Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০৬-২০১৬

ভিসার ‘ই-টোকেন’ পদ্ধতিতে সংস্কার করবে ভারত

ভিসার ‘ই-টোকেন’ পদ্ধতিতে সংস্কার করবে ভারত

নয়াদিল্লি, ০৬ মে- অভিযোগের পাহাড় জমছিল বহুদিন ধরেই। ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার প্রথম ধাপে যে ই-টোকেন পাওয়াটা জরুরি, সেটা যেকোনও মতেই সোজা রাস্তায় পাওয়া সম্ভব নয়- ঢাকাতে তা একেবারে ‘ওপেন সিক্রেট’। অথচ শহরের নির্দিষ্ট কিছু দোকান বা সাইবার ক্যাফেতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা ফেললেই অনায়াসে মেলে সেই ই-টোকেন। এই হয়রানি আর অর্থদণ্ড ভারতের ভিসাপ্রার্থীদের রোজকার রুটিন।

দিন দশেক আগে এর বিরুদ্ধেই গণ ই-মেইল কর্মসূচিতে প্রতিবাদের রাস্তা বেছে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের বহু সাধারণ ভিসাপ্রার্থী। ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসে এবং দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কপি করে তারা গণহারে ই-মেইল পাঠিয়ে লিখতে শুরু করেছিলেন তাদের ভোগান্তির বিবরণ। সেই প্রবল ‘অনলাইন চাপে’র মুখে অবশেষে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দিল্লিতে তাদের কর্মকর্তারা আজ স্বীকার করেছেন যে, বাংলাদেশে তাদের ভিসা পদ্ধতিতে ত্রুটি আছে এবং সেই ত্রুটি সারিয়ে তোলাটা জরুরি।

দিল্লিতে আজ (৫ মে বৃহস্পতিবার)ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের ভিসা পদ্ধতি নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠছে বা যেসব সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো আমরা সম্পূর্ণ অবহিত। আমরা সবসময় চেষ্টা করছি এই পদ্ধতিকে কিভাবে আরও স্বচ্ছ (ট্র্যান্সপারেন্ট), সুসমন্বিত (স্ট্রিমলাইনড) ও কার্যকরী (ইফেক্টিভ) করে তোলা যায়।’

ই-টোকেন নিয়ে যারা ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন তাদের একটা বড় অংশের ধারণা- এর ভেতর বড় অংকের আর্থিক দুর্নীতি আছে এবং ভারতীয় দূতাবাসের এক শ্রেণির কর্মকর্তাও সম্ভবত এই ই-টোকেন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে বিকাশ স্বরূপ অবশ্য আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে সরাসরি জবাব এড়িয়ে গেছেন– বরং তিনি দাবি করেছেন, ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসে তাদের ‘ক্ষমতার চেয়ে ভিসার চাহিদা অনেক বেশি’ বলেই এই ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু কেন ঢাকাতে ভারতের সামর্থ্যের চেয়ে ভিসার চাহিদা বেশি?

এর জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘সারা দুনিয়ায় আমাদের যত দূতাবাস আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিসা ইস্যু করা হয় ঢাকায় অবস্থিত ভারতের হাই-কমিশন থেকেই। কিন্তু তার পরেও চাহিদার তুলনায় সেটা কিছুই নয় – কারণ ভিসা দেওয়ার জন্য ঢাকাতে আমাদের যে লোকবল আছে তার তুলনায় ভিসাপ্রার্থীর সংখ্যা চারগুণ!’

অর্থাৎ বিকাশ স্বরূপ বলতে চাইছেন, ঢাকাতে ভারতীয় ভিসার বিপুল চাহিদা সামাল দেওয়ার মতো সামর্থ্য এই মুহূর্তে হাই-কমিশনের নেই। ‘তবে আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের ভিসা পদ্ধতিকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেখানে বাড়তি লোক নিয়োগ করার চেষ্টা করছি যাতে এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হয়’, বলেন তিনি।

গত বছরের জুন মাসে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে গিয়েছিলেন, তখন বাংলাদেশের ভিসাপ্রার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল, তিনি কথাও দিয়েছিলেন এই ব্যবস্থাকে সহজ করা হবে। তাঁর সফরের পর কিছুদিনের জন্য পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সাধারণ ভিসাপ্রার্থীরা অভিযোগ করছেন- এখনকার অবস্থা আবারও যে-কে-সেই।

বিশেষত ই-টোকেন জোগাড় করার জন্য পর্যটকদের যেভাবে নাকাল হতে হচ্ছে কিংবা বাড়তি পয়সা গুনতে হচ্ছে তা কিছুতেই ভারতের জন্য ভালো বিজ্ঞাপন নয়। গণ ই-মেইল কর্মসূচিতে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাওয়ার পর দিল্লিও এখন বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে – এমনকি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই-কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলার সঙ্গে সাউথ ব্লকের কর্মকর্তাদের বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনাও হয়েছে।

ঢাকায় ভারতের জন্য ভিসা আবেদন বা প্রসেসিংয়ের যে আমূল সংস্কার করা দরকার, সে ব্যাপারে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সবাই একমত হয়েছেন তার পরেই।

এফ/০৯:৫৫/০৬মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে