Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-১০-২০১৬

উটের ডিএনএতে রয়ে গেছে প্রাচীন বাণিজ্য পথ

উটের ডিএনএতে রয়ে গেছে প্রাচীন বাণিজ্য পথ

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করার সময় কোন কিছু বাদ দেন না। উটের ওপরে করা নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, উটের জিনগত পরিবর্তন হয়েছে প্রাচীনকালে বানিজ্য কাজে তাদেরকে যে পথে যাতায়াত করানো হত তার উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ প্রাচীন সেই ট্রেড রুট বা বাণিজ্য পথ উটের ডিএনএতে এখনো রয়ে গেছে।       

একটা সময় ছিল যখন মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যে জাহাজ, বিমান, গাড়ি ব্যবহার করতো না। মানুষের বাহন ছিল ঘোড়া, গাধা এবং উট। বিশেষ করে আরব রাজ্যে উট ছিল প্রধান বাহন। যে কারণে উটকে বলা হয় মরুভূমির জাহাজ। আরব দেশ যে উটগুলো দেখা যায় সেগুলোকে বলে ড্রোমডারি ক্যামেল বা অ্যারাবিয়ান ক্যামেল।


এই উটের ওপরই গবেষণাটি করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আরব দেশের এক কুঁজওয়ালা এক হাজার উটের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করেছেন। দেখা গেছে শত শত মাইল দূরের উটের ক্ষেত্রেও জিনগত মানচিত্র প্রায় একই রকম। গবেষকরা ব্যাখ্যা করে বলেছেন, শত শত বছর ধরে এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশের যাতায়াতের ফলে উটদের জিনগত পার্থক্য প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনটি ন্যাশনাল একাডেমী অব সায়েন্সের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং গবেষক দলের একজন অলিভার হ্যানোট বিবিসিকে বলেছেন, কেন ড্রোমডারি উটের জিনের চিত্র এমন বিস্ময়কর সেটা জানতে হলে এই উটের সাথে মানুষের ইতিহাস জানতে হবে।  

তিনি বলেন, ‘এরা মানুষের সাথে যাতায়াত করতো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে। কাজেই এই উটকে নিয়ে গবেষণা করে আসলে আমরা আমাদের নিজেদের অতীত চিহ্ন নিয়েও গবেষণা করতে পারবো।’

এই চিহ্ন খুঁজে পাওয়ার জন্যই গবেষকরা এক হাজার উটের ডিএনএ নমুনার সাথে আরব দেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যকার উটের নমুনা মেলাতে শুরু করেন। বিশেষ করে পশ্চিম আফ্রিকা, পাকিস্তান, ওমান এবং সিরিয়া।


ড্রোমডারি উটকে প্রায় ৩ হাজার বছর আগে গৃহপালিত পশু হিসেবে গ্রহণ করেছিল মানুষ। এমনকি গত বিংশ শতক পর্যন্ত উত্তর আফ্রিকা ও আরব উপমহাদেশের মরুভূমিতে উটকে ব্যবহার করা হয়েছে একমাত্র বাহন হিসেবে।

মানুষ উটের পিটে দরকারি মাল চাপিয়ে শত শত মাইল পাড়ি দিয়েছে এক সময়। একসময় তারা যখন ভূমধ্য সাগর তীরে পৌঁছেছে তখন এই প্রাণীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তখন মানুষ ক্লান্ত উটদের সেখানে রেখে নতুন উট নিয়ে যাত্রা করেছে ফিরতি পথে। অধ্যাপক হ্যানোট বলেছেন, এতে করে জিনগত মিশেল তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে মিল।


উটেরা ভিন্ন পরিবেশে এমন জায়গায় গিয়েছে যেখানে তাদের যাওয়ার কথা ছিল না। এতে করে পরিবেশ পরিবর্তনের মুখে ড্রোমডারি উটের টিকে থাকার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্যানোট বলেন, ‘উদাহরণস্বরূপ জলবায়ু পরিবর্তনের কথা ধরা যাক। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অনেক জায়গাই প্রাণীদের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। কিন্তু এই চরম অবস্থায় টিকে থাকার জন্য উট বিবর্তিত হয়েছে। উট এখন অন্য গৃহপালিত প্রাণীদের স্থান দখল করতে পারবে, দিতে পারবে দুধ ও মাংস।’        
তথ্যসূত্র : বিবিসি

আর/১০:৩৪/১০ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে