Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-১২-২০১৬

টাকার হিসাব না দিয়ে ‘চম্পট’ দিচ্ছিলেন পাকিস্তানি প্রিন্সিপাল

সালাউদ্দিন ওয়াহিদ প্রীতম


টাকার হিসাব না দিয়ে ‘চম্পট’ দিচ্ছিলেন পাকিস্তানি প্রিন্সিপাল

ঢাকা, ১২ মে- কাউকে কিছু না জানিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনা টাকার হিসাব না দিয়ে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে ‘চম্পট’ দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিদেশি এক স্কুলের ঢাকা শাখার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

ইয়াসমিন রাজভী (৬০) নামের ওই শিক্ষক ‘দি সিটি স্কুল ইন্টারন্যাশনাল’-এর বাংলাদেশ শাখার অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন। ঢাকার গুলশান ২ নম্বরে ২০০৩ সাল থেকে পরিচালিত হচ্ছে ওই স্কুল। পাকিস্তান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া এবং ফিলিপিন্সেও এই স্কুলের শাখা রয়েছে, যার মূল কার্যালয় দুবাই।

স্কুলের বেশ কয়েকজন ক্ষুব্ধ শিক্ষক ও অভিভাবক বুধবার রাত থেকে ইয়াসমিনের বারিধারার বাসার সামনে অবস্থান নিয়ে থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে গুলশান থানায় ‘ধরে নিয়ে’ যান।

সেখানে তারা অভিযোগ করেন, তাদের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা না করে প্রায় দেড় কোটি টাকার হিসাব না দিয়ে স্কুল বন্ধ করে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন ইয়াসমিন।

ঢাকায় পাকিস্তানের হাই কমিশন এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছিল বলেও অভিযোগ তাদের।

গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম সন্ধ্যায় বলেন, “এ ঘটনা নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও পাকিস্তান হাই কমিশনের প্রতিনিধিরা বৈঠক করছেন। তারা যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তা-ই হবে।”

গুলশান থানায় উপস্থিত অভিভাবক আকবর হোসেন বলেন, “গতকাল সকালে বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ফোনে আমাদের জানান যে, এই নারী স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।

“আমরা কয়েকজন বুধবার সকাল ১১টার দিকে স্কুলে গিয়ে তার (ইয়াসমিন রাজভী) সঙ্গে দেখা করি। তখন তিনি আমাদের বলেন, এসব কথা সত্য নয়, মিথ্যাচার।”

অধ্যক্ষ ইয়াসমিনের কথা ‘বিশ্বাস করে’ চলে আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “দুপুরের দিকে স্কুলের অ্যাডমিন থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একই কথা বলা হয়।

“এবার আমরা বেশ কয়েকজন অভিভাবক পুনরায় স্কুলে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে আমাদের প্রশ্নে মুখে তিনি স্বীকার করেন, স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং তিনি পাকিস্তানে ফিরে যাচ্ছেন।”

ভর্তির সময় স্কুলটির তহবিলে ২০ হাজার টাকা জমা দিতে হয় জানিয়ে আকবর হোসেন বলেন, “এই টাকা ফেরতযোগ্য।”

তিনি বলেন, বছরের মাঝামাঝি অন্য কোনো স্কুলে বাচ্চাদের ভর্তি করার সমস্যা নিয়েও অধ্যক্ষ ইয়াসমিনের সঙ্গে তাদের কথা হয়।

“আমরা এ বিষয়টি তাকে জানালে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে টাকা ফেরত দেওয়া হবে এবং বাচ্চাদের যেন অন্যান্য স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা হয় সে ব্যবস্থা তিনি করে যাবেন। কিন্তু আমরা এ বিষয়ে তার কাছে পাকিস্তান হাই কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে লিখিত প্রতিশ্রুতি দাবি করলে তা দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।”

ওমর শরীফ নামের আরেকজন অভিভাবক বলেন, “এরপর আমরা বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে স্কুলে অবরুদ্ধ করে রাখি। সন্ধ্যা ৭টার পরে পাকিস্তান দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন।

“সমস্যার সমাধান হবে- তিনি আমাদের এমন আশ্বাস দিয়ে অধ্যক্ষকে এসকর্ট করে তার বারিধারা ডিওএইচএস এর বাসায় পৌঁছে দেন। আমরাও তার সঙ্গেসঙ্গে তার বাসা পর্যন্ত যাই।”

তিনি অভিযোগ করেন, এরপর অগ্রগতি জানতে চাইলে পাকিস্তান হাই কমিশন এ বিষয়ে কোনো দায় নেবে না বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

“রাত ৮টার দিকে আমরা যখন ওই কর্মকর্তাকে ফোন করে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলাম তখন তিনি বললেন, এ ব্যাপারে কোনো দায়-দায়িত্ব হাই কমিশন নেবে না। এরপর আমরা সারারাত ওখানে অবস্থান করে আজ দুপুরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি।”

প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসন শাখার কর্মকর্তা ফাইয়াজ আহমেদ জানান, এই স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৩০০ জন। শিক্ষক আছেন ৪৫ জন এবং স্টাফ ১৫ জন।

অধ্যক্ষ ইয়াসমিন শিক্ষার্থীদের পাওনা, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও প্রভিডেন্ট ফান্ড, স্কুলের অস্থাবর সম্পত্তিসহ প্রায় দেড় কোটি টাকার হিসাব না দিয়েই চলে যাচ্ছিলেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, “গত শনিবার দুবাই হেড অফিস থেকে একজন ডিরেক্টর আমাদের স্কুলে এসেছিলেন। তার নাম এম এ আতিক।

“তিনি আমাদের বলেছিলেন, এখানে স্কুল চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এরপর বুধবারই আমরা সব জানতে পারি।”

আর/১০:২৪/১২ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে