Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-০৯-২০১৬

দিল্লি চায় এ বছরেই হোক শেখ হাসিনার ভারত সফর

রঞ্জন বসু


দিল্লি চায় এ বছরেই হোক শেখ হাসিনার ভারত সফর

ঢাকা, ০৯ মে- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন চলতি বছরেই ভারত সফর করেন, তা ভীষণভাবে চায় দিল্লি। ২০১৬-র মধ্যেই যত দ্রুত সম্ভব যেন শেখ হাসিনার ভারত সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা যায়, এর জন্য ঢাকাকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর এই সফর দ্রুত আয়োজনের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপদস্থ সূত্রে  এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্রটি এ সপ্তাহে জানিয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর অনেকদিন ধরে হবে হবে করেও হচ্ছে না (ওভারডিউ)। কিন্তু আমরা চাইছি না, এই সফর আর বেশি বিলম্বিত হোক, এমনকি প্রধানমন্ত্রী মোদিও শিগগিরই শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে দেখতে চান। ফলে আমরা ঢাকার সঙ্গে আলোচনা করে দুপক্ষের জন্য সুবিধাজনক একটা তারিখ দ্রুত স্থির করার চেষ্টা চালাচ্ছি।’

আসলে শেখ হাসিনা ভারত সফরের জন্য নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ গ্রহণ করে রেখেছেন অনেক দিন আগেই। গত বছরের জুন মাসে নরেন্দ্র মোদি তার ঐতিহাসিক ঢাকা সফরে এসেছিলেন, তারপরও প্রায় বছর ঘুরতে চলল। ভারত সরকার ভীষণভাবে চাইছে, গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় (ভুটানকে বাদ দিলে) যে দেশটির সঙ্গে তাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের সম্পর্ক—সেই বাংলাদেশের সরকার প্রধানও এবার দিল্লিতে পাল্টা সফরে আসুন। আর সে কারণেই তাড়াতাড়ি শেখ হাসিনার সফর চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকাকে ‘মৃদু তাগাদা’ দিয়েছে ভারত।

তবে, ভারত সফর নিয়ে শেখ হাসিনা কেন তাড়াহুড়ো করছেন না—সেটাও দিল্লির অজানা নয়। দিল্লিতে সাউথ ব্লকের কর্মকর্তারা বলছেন, তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও অগ্রগতি না হলে যে শেখ হাসিনার ভারত সফর অসম্পূর্ণ থেকে যাবে এবং বাংলাদেশে সেই সফরের কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না—এটা জানা আছে বলেই বাংলাদেশে তড়িঘড়ি এই সফর আয়োজনে এতদিন কোনও আগ্রহ দেখায়নি। অনেকটা একই কারণে ভারতের পার্লামেন্টে স্থল সীমান্ত চুক্তি পাস হওয়ার আগে নরেন্দ্র মোদিও ঢাকা সফরে যেতে চাননি, গত বছর ওই চুক্তি অনুমোদনের পরই তিনি সগর্বে বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন। কিন্তু তিস্তা নিয়েও এখন একটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

ভারতে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সূত্রগুলো বলছে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে তিস্তা নিয়ে জট যে খুলবে না, সেটা দিল্লির যেমন জানা ছিল, তেমনি ঢাকাও সেটা অনুধাবন করেছিল। এখন রাজ্যে নির্বাচন মিটে গেছে, ১৯ মে ভোট গণনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় ফিরুন বা না ফিরুন, তিস্তা নিয়ে এবার অবশ্যই অগ্রগতি হবে বলে কেন্দ্র নিশ্চিত।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় ফিরলেও তার গরিষ্ঠতা অনেক কমবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফলে তিস্তা নিয়ে তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে তেমন একটা দর কষাকষির জায়গাতেও থাকতে পারবেন না বলেই দিল্লি আশা করছে।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার ভারত সফরের জন্য একটা অনুকূল পরিবেশ আস্তে আস্তে হলেও তৈরি হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এই প্রতিবেদককে এমনও বলেছে, ‘শেখ হাসিনা এ বছরে ভারত সফরে এলে তিস্তা চুক্তি হবেই সেটা আমরা বলছি না। কিন্তু আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী যে, তিস্তাই হোক বা অন্য যেকোনও বিষয়, তাকে এবার একেবারেই খালি হাতে ফিরতে হবে না। সেই বিশ্বাস থেকেই তাকে আমরা দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, চলতি বছরের আগস্টে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রথম যে টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে, সব কিছু ঠিকঠাক এগোলে সেই ম্যাচের সময়ও ভারতে আসতে পারেন শেখ হাসিনা। এমনকি তিনি রাজি থাকলে নরেন্দ্র মোদিও তার পাশে বসে দেখতে পারেন সেই ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেষবার দ্বি-পাক্ষিক সফর ভারতে গিয়েছিলেন ২০১০-এর জানুয়ারিতে, তখন মনমোহন সিং ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রায় সাড়ে ছয় বছর কেটে গেছে।  মাঝখানে শুধু রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর স্ত্রীর মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্যে যোগ দিতে কয়েক ঘণ্টার জন্য দিল্লিতে পা রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু দিল্লি এখন অধীর আগ্রহে তার আর একটি পূর্ণাঙ্গ সফরের জন্য অপেক্ষা করছে। কারণ, নিঃসন্দেহে তিনিই এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্যের সেরা বিজ্ঞাপন!

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে