Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.6/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০৮-২০১৬

বশীকরণ-মারণ-উচাটন...। তান্ত্রিক বাবাজি-মাতাজিদের দাবি কতটা জেনুইন?

অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়


বশীকরণ-মারণ-উচাটন...। তান্ত্রিক বাবাজি-মাতাজিদের দাবি কতটা জেনুইন?

গত দু’দশকে কলকাতা ও তার সন্নিহিত অঞ্চলে যা যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তার একটা তালিকা করতে বসলে প্রথম পাঁচটির মধ্যেই অবশ্যই থাকবে ‘তান্ত্রিক’ বাবাজি ও মাতাজিদের হোর্ডিং-ব্যানার-বিজ্ঞাপন। আর এই সমস্ত বিজ্ঞাপনের সারমর্ম একটাই— মারণ-উচাটন-বশীকরণে সিদ্ধ। শিগগির চলে আসুন। শহরের বিজ্ঞান-চক্র আন্দোলন, যুক্তিবাদী সমিতি— কেউই এঁদের কিস্যু করতে পারেনি। এঁরা যে যার নিজের মতো নিজের ঢাক পিটে ব্যবসা করে চলেছেন। কোনও শক্তিই এঁদের সামান্যতম কেশাকর্ষণও করতে পারেনি। কারা যান এঁদের কাছে অথবা এঁরা ঠিক কাদের কেটার করেন, সেই জায়গাটা বেশ ধোঁয়াটে। 

তবে একটা ব্যাপার দেখার মতো, দু’দশক টপকে গেলে দেখা যাবে, কলকাতার রাস্তাঘাটে জ্যোতিষীদের বিজ্ঞাপনী ঠমক যতটা রমরমাতো, তান্ত্রিক তকমাধারীরা ততটা পরিমাণে দৃশ্যমান ছিলেন না। গত ২০ বছরে বাংলার সমাজেতিহাসে কী এমন ঘোটালা ঘটল যে, এইভাবে কাঁড়ি কাঁড়ি বাবাজি আর মাতাজি উপচে উঠলেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন গিয়ে সমাজবিজ্ঞানের অভিভাবকরা। আমরা বরং খুঁজতে চেষ্টা করি এই সব পাবলিকের বিগ বিগ ক্লেম-সকল কতখানি জেনুইন। আর তা দেখা যাক খোদ তন্ত্রের আঙিনা থেকেই।

• মারণ, উচাটন ও বশীকরণ— এই তিন ক্রিয়া মূলত ‘অভিচার’ হিসেবেই উল্লিখিত রয়েছে সবক’টি তন্ত্রগ্রন্থে। অন্যের ক্ষতিকারক এই সব কর্মকাণ্ডকে আদপেই উৎসাহ দেয়নি প্রণিধানযোগ্য তন্ত্রগ্রন্থের কোনওটিই। বরং এই সব ক্রিয়ার বিপজ্জনক দিকটিকে বার বার তুলে ধরেছে তারা।

• বিভিন্ন তন্ত্রগ্রন্থে মারণ, উচাটন, বশীকরণের জন্য যেসব প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং ক্রিয়া বর্ণিত রয়েছে, তার কোনওটিই বাস্তবে সম্ভব বলে মনে হয় না। একটি বশীকরণ গ্রন্থে লেখা রয়েছে, মোষের রক্ত, দাঁড়কাকের পালক, আকন্দগাছের শিকড়, যাকে বশীকরণ করা হবে তার চুল— এগুলো না হলে ক্রিয়া অসম্ভব। ভেবে দেখুন, এগুলো যোগাড় করা কতটা সম্ভব। এর মধ্যে আবার অনেক বইতে নির্দেশ থাকে কোনও বিশেষ তিথিতে উপড়ে আনা কাকের হৃৎপিণ্ড-জাতীয় বস্তু সংগ্রহের। বোঝাই যায়, তন্ত্রগ্রন্থের রচয়িতারা কেউই এই সব বাজে কাজের সমর্থক ছিলেন না। পাবলিকের কৌতূহল কাটানোর জন্যই এঁরা এই সব মাম্বোজাম্বো লিখে রেখেছেন।

• বিজ্ঞাপনগুলো লক্ষ করলে মনে হবে, বাবাজি-মাতাজিরা যেন পরস্পরের সঙ্গে কম্পিটিশন নেমেছেন। ইনি যদি লেখেন— দশ মিনিটে বশীকরণ, উনি তবে লিখবেন পাঁচ মিনিটে। আর এর উপর দিয়ে যায় এঁদের কোয়ালিফিকেশনের দাবি। স্বামী কেবলমাত্রানন্দ যদি দাবি করেন তিনি কামাখ্যাসিদ্ধ, বাবা উচ্চণ্ডভৈরবের বক্তব্য তিনি তারাপীঠ-কামাখ্যা-জ্বালামুখী সিদ্ধ। মাতাজি প্রচণ্ডার দাবি যদি হয় তিনি পিশাচসিদ্ধা, তবে একজ্বটা মা দাবি করবেন গোটা দেশের ব্রহ্মরাক্ষস তাঁর কুক্ষিগত। এর মধ্যে এমন বিজ্ঞাপনও দেখেছি, যেখানে মাতাজি দাবি করছেন তিনি দক্ষিণ আমেরিকার মায়া সভ্যতার ‘লুপ্ত’ তন্ত্রবিদ্যায় পারদর্শিনী। প্রশ্ন এই— ‘লুপ্ত’ বিদ্যাটি তিনি শিখলেন কোত্থেকে? আর তিনি যদি তা জানেনই, তাহলে তা ‘লুপ্ত’ হয়ই বা কী করে?

• মারণ, উচাটন, বশীকরণ— তলিয়ে দেখলে তিনটি ক্রিয়াই মারাত্মক অপরাধমূলক। একটিতে হত্যা, আর একটিতে পীড়ন এবং শেষেরটিতে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করানোর হুমকি নিহিত রয়েছে। এই সব অপরাধমূলক কাজকর্মের বিজ্ঞাপন কীভাবে একটা সভ্যদেশে চলতে পারে, তা ভেবে দেখা দরকার।

• সর্বোপরি, এই সব ক্রিয়া বাবাজি-মাতাজিদের দিয়ে করিয়ে সফল হয়েছেন, এমন লোককে খুঁজে পাওয়া যাবে না। কেউ কি স্বীকার করবেন, তিনি বাবা হুহুঙ্কারানন্দকে দিয়ে বস্‌কে বশ করে আপিসে মৌজমস্তি করে বেড়াচ্ছেন অথবা  দজ্জাল শাশুড়িকে ঢিট করতে মাতাজি তাণ্ডবীকে ফিট করে তাঁকে প্যারালাইজড করে ফেলা গিয়েছে? অতএব সাবধান! সাধু সাবধান!!  

এফ/১৫:৪০/০৮মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে