া। এ কারণে সোনিয়াকে গৃহস্থালীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বইতে মাথুর লিখেছেন, রোববারসহ অন্যান্য ছুটির দিনে বই বিশেষ করে প্রখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী পড়ে ইন্দিরা গান্ধী সময় কাটাতেন। কখনো কখনো তাস খেলতেন। তাঁর প্রিয় তাস খেলা ছিল কালি মাম...।

১৯৬৬ সালে ভারতের প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম দুই বছর ইন্দিরা গান্ধী কতটা টেনশনে ছিলেন সে কথাও তুলে ধরা হয়েছে এই বইতে। ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশজুড়ে যে অশুভ জরুরি অবস্থা জারির এবং তখন হাজার হাজার মানুষকে কারাগারে পাঠানোর কাহিনীও তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। একই সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর  সাহসিকতা ও দৃঢ় সংকল্পের দিকটিও প্রকাশ পেয়েছে।

মাথুর আরো লেখেন, ১৯৭৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিহারের প্রত্যন্ত গ্রাম বেলচি পরিদর্শনের কথা ভেবেছিলেন ইন্দিরাজী। এই গ্রামে উঁচু জাতের হাতে খুন হতে হয়েছিল নীচুজাত হরিজন সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন মানুষকে। কিন্তু বর্ষাকালে যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। যদিও পরবর্তী সময়ে সাহসিকতা ও সংকল্পতার কারণে হাতির পিঠে চেপে বেলচি গ্রামে পৌঁছান ইন্দিরা।

এফ/০৮:৫০/১৩মে

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে