Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-০৮-২০১৬

চতুর্থ দফার ইউপি ভোটে সংঘাতে নিহত ৫

চতুর্থ দফার ইউপি ভোটে সংঘাতে নিহত ৫

ঢাকা, ০৮ মে- কেন্দ্র দখল করে সিল মারা ও জাল ভোট দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও হামলায় অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে নরসিংদীর রায়পুরা, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ভোট চলার সময় একজন করে এবং রাজশাহীর বাগমারায় ভোট শেষে সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

শনিবার ৭০৩ ইউপিতে নির্বাচনের পর ভোট গণনা চলছে। এই ধাপে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

ছয় ধাপে ভোটের জন্য গত ১১ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণার পর শনিবারের ভোটের আগ পর্যন্ত ৭০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়।

স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে তৃণমূলের এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে। ৪ জুন ষষ্ঠ ধাপের ভোটের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত:

নরসিংদী
রায়পুরা উপজেলায় একটি কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।

শনিবার বিকালে উপজেলার দুর্গম চরএলাকা পাড়াতলী ইউনিয়নের মধ্যনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে রায়পুরা থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

নিহত হোসেন আলী (৬০) স্বতন্ত্র এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন।

ওসি মো. আজহারুল বলেন, হোসেন আলী ভোট দিতে কেন্দ্রে গেলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকরা তাকে নৌকায় ভোট দিতে বললে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারা হোসেনকে টোটা দিয়ে আঘাত করে।গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে এই ইউনিয়নের অলিপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও মির্জানগর ইউনিয়নের শান্তিনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া শ্রীনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রিয়াজ মোর্শেদ খান ও স্বতস্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান আযাদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে সুমন (৩৫), সোহাগ (৩০) ও এমদাদ (৩৮) নামে তিন জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানান আজহারুল।

তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে নরসিংদী জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একটি কেন্দ্রে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।

শনিবার ভোট শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে হরিণমারী ইউনিয়নের কালডাঙ্গী মাদ্রাসা কেন্দ্রে এই সংঘর্ষে আরও আটজন আহত হয়েছেন বলে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান।

তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের নাম পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশের গুলিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর দিলেও তা নাকচ করে ওসি আমিনুল বলেন, “দুপক্ষের সংঘর্ষে মধ্যে ছুরিকাঘাতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।”

আহতদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শুকুর আলী মিঞা বলেন, দুপক্ষের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিজিবি কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে ও লাঠিপেটা করে।

ঘটনার পর ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া সহিংসতার ঘটনায় একই উপজেলার আমাজানখোর ইউনিয়নের আমাজানখোর উচ্চ বিদ্যালয়, দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালোমেঘ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান এই নির্বাচন কর্মকর্তা।

কুমিল্লা
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সামনে হামলা চালিয়ে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার ভোট শুরুর পর পর মাধবপুর ইউনিয়নের চানলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার এসআই হুমায়ুন কবীর।

নিহত তাপসচন্দ্র দাসের (২৩) বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা হুমায়ুন বলেন, কেন্দ্রে আসার পথে ওই যুবকের উপর হামলা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফরিদউদ্দিনসহ ছয় জন আহত হয়েছেন।

রাজশাহী
বাগমারার আউচপাড়া ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ শেষে হাট গাঙ্গোপাড়া বাজারে আওয়ামী লীগ ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক নামে আওয়ামী লীগ কর্মী গুলিতে মারা যান।

নিহত দ্বিতীয় ব্যক্তির নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সংঘর্ষ এলাকার মধ্যে তার মৃত্যু হলেও শরীরে কোনো আঘাতের দাগ পাওয়া যায়নি। ও অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশিদ হোসেন ধারণা করছেন, সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

ডিআইজি খুরশিদ বলেন, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আউচপাড়া ইউনিয়নের হাট গাঙ্গোপাড়া বাজারের এ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ ৩৩ রাউন্ড গুলি ও টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

“সংঘর্ষের সময় হাতবোমার বিস্ফোরণ, পুলিশের গুলি ও টিয়ার গ্যাসের কারণে অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তি মারা যেতে পারেন।”

এ ঘটনায় আহত ১০ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সরদার জান মোহাম্মদের এবং বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলামের সমর্থকরা হাটগাঙ্গোপাড়া বাজারে মিছিল নিয়ে মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় পুলিশ গুলি চালায়।

আর/১২:১৪/০৮ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে