Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-১০-২০১৬

ভারতে মুসলিমদের মধ্যেও রয়ে গেছে বর্ণপ্রথা

ভারতে মুসলিমদের মধ্যেও রয়ে গেছে বর্ণপ্রথা

নয়া দিল্লী, ১০ মে- ভারতের একটি বঞ্চিত এবং অবহেলিত সম্প্রদায় হচ্ছে দেশটির দলিতরা। এই সম্প্রদায়ের সদস্যদের অস্পৃশ্য বলে মনে করে দেশটির অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা। মনে করা হয়, দলিতদের স্পর্শ করা পাপ। এক ধরনের দুঃসহ জীবনযাপন করতে হয় এই সম্প্রদায়ের সদস্যদের। সম্প্রদায়টির অবিসংবাদিত নেতা ড. ভিমরাও আম্বেদকর বলছিলেন, অস্পৃশ্যতা দাসত্বের চেয়েও যন্ত্রণাদায়ক।

এক সময় ভারতে দলিতদের  বলা হতো ‘অচ্ছুত’। দেশটির সবচেয়ে হতভাগা সম্প্রদায়ের একটি দলিত। কারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের অসহনীয় বর্ণপ্রথা অনুসারে, তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে ঈশ্বরের পায়ের অংশ থেকে। ভারতের হিন্দুদের মধ্যে অস্পৃশ্যতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেলেও এবং এটা হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বিতর্কিত প্রথা হলেও দেশটির মুসলিমদের মধ্যে এ প্রথাটি খুব কমই আলোচনায় এসেছে।

এর একটি কারণ হতে পারে, ইসলাম বর্ণবাদ প্রথাকে স্বীকৃতি দেয় না; বরং মানুষের মধ্যে এক ধরনের সাম্য এবং সমতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ভারতের ১৪ কোটি মুসলিমের সবাই ধর্মান্তরিত নিম্নবর্ণের হিন্দু। তাদের অনেকেই হিন্দু ধর্মের এই বর্ণপ্রথা থেকে বাঁচতে ইসলাম গ্রহণ করেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বর্ণবাদের ধারণাটি তাদের মধ্যে রয়েই গেছে।

পিছিয়ে পড়া মুসলিমদের একটি সামাজিক সংগঠনের নেতা ইয়াজ আলি জানান, ধর্মান্তরিত এসব মুসলিমের বংশধররাই পরবর্তীতে একটি বিরাট জনগোষ্ঠি সৃষ্টি করেছে, যাদের ৭৫ ভাগই ভারতে দলিত মুসলিম বলে আখ্যায়িত। এই সম্প্রদায়টি নিয়ে গবেষণা করা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. আফতাব আলম বলেন, ‘ভারতের এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্য অনেক দেশের মুসলিমদের এখনো বর্ণপ্রথাভেদে বিচার করা হয় এবং অস্পৃশ্য মনে করা হয়। অস্পৃশ্যতা এই সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ এবং সবচেয়ে গোপন প্রথা।’

গবেষণা দেখা যায়, মুসলিমদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যেও মানুষকে বর্ণপ্রথার আলোকে পবিত্র কিংবা অপবিত্র, শুচি কিংবা অসুচি মনে করা হয়। ভারতীয় গবেষক আলি আনোয়ার জানান, দলিতদের হিন্দু সমাজে যেমন ‘অস্পৃশ্য’ বলে অভিহিত করা হয় তেমনি মুসলিম সমাজে তাদের বলা হয় ‘আজরাল’ অর্থাৎ, নিচু শ্রেণির লোক। ২০০৯ সালে ড. আলমের এক গবেষণায় দেখা যায়, ভারতের প্রধান চারটি মুসলিম সংগঠনের সবগুলোই ‘উঁচু বর্ণ’র লোকেরা নিয়ন্ত্রণ করে।

সম্প্রতি আরো একটি গবেষণায়ও দেখা যায়, ভারতের মুসলিমদের মধ্যেও বর্ণপ্রথা বেশ প্রকট। দেশটির জনবহুল উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের ১৪টি জেলার প্রায় সাত হাজার পরিবারের ওপর ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চালানো ওই গবেষণায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বর্ণপ্রথার বিষয়টি উঠে আসে।

গবেষণায় উঠে আসে: অ-দলিত সম্প্রদায়ের কোনো উৎসবে দলিত মুসলিমদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না। দীর্ঘদিনের সামাজিক বিভাজনের ফলেই এটি সৃষ্টি হয়েছে। যৌথ কোনো উৎসবে অ-দলিত মুসলিমদের বসতে দেয়া হয় আলাদা আসনে। এমনকি খাবারের ক্ষেত্রেও আছে বৈষম্য। অ-দলিতরা খেয়ে যাওয়ার পরই কেবল খেতে বসতে পারে দলিত মুসলিমরা। তাদের জন্য থাকে আলাদা থালার ব্যবস্থা।

গবেষণা জরিপে আট শতাংশ দলিত মুসলিম জানান, স্কুলের শ্রেণিকক্ষে তাদের সন্তানদের আলাদা বেঞ্চে বসতে দেয়া হয়। দলিতদের তিন ভাগের একভাগ জানান, ‘উচ্চ বর্ণ’র লোকদের কবরস্থানে দলিত সম্প্রদায়ের লোকদের কবরও দিতে দেয় না। তাদের হয় অন্য কোথাও মৃতদেহ সমাধিস্থ করতে হয়, অথবা মূল সমাধিক্ষেত্রের এক কোণায় কবর দিতে হয়।

তবে প্রার্থনার ক্ষেত্রে খুব একটা বৈষম্য করা হয় না বলে জানান দলিত মুসলিমরা। একই মসজিদে নামাজ পড়তে পারেন তারা। অনেক দলিত মুসলিমই মনে করেন, চাকরির ক্ষেত্রেও তাদের নীচু মানের চাকরি দেয়া হয়। চারভাগের একভাগ দলিত মুসলিম জানান, উচ্চবর্ণের মুসলিমরা সব সময়ই তাদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন।

ভারতের প্রায় সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেই বর্ণপ্রথা বিষয়ক ধারণাটি বিদ্যমান। ব্যতিক্রম শুধু পার্সি সম্প্রদায়। উপর্যুক্ত গবেষণা থেকে আমরা যে নৈতিক ধারণাটি টানতে পারি তা হলো: ভারতে আপনি বর্ণপ্রথা বিদায় করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে বর্ণপ্রথা কিন্তু আপনাকে ছাড়বে না!

আর/১৭:৩৪/১০ মে

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে