Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-১১-২০১৬

বিশ্ব কৃপণ হেটি গ্রীন- ওয়াল স্ট্রীটের পিশাচিনী

আফসানা সুমী


বিশ্ব কৃপণ হেটি গ্রীন- ওয়াল স্ট্রীটের পিশাচিনী

হেটি গ্রীন ছিলেন একজন পরিচিত মুখ। দুঃখী দুঃখী চেহারা করে, ছেঁড়া কাপড়ে ঘুরে বেড়াতেন তিনি নিউয়র্কের রাস্তায়। সবাই কিছু না কিছু অর্থ সাহায্য করত গরীব এই দুঃখিনীকে। তাকে সবাই ডাকত, “The Witch of Wall Street”। কিন্তু সাধারণ মানুষ জানতেন না, হেটি ছিলেন ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের মালিক! 
 
হেটি জন্মেছিলেন সম্পদের মাঝে। ধর্নাঢ্য পরিবারের কন্যা হেটি ছোটবেলা থেকে স্টক মার্কেটের রিপোর্ট শুনতেন বাবার কাছ থেকে, এমনভাবে যেভাবে বাচ্চারা শোনে রূপকথার গল্প। অল্প বয়স থেকেই বাবার টাকা সামলেছেন তিনি।
 
হেটি যেন টাকাকে আকর্ষণ করতেন চুম্বকের মত। তিনি প্রচুর স্থাবর সম্পত্তির লেনদেন করেছেন, কেনাবেচা করেছেন রেলপথ এবং প্রচুর ঋণ করেছেন। তিনি নিজের উনতির পথ গড়েছেন অপরের অবণতির উপর দাঁড়িয়ে। তিনি কিনতেন পড়ে যাওয়া স্টক, বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠান এমনকি একটা পুরো ব্যাংক, পুরো শহর। তাকে বলা যায় চরম কৌশলী ব্যবসায়ী। আবার বলতে পারেন ঋণ খাদক হাঙ্গর।
 
৩৩ বছর বয়সে হেটি বিয়ে করেন এবং ২ সন্তানের জননী হন। কিন্তু তার বিয়ে বেশীদিন টেকে নি। এত সম্পদ থাকার পরও হেটি থাকতেন ভাড়া বাসায়। তার মেয়ে সিল্ভিয়ে নিজের মতোই থাকতেন, মায়ের সাথে তেমন ঘনিষ্ঠতা ছিল না তার। কোন রকম জামা-কাপড় পরতেন সিল্ভিয়া আর পাশের ঘরের কটে ঘুমাতেন। হেটির ছেলের অবস্থা ছিল আরও খারাপ। কিশোর বয়সে তার গুরুত্বর এক্সিডেন্ট হয়। পায়ে ভীষণ ব্যাথা পায় সে। হেটি তাকে নিয়ে যান শহরের ফ্রি ক্লিনিকে। দূর্ভাগ্যবশত ডাক্তার যখন টাকা চাইলেন চিকিৎসা না করিয়েই তিনি ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে এলেন। পায়ের অবস্থা এতোই খারাপ হয় যে, পা কেটে ফেলতে হয় তার।
 
নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারেও তার এই কৃপণতার প্রভাব ছিল মারাত্মক। তিনি কখনোই গরম পানি ব্যবহার করতেন না। একটি মাত্র কালো পোশাক ছিল তার, পরতেন কালো অন্তর্বাস দিয়ে। একমাত্র তখনই পোশাক বদলাতেন যখন সেটি পরার অযোগ্য হয়ে যেত। তিনি খেতেন শুধু পাই, খরচ হত মাত্র ১৫ সেন্ট। কথিত আছে তিনি মাত্র ২ সেন্ট খুঁজতে খুঁজতে পার করে দিয়েছিলেন সমস্ত রাত। তিনি তার কাপড়ের শুধু সবচেয়ে নোংরা অংশ ধুতে দিতেন, যাতে ডিটারজেন্টের খরচ বাঁচে।
 
তার অফিস ছিল সিবোর্ড ন্যাশনাল ব্যাংকের অফিসে। ট্রাঙ্ক, কাগজপত্র, স্যুটকেসের ভিড়ে বসে কাজ করতেন তিনি। নিজের অফিসের জন্য ভাড়া যাতে দিতে না হয়। কথিত আছে, তিনি শুধু ওটমিল খেতেন অফিসের রেডিয়েটরে গরম করে।
 
তার সময়ে নারী ব্যবসায়ী তেমন কেউ ছিল না। কিন্তু তিনি ছিলেন কঠিন কৌশলী ব্যবসায়ী। হাজারো মাইল একাই তিনি পাড়ি দিতেন ব্যবসার প্রয়োজনে। যেখানে অন্য নারীরা সেসময় ঘর থেকে বের হতেও ২ বার ভাবতেন। তার কাছ থেকে সামান্য ক'টা ডলার ঋণ নিলেও কোন ছাড় ছিল না। যেভাবেই হোক খুঁজে বের করে টাকা আদায় করতেন।
 
তিনি ৮১ বছর বয়সে মারা যান। তার মৃত্যুর পর সম্পদের মালিক হন তার ছেলে মেয়ে। কিন্তু সিলভিয়ার এতে কোনই আগ্রহ ছিল না। সে আগের মতোই জীবনযাপন করতে থাকে। ভাই লেড সম্পদের দায়িত্ব হাতে তুলে নেন। মৃত্যুর সময় আবার তিনি তা দিয়ে যান বোনকে। সিলভিয়া তার মৃত্যুর সময় অবশিষ্ট টাকা দান করে যান। ৪৪৩ মিলিয়ন টাকা।
 
লিখেছেন- আফসানা সুমী

এফ/০৯:১৭/১১মে

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে