Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English
» নাসিরপুরের আস্তানায় ৭-৮ জঙ্গির ছিন্নভিন্ন মরদেহ **** ইমার্জিং কাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ       

গড় রেটিং: 2.3/5 (14 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০৯-২০১৬

আজও দেবতার আসনে পূজিত হন রবি ঠাকুর

আজও দেবতার আসনে পূজিত হন রবি ঠাকুর

কলকাতা, ০৯ মে- তিনি কোনও ভগবান নন, বিশ্ব কবির পদবিটাই, এই যা।  তবুও শিলিগুড়ির ঠাকুর নগর কলোনির বাসিন্দা প্রয়াত শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরকে   ভগবান মেনে নিয়ে তাঁকে পুজোর আসনে বসিয়েছেন। হ্যাঁ শুনতে অবাক লাগলেও শিলিগুড়ি ইস্টার্ন বাইপাস  লাগোয়া ঠাকুরনগর কলোনিতে একটি মন্দিরে প্রতিদিন পূজিত হচ্ছেন কবি  রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর। আর রবি ঠাকুরকে মন্দিরের সিংহাসনে বসিয়ে তার পুজো শুরু করে  বাসিন্দা শরৎচন্দ্র দাস।  শুধু তাই নয় রবি ঠাকুরের মন্ত্রে এলাকার বেশ কয়েকজনকে দীক্ষিত করেছিলেন। তারপর থেকে রবি ঠাকুরের মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন তার শিষ্যরা।

মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা  শরত চন্দ্র দাস  ৯ বছর বয়সে দেশের বাড়ি থেকে কাকুর কাছে ঘুরতে আসেন তিনি। সেই সময় কাকু তাকে জোড়াসাঁকোতে রবি ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করাতে নিয়ে যান। ছোট্ট বালক শরতকে দেখে তাঁর  মাথায়  কবি রবীন্দ্র নাথ হাত রেখে আশীর্বাদ করেন। বলেন,  ‘বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হও।’  একেই সঙ্গে নিজের রচয়িতা কিছু কবিতা এবং গল্পের বই তার হাতে দেন কবি গুরু।  বাড়ি ফিরে সেইসব বই মন দিয়ে পরেন শরৎচন্দ্র। তারপর থেকে রবীন্দ্র নাথের সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তাঁর কবিতা গল্প কাব্য নিয়ে চর্চা করতে থাকেন।  এরেই মধ্যে দেশ ভাগের কারণে ভারতে এসে ঠাই নেন শরৎ দাস। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের একে একে মৃত্যু হওয়ার পর  অভাবের তাড়নায় এদেশে এসে ভিক্ষার জীবনই বেছে নেন তিনি। ভিক্ষা করেই বছরের পর বছর দিন কাটছিল তার।  তবে রবি ঠাকুর তখন তাঁর মনে গেঁথে রয়েছেন।  তাই ভিক্ষার পয়সা থেকে রবি ঠাকুরের বই কিনে পরতেন মাঝে মধ্যে। ছোট  বয়সে  অল্প আধটু পড়াশোনা শেখাতে এক্ষেত্রে তার কোনও সমস্যাও হত না।  আবার রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর তার ফটোতে প্রণাম এবং ধুপকাটি ধরাতে ভুলতেন না তিনি।  তার শিষ্য দের মুখেই  থেকেই শোনা গেল গোসাই শরৎ ঠাকুর তাদেরকে বলতেন, তিনি রবি ঠাকুরের ফটোতে আশীর্বাদ করে যে কোনও কাজ করতে গিয়েই সফল হয়ে। যেতেন  যে কোনও বিপদে রবি ঠাকুরের নাম করলেই রক্ষা পেয়ে যেতেন। তাই রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরকে তিনি ভগবান রূপেই দেখেন।  মনে মনে যিনি  রবীন্দ্র নাথকে ভগবান হিসেবে দেখাটি সেই ভগবানের  জন্য কিছু করবেন এটাই। স্বাভাবিক।  ভিক্ষা করে যে টাকা এত কাল ধরে জমিয়ে ছিলেন সেই টাকা দিয়ে ১৬-১৭ বছর আগে  শিলিগুড়ি সংলগ্ন ঠাকুর নগরে একটি জমি কেনেন। আর তাতেই একটি মন্দির তৈরি করে প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে সেই মন্দিরের সিংহাসনে রবীন্দ্র নাথের ছবি স্থাপন করেন। তখন থেকেই রীতিমত ফুল চন্দন ধুপ, প্রদীপ সহকারে প্রসাদ যোগে শঙ্খ বাজিয়ে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের পুজো হয়ে থাকে এই মন্দিরে।

তিন বছর আগে ৮৫ বছর বয়সে মারা যান শরৎ চন্দ্র দাস। রবি ঠাকুরের মন্দিরের পাশেই তার শিষ্যরা তাঁকে সমাধি দিয়েছেন। তিনি প্রয়াত তাই তাঁর মন্দির এখন দেখাশোনা করে শিষ্যরা।  শরৎচন্দ্র দাসে কাছে তাঁর রবি ঠাকুরের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার গল্প শুনেছিলেন তাঁর শিষ্যরা। তাই মন্দির সম্পর্কে এখন কেউ জানতে চাইলে শিষ্যরাই জানান।  শিষ্যদের কাছ থেকেই জানা গেল,  মন্দির তৈরি হওয়ার কয়েক বছর আগের থেকেই বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে গিয়ে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের জীবন কাহিনী নিয়ে আলোচনা করতেন। ফলে তার কথা শুনতে তাঁর কাছে অনেক ভক্তের সমাগম হত। এই করে করেই ভক্তরাও রবীন্দ্র নাথকে দেবতা মেনে পুজো করেন। কিন্তু কি মন্ত্রে পুজো করেন। শরত্চন্দ্র দাস রবি ঠাকুরের দীক্ষা দেওয়ার সময় কি মন্ত্র বলেছিলেন ? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য জানাতে চাইলেন না কোনও শিষ্য।  বললেন, গুরু মন্ত্র এভাবে প্রকাশ্যে বলা যায় না। অবশ্য শরৎচন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর এখন কেউ আর নতুন করে রবি ঠাকুরের দীক্ষিত হতে পারেন না।

ব্যস্ত শিষ্যরা রোজ রোজ মন্দিরে এসে পুজো দিতে পারেন না।  তাই পুজোর কাজে স্থানীয় এক মহিলা দেবলা দেকে নিয়োজিত করা হয়েছে। দেবলা দেবীই এখন সকাল বিকেল মন্দির পরিচর্যা করেন।  পুজো করেন।  দেবলা দেবী জানালেন, ২৫শে বৈশাখ এবং ২২সে শ্রাবণ ঠাকুরের জন্ম দিবস এবং মৃত্যু দিবস উপলক্ষে বড় করে পুজো হয়। শিষ্যরা এই পুজোর আয়োজন করে।  বিপুল পরিমাণ প্রসাদের ব্যবস্থাও রাখেন তারা।  যাতে মন্দিরে এসে এই দুই দিন প্রসাদ না পেয়ে কেউ ফিরে না যান।  একেই সঙ্গে ওই দিন রবি ঠাকুরের নিজের লেখা গান,  অনুষ্ঠান হয় মন্দির প্রাঙ্গণে।  একেই সঙ্গে বাউল সঙ্গীত ও পরিবেশনা হয়।

এফ/০৯:৪৫/০৯মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে