Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-০৭-২০১৬

আগেই হ্যাকিংয়ের শঙ্কায় ছিল নিউ ইয়র্ক ফেড

আগেই হ্যাকিংয়ের শঙ্কায় ছিল নিউ ইয়র্ক ফেড

নিউ ইয়র্ক, ০৭ মে- বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের রিজার্ভ অর্থ চুরির আগেই এ ধরণের সাইবার হামলার আশঙ্কা করেছিলেন নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের অনেকে। সেই আশঙ্কা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির আগের বছরগুলোতে কয়েক বার এমন সাইবার হামলার ঝুঁকি যাচাই করে দেখেছিলেন ফেডের নিরাপত্তা বিষয়ক সিনিয়র কর্মকর্তারা।

তবে বার বারই অনুসন্ধানের পর হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা তারা নাকচ করে দেন বলে শুক্রবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ফেডের ম্যানেজারদের দুশ্চিন্তা ছিল, অন্যান্য বেশ কিছু দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সেকেলে প্রযুক্তির সুযোগ নিতে পারে সাইবার অপরাধীরা। স্থানীয় কম্পিউটার হ্যাক করে যুক্তরাষ্ট্রের এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা ওই সব দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তখন তারা হানা দিতে পারে।

নিউ ইয়র্ক ফেডের সাত বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অভিজ্ঞ এক সাবেক মার্কিন সরকারি কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার শেষে এসব তথ্য জানায় রয়টার্স।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির আগে নিউ ইয়র্ক ফেড ও এফবিআই মিলে কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে অর্থ লেনদেন বিষয়ক সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা সুইফট-এর মাধ্যমে সাইবার হামলার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে।


কিন্তু ফেডারেল রিজার্ভ বরাবরই অন্যান্য নিরাপত্তা ইস্যু, যেমন- অর্থ পাচার রোধ, মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ওপর জোর দিয়েছে। সুইফটের নিরাপত্তা বিষয়ক সফটওয়্যার এ পর্যন্ত কেউ ক্র্যাক করতে পারেনি - ফেড কর্মকর্তারা এই ভেবেই নিশ্চিন্ত ছিলেন।

সুইফটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ভুয়া অর্ডার দিয়ে অর্থ জালিয়াতি সম্ভব - বিষয়টিকে ওই কর্মকর্তারা ‘ফ্যাট টেইল রিস্ক’ আখ্যা দিয়ে বাতিল করে দিয়েছিলেন। কোনো একটি ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম; কিন্তু ঘটলে তার ফলাফল হবে ভয়ঙ্কর, এমন ঘটনার সম্ভাবনাকে ‘ফ্যাট টেইল রিস্ক’ (fat tail risk) কথাটি দিয়ে বোঝানো হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে হওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির ঘটনাটি এমনই একটি ফ্যাট টেইল রিস্ক-এর উদাহরণ। যে ঝুঁকিটি ফেড নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আগে আমলে নিলে হয়তো বাস্তবায়ন করার সুযোগ পেত না হ্যাকাররা।

নিউ ইয়র্ক ফেড থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার তাৎক্ষণিক ফলাফল ছিল বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত চাওয়া এবং মামলা করার সম্ভাবনা। কিন্তু এ সাইবার হামলার পরই সংশ্লিষ্টদের কাছে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়।

তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বহু আগে থেকেই এমন হামলার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানত। তারা বুঝতে পেরেছিল, সুইফটের মতো একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক এ ধরণের সাইবার হামলার শিকার হতে পারে, যা বাস্তবে ঘটলে ফল হবে ভয়ানক।

কিন্তু ফেড কর্তৃপক্ষ কোনো কারণে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করতে পারেনি, অথবা সমাধান করতে চায়নি।

আর/০৭:৪৪/০৭ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে