Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-০৯-২০১৬

দ্বন্দ্ব-সংঘাত: ছন্নছাড়া তৃণমূল আ’লীগ

দ্বন্দ্ব-সংঘাত: ছন্নছাড়া তৃণমূল আ’লীগ

ঢাকা, ০৯ মে- ইউনিউয়ন পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপ শেষ, আসন্ন পঞ্চম ও শেষ বা ৬ষ্ঠ ধাপ। এরই মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৮০ জন এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজারেরও অধিক মানুষ। ভাঙচুর করা হয়েছে হাজারেও অধিক ঘর-বাড়ি। এসব কিছুর শিকার হয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাই।

আন্তঃদ্বন্দ্ব সংঘাতে ছন্নছাড়া তৃণমূল আওয়ামী লীগ। প্রধান বিরোধী দল বিহীন নির্বাচনী মাঠে নিজেরাই নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিদ্রহী। এই আত্মঘাতী আচরণ অতীতের সকল নির্বাচনী সহিংসতাকে হার মানিয়েছে বলেই মত দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এত প্রাণ যাওয়ার পরেও বিষয়টিকে এখন পর্যন্ত তেমন গুরুত্বের সাথে নিতে দেখা যায়নি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলটিকে। গত ৭ মে ধানমন্ডিস্থ দলের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ দাবি করেন, ‘এসব সহিংসতা একেবারেই নগন্য । আর নির্বাচনে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর’। তৃণমূলে প্রার্থী বাছাইয়ে ভুলের কারণেই বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি এমন অভিযোগ মানতে নারাজ আওয়ামী লীগের এই সম্পাদক।

অপরদিকে প্রতি-ধাপের নির্বাচনের পরেই কমিশন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে’ বলে দাবি করেন। ৮০ জনের মৃত্যুর পরেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আর কত প্রাণ গেলে নির্বাচন কমিশন কিংবা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের টনক নড়বে?

দলটির তৃণমূল থেকে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কিছু প্রভাবশালী নেতাদের ইন্ধনে এসব বিদ্রোহীদের জন্ম। প্রথম ধাপে ৭৫২টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ৪০০ ও দ্বিতীয় ধাপে ৭১০টি ইউনিয়ন পরিষদে ৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে বিদ্রোহীর সংখ্যা। এতে নির্বাচনের পূর্বে ও পরে দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘটেছে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, ‘কয়েক হাজার ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক যোগ্য প্রার্থী আছে। অতিরিক্ত আবেগ থেকেই এসব হচ্ছে। তবে যারা দলের কমাণ্ড মানেনি তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের পরে দল ব্যবস্থা নিবে’। স্থানীয় সাংসদ ও প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে তাঁর দল সচেতন অবস্থানে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে ৪র্থ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় ৭ জনের মৃত্যুর পরদিন গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দাবি করেন, ‘ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা হয়েছে’। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেছে বলেও দাবি মন্ত্রীর।

তবে নিজেদের মধ্যেই এসব সংঘাত সহিংসতার বিষটি গণমাধ্যমে এড়িয়ে গেলেও এর দায় কতটুকু এড়াতে পারে ক্ষমতাসীন এ রাজনৈতিক দলটি? আশি থেকে নব্বই এর দশকে এরশাদের শাসনামলে প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় ৬৫ জন নিহত হয়েছিল। বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকের এই স্থানীয় নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ৮০ জনের প্রাণহানির ঘটনা একদিকে যেমন ন্যাক্কারজনক ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে, অপরদিকে দলের তৃণমূলের সার্বিক অব্যবস্থাপনার দিকটিই উঠে এসেছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘একে অপরকে দোষারোপের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির বলয় আমাদের দেশে গড়ে উঠেছে তাঁর কারণেই সংঘাত-সহিংসতা আরো আস্কারা পাচ্ছে। এ বিষয়ে দলগুলোকে আরো গঠনতান্ত্রিক হতে হবে’।

বিরোধীদের ভোটের মাঠ থেকে হটিয়েছে এমনটাই তাদের অভিযোগ। কিন্তু সেই ফাকা মাঠে নিজেরাই কেন এই ভয়ানক ইতিহাসের জন্ম দিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তৃণমূল? তাহলে কি তৃণমূলে প্রভাবশালী এই দলটির যাবতীয় নির্দেশনা ফিকে? নয়তো কেন এই ছন্নছাড়া অবস্থা তৃণমূলের? এমন হাজারো প্রশ্ন এখন দলটির দিকে।

আর/১০:১৪/০৯ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে