Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০৬-২০১৬

যে ৪ নিষ্ঠুর উপায়ে আপনি ‘খুন’ করছেন সঙ্গীকে, একটা কথাও না বলে

যে ৪ নিষ্ঠুর উপায়ে আপনি ‘খুন’ করছেন সঙ্গীকে, একটা কথাও না বলে

অফিস থেকে ফিরতে দেরি হয়েছে। ঘরে ঢোকার পরই 'নিঃশব্দ বিপ্লব' শুরু। কোনও কথা নেই। উত্তর আসছে শুধু হ্যাঁ বা না-তে। কথা না বললে কী হবে, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বলে তো একটা বস্তু রয়েছে। যাতে কথা না বলেও হাজার একটা কথা বলা হয়ে যায়। বরং আরও বেশি প্রকট করে বলা যায়। আর এ ধরনের ভাবভঙ্গির সঙ্গে আমরা সকলেই অল্পবিস্তর পরিচিত।

মনোবদিদের মতে, হাজার শব্দ বলে কোনও মানুষকে যতটা কষ্ট দেওয়া যায় না, কয়েক দিনের নেগেটিভ বডি ল্যাঙ্গুয়েজ তার থেকে অনেক বেশি কষ্ট দেয়। অনেকেই জেনে বা না জেনে এমন কাজ অহরহ করে থাকেন। আর পরিসংখ্যান বলছে, এ দিক থেকে মহিলারা পুরুষদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। এ কারণে সম্পর্ক বিষিয়ে ওঠা বা শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ার ঘটনাও কম কিছু নয়। তাই আপনি যদি নীচের এই চারটি কাজের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারেন তবে সাবধান হোন। বার বার এ ধরনের কাজ সম্পর্কের ভিত আলগা করে দেয়।

১) 'শাস্তি' দেওয়ার লক্ষ্যেই চুপ: কোনও কিছু পছন্দ হয়নি, সঙ্গীর কোনও সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না। নিজে কী চান সেটা পরিষ্কার করে না বলেও বুঝিয়ে দেওয়া 'আমি এটাই চাই', এমন একটা ভাইব নিয়ে আপনি জাস্ট চুপ মেরে গেলেন। কোনও খারাপ কথা নেই, চিত্‍কার, কান্নাকাটি নেই, রয়েছে শুধু চরম অবহেলা এবং কথা বন্ধ করে দেওয়া। মাঝে মধ্যে মুখে 'আমি ঠিক আছি' বললেও আপনি ভালোই জানেন গণ্ডগোল ভীষণ আকার ধারণ করেছে। সব থেকে খারাপ বিষয়, যত দিন যাবে আপনার সঙ্গী এ বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠবেন। শেষ পর্যন্ত এটা দাঁড়াবে, 'তুমি যত ক্ষণ কথা শুনছো তত ক্ষণ পর্যন্ত ঠিক আছে। আমার পছন্দের বিরুদ্ধে গেলেই সংসারে অশান্তি নেমে আসবে।' এটা এমন খুন খারাপি যাতে রক্তপাত হয় না!

২) 'দেখ, আমি নির্যাতিত': কখনও সামনে না এসেও রাশ তাঁরই হাতে। যেমন, আপনার সঙ্গী কোথাও যেতে চান বা এমন কোনও জিনিস কিনতে চান, যা আপনার মতে 'স্রেফ পয়সা নষ্ট'। কিন্তু তাঁর চাই মানে চাই। এ বার শুরু হল তর্ক, কাকুতি, চোখের কোনয় জল ইত্যাদি ইত্যাদি। শেষ পর্যন্ত আপনি রাজি হলেন। চূড়ান্ত অনিচ্ছা নিয়েও রাজি হলেন। তার পরেও তিনি খুশি নন। কেন? আপনাকে হাসি মুখে রাজি হতে হবে। তবে তাতেও কাজ হবে না। হাসি মুখেই রাজি হতে হবে আপনাকে। আপনার ইচ্ছে-অনিচ্ছে বা মতামতের কোনও দাম নেই। তার পরেও নানা ক্ষেত্রে অভিযোগ শুনতে হবে।

৩) ইমোশনাল অত্যাচার: কোনও কিছু অপছন্দ হলেই বা উত্তরে 'না' শুনলেই দামামা বেজে উঠল। তারস্বরে চিত্‍কার তো রয়েইছে, সঙ্গে বাছা বাছা বাক্যবাণ। এক কথায় মনে হতে পারে আপনি প্রেশার কুকারে সেদ্ধ হচ্ছেন। ঘ্যানঘ্যান করা, বারংবার নিজের সিদ্ধান্তের সমর্থনে লেকচার ইত্যাদিতে কাজ না হলে কান্নাকাটি। আপনাকে শেষ পর্যন্ত বুঝতেই হবে। বার্তা পরিষ্কার, প্রেশার থেকে বেরোনো যাবে না। যত ক্ষণ তিনি নিজের মত প্রতিষ্ঠিত করতে না পারছেন।

৪) অর্ধ-সত্য: প্রায় চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করেছেন। সম্পর্কের শুরু থেকে সঙ্গীকে আপনি আপনার সম্পর্কে যাবতীয় ব্যাপার খোলসা করেছেন। তিনিও বলেছেন। কিন্তু পুরোটা নয়। ধীরে ধীরে যত সময় গড়িয়েছে, সত্যিটা বেরিয়ে এসেছে। কখনও তিনি নিজেই আপনাকে জানিয়েছেন। কখনও অপ্রত্যাশিত ভাবেই সামনে চলে এসেছে নগ্ন সত্যি। এমন পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য কখনও আত্মহত্যার ভয়, কখনও শরীর খারাপের ভান বা কখনও অত্যাধিক উত্তেজনায় সম্পূর্ণ চুপ করে যাওয়া। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ কিছু করণীয় থাকে না। একমাত্র উপায় মেনে নেওয়া। তার পরেও নিজের কাজের সমর্থনে নানা অজুহাত খাড়া করে আপনাকে সঙ্গী এটা বোঝাতে পারেন তিনি কোনও ভুল করেননি।

এমন পরিস্থিতির শিকার হলে কী ভাবে বাঁচাবেন সম্পর্ক:
প্রথমত এটা বুঝতে হবে, আপনার সঙ্গী কতটা কষ্ট পাচ্ছেন। যত ক্ষণ এই উপলব্ধী না হচ্ছে কোনও কিছু কাজে আসবে না। কাউন্সেলিং এ ক্ষেত্রে ভালো কাজ করতে পারে। কারণ, আপনার মানসিক সমস্যা একজন মনোবিদ যতটা ভালো বুঝবেন এবং তার সমাধান করবেন, আপনি নিজে তা নাও পারতে পারেন। যদি পারেন তা হলে তার থেকে ভালো কিছুই হতে পারে না। বার বার সঙ্গীকে মানসিকভাবে আঘাত করার ফল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খারাপ হয়েছে। একটা সময়ে তিনি হয়তো সপাট সত্যিটা মুখের ওপরই বলতে পারেন। আদপে যা খুব একটা শ্রুতিমধুর হবে না। তাই দু'জনকেই একটি পজিটিভ চেঞ্জ নিয়েই এগোতে হবে। নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখুন। আর দয়া করে কথা বলা বন্ধ করবেন না। কথা বললে বহু ভুল বোঝাবুঝি কেটে যায়।

আর/১০:৫৪/০৬ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে