Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.2/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০৯-২০১৬

আলোর মুখ দেখছে না কর্ণফুলী টানেল

আলোর মুখ দেখছে না কর্ণফুলী টানেল

ঢাকা, ০৯ মে- কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণে চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানির (সিসিসিসি) সঙ্গে চুক্তি হয় গত বছর জুনে। এর পর প্রায় এক বছর হতে চললেও প্রকল্পের ঋণ চুক্তি হয়নি এখনো। গত বছর ডিসেম্বর ও চলতি বছর মার্চে চীনের কাছে দুই দফা ঋণ প্রস্তাব পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে।

গত বছর নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন দেয়া হয় কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প। পরের মাসেই এর নির্মাণকাজ উদ্বোধনের ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে তা পিছিয়ে মার্চে কাজ শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়। তবে অর্থায়ন না পাওয়ায় এখনো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। আর চীনের অর্থায়ন না পাওয়ায় প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজও চলছে ধীরগতিতে।

তথ্যমতে, টানেল নির্মাণে ২০১৩ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই করে চীনের সিসিসিসি ও হংকংয়ের ওভিই অরূপ অ্যান্ড পার্টনারস। টানেল বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে চীন সফরকালে দেশটির সরকারকে অনুরোধ জানান। এরই ধারাবাহিকতায় চীন সরকার টানেল নির্মাণে সম্মত হয়। এজন্য চীনের সিসিসিসির সঙ্গে গত বছর জুনে ৭০ কোটি ৫৯ লাখ ডলার বা ৫ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার নির্মাণ চুক্তি সই করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল ছাড়াও পূর্ব প্রান্তে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ও পশ্চিম প্রান্তে ৭৪০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এটি নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে দেশীয় অর্থায়ন ৩ হাজার ৬৪৭ কোটি ২০ লাখ ও প্রকল্প সাহায্য ৪ হাজার ৭৯৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

ইআরডি সূত্রমতে, প্রাথমিকভাবে ৭০ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের ৮৫ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেয়ার কথা চায়না এক্সিম ব্যাংকের। এজন্য গত বছর ডিসেম্বরে ঋণ প্রস্তাব পাঠানো হয় চীন সরকারের কাছে। পরে নির্মাণ ব্যয়ের শতভাগই দিতে সম্মত হয় এক্সিম ব্যাংক। এক্ষেত্রেও মার্চে সংশোধিত প্রস্তাব দেয়া হয় দেশটির সরকারের কাছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশটির পক্ষ থেকে কোনো উত্তর আসেনি। কবে নাগাদ ঋণ চুক্তি হবে, তাও নিশ্চিত নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত চীন ২০ বছর মেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে, যার গ্রেস পিরিয়ড থাকে পাঁচ বছর। আর লন্ডন আন্তঃব্যাংক অফার রেটের (লাইবর) সঙ্গে ২ শতাংশ যোগ করে সাধারণত সুদহার নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ১ শতাংশ ম্যানেজমেন্ট ফি ও ২ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি এককালীন পরিশোধ করতে হয়। সব মিলিয়ে সাড়ে ৩ থেকে ৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হয় চীনের ঋণে। তবে ঋণ চুক্তি বিলম্বিত হওয়ার কারণ স্পষ্ট নয়।

জানতে চাইলে সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ঋণ চুক্তি না হলেও অন্যান্য কাজ চলছে। টানেলের বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ করবে সিসিসিসি। এজন্য মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণেও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়েছে। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের জমিও শিগগিরই পাওয়া যাবে। আর ঋণ চুক্তি ইআরডির বিষয়, তারা সেটা ভালো বলতে পারবে।

ইআরডি সচিব দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ছয় মাস আগে প্রস্তাব দেয়া হলেও এখনো কোনো উত্তর দেয়নি চীন সরকার। তাই ঋণ চুক্তিটি ঝুলে আছে।

উল্লেখ্য, টানেল নির্মাণে দ্রুত ঋণ পাওয়ার জন্য নির্মাণ চুক্তি সইয়ে গত বছর কয়েক দফা তাগিদ দেয় সিসিসিসি। এতে প্রকল্প অনুমোদন ও ঋণ চুক্তি না করেই নির্মাণ চুক্তি সই করে সেতু বিভাগ।

সূত্র জানায়, নির্মাণ ব্যয়ের বাইরে টানেলের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন বাবদ ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে মনে করছে সেতু কর্তৃপক্ষ। আর টানেল নির্মাণকালীন চার বছরে সুদ বাবদ ৪২৯ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর সঙ্গে গাড়ি কেনা, পরামর্শক ফিসহ অন্যান্য ব্যয় তো আছেই। এছাড়া প্রকল্পটির জন্য ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার কেনা, চট্টগ্রামে প্রকল্প অফিস নির্মাণ ইত্যাদি কাজ করবে সিসিসিসি।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন বাজেটে প্রায় ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রকল্পটির জন্য। ঋণ চুক্তি সইয়ের পর ঠিকাদারের ১০ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ, জমি অধিগ্রহণ, গাড়ি কেনাসহ নানা খাতে এ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে প্রকল্পের বাস্তব কাজের অগ্রগতি না থাকলেও এখনই গাড়ি কেনায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে সেতু বিভাগ। এরই মধ্যে প্রকল্পের জন্য গাড়ি কেনায় অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে পরিবেশগত সমীক্ষা হলেও এখনো পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়া যায়নি। অথচ পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো যন্ত্রপতি আমদানি করতে পারে না।

জানতে চাইলে সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. কবির আহমেদ বলেন, প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতেই চলে, এটাই স্বাভাবিক। তবে ঋণ চুক্তি সম্পন্ন হলে দ্রুত প্রকল্পকাজ এগিয়ে নেয়া হবে। আর ২০২০ সালের মধ্যেই এটির নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে।

প্রসঙ্গত, কর্ণফুলী নদীর মোহনায় কাফকো-পতেঙ্গা পয়েন্টে টানেলটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এটি নদীর পশ্চিম পাশে সি বিচের নেভাল গেট পয়েন্ট থেকে নদীর ১৫০ ফুট নিচ দিয়ে অন্য পাশে গিয়ে উঠবে। দক্ষিণ পাড় থেকে সংযোগ সড়ক দিয়ে টানেলটি বাঁশখালী সড়কে গিয়ে মিলবে। সূত্র: বনিকবার্তা।

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে