Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.3/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০৫-২০১৬

স্বদেশি ছোঁয়ায় বিসিসিডিআইয়ের বর্ষবরণ

স্বদেশি ছোঁয়ায় বিসিসিডিআইয়ের বর্ষবরণ
বক্তব্য দিচ্ছেন ভেলেরি এ টেইলর (বাঁয়ে)। তাঁকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে (ডানে)

ওয়াশিংটন, ০৫ মে- বৈশাখ মানেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ছোঁয়ায় নতুন প্রত্যাশা আর স্বপ্নের আলোয় নতুনকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ আয়োজন। পয়লা বৈশাখ বাঙালির সবচেয়ে উৎসবমুখর অনুষ্ঠান। ঐতিহ্যের আবাহনে নিজেদের মিশিয়ে দিয়ে নতুন জাগরণে জেগে ওঠার দিন, প্রাণের স্পন্দনে নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়ার দিন। আর এই বর্ষবরণ উৎসব যেমন দেশের মাটিতে তেমনি প্রবাসের অঙ্গনেও আনন্দ হিল্লোলে আন্দোলিত করে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়। তাইতো বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রবাসী বাঙালিরাও মেতে ওঠেন আনন্দ উচ্ছ্বাসের বন্যায়। আর এই ঐতিহ্যবাহী আনন্দ উৎসবের ধারাবাহিকতায় যোগ দিয়ে এক বর্ণিল বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ইনকের (বিসিসিডিআই) বাংলা স্কুল।


সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

বিসিসিডিআই বাংলা স্কুল আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি যাদের প্রাঞ্জল ও সাবলীল সঞ্চালনায় প্রাণবন্তভাবে অনুষ্ঠিত হয় তার হলেন; শামীম চৌধুরী, শতরূপা বড়ুয়া ও লিজা বড়ুয়া। প্রথমেই লিজা বড়ুয়া সবাইকে বৈশাখী আয়োজনে সবাইকে স্বাগতম ও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ করেন। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে সমবেতভাবে। এ সময় সবাই দাঁড়িয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।

এই নব বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ড. ভেলেরি এ টেইলর। যিনি বাংলাদেশের পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও পঙ্গু অসহায় মানুষের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তার প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সিআরপির (সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড) মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে। তাকে বাংলাদেশের মাদার তেরেসা হিসেবে গণ্য করা হয় বাংলাদেশে আর্তমানবতার উদ্দেশ্যে তার নিবেদিতপ্রাণ সেবাকর্মের জন্য।


সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমে ছিল দলীয় নৃত্য। ভারতের একসময়ের জনপ্রিয় ভিন্নধারার গায়ক ভূপেন হাজারিকার গান ও দুই বাংলার গানের জগতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের তিনটি গানের অংশবিশেষের সমন্বয়ে পরিবেশিত হয় দলীয় নৃত্য অরুণ প্রাতের তরুণ দল। এই পরিবেশনায় বাংলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাদের বন্ধুদের নৃত্যের ঝংকারে মেতে উঠেছিল মঞ্চ। আন্দোলিত হয়ে উঠেছিল শ্রোতা-দর্শকদের মন। যারা তাদের চমৎকার পরিবেশনায় সবাইকে মুগ্ধ করে তারা হলো; অদ্রিতা, ইষাৎ, মোহতাসিনুর, মুস্তাবিনুর, প্রিয়াঙ্কা, রীমা, রনি ও সামারা। নৃত্যের কোরিওগ্রাফিতে ছিলেন ড. সোমা বোস।

এর পরপরই একক নৃত্য পরিবেশন করে বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থী নোরা। আর একক সংগীত পরিবেশন করেন ক্লেমেন্ট স্বপন গোমেজ, কালাচাঁদ সরকার, রুমা ভৌমিক, তনুশ্রী দত্ত ও শারমিন শিপু। দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করেন কালাচাঁদ সরকার ও বুলবুল ইসলাম।


সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

গানের ঝংকার শেষ হতেই শুরু হয় আবার নৃত্যের ঝংকার। আজি ঝরো ঝরো গানটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন মূর্ছনা বড়ুয়া। তার পরিবেশনা ছিল চমৎকার।

অতঃপর দর্শকদের মন জয় ও নস্টালজিয়ায় আচ্ছন্ন করে বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা মঞ্চে নিয়ে আসে গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী জীবনধারার ওপর এক অনবদ্য পরিবেশনা এই অপরূপ বাংলা আমার। ছোট্ট ছেলেমেয়েরা ও কিশোর-কিশোরীরা তাদের পরিবেশনায় মুগ্ধ করে দেয় সবাইকে এবং ডেকে নিয়ে যায় এক নস্টালজিক ভাবনায়। নিয়ে যায় পেছনে ফেলে আসা বাংলার সেই সব ঐতিহ্য আর কৃষ্টির স্পর্শে, যা লুকিয়ে ছিল আমাদের সবার অন্তরের গভীরে স্মৃতির ভাঁজে। এ পর্বের কোরিওগ্রাফিতে ছিলেন বৃষ্টি। যারা এই পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করে তারা হলো; জুবিন, তানজিন, ফরহাদ, সারিবা হোসেন, আদিত্য বড়ুয়া, আনন্দী বড়ুয়া, আবরার মাহবুব, নাবিল হাসান, এলিনা খান, হৃদিতা চৌধুরী, সামিয়ান খান, রুদ্র দত্ত, ধ্রুব দত্ত ও সাঈদ হোসেন।

অনুষ্ঠানের এই অবসরে বিসিসিডিআই আয়োজিত বৈশাখী অনুষ্ঠানের স্পনসরদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় দর্শকদের সঙ্গে। তারা হলেন; গ্র্যান্ড স্পনসর টেগরা আইটি সলিউশনের সিইও নাজির ইরফান; গোল্ড স্পনসর রিয়েল্টর আনিস খান (রিম্যাক্স); সিলভার স্পনসর ড. হীপ ফ্যাম ও ড. ইয়ং চো (ফরেস্ট ফ্যামিলি ডেন্টিস্ট্রি)। এ ছাড়া পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় বাংলা স্কুলের অন্যতম হিতাকাঙ্ক্ষী বোস ল ফার্মের কর্ণধার অ্যাটর্নি সুদীপ বোসকে।

পরবর্তী আকর্ষণ ছিল রোকেয়া জাহানের একক নৃত্য পরিবেশনা। তার চমৎকার নৃত্যশৈলীর অনবদ্য পরিবেশনায় সবাইকে মুগ্ধ করে।
অতঃপর বিসিসিডিআইয়ের বর্তমান সভাপতি সঞ্জয় বড়ুয়া তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে সবাইকে আয়োজনে যোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া তিনি উপস্থিত দর্শকদের কাছে বিসিসিডিয়াইয়ের সকল পরিচালক ও কর্মকর্তাদের মঞ্চে আহ্বান করে তাদের সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন।

এরপরই মঞ্চে আসেন ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার অন্যতম বৃহৎ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একতারা নাট্য পরিবারের শিল্পীদের। একতারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের উপহার দিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোক সাহিত্যভিত্তিক নাটক। এই অনুষ্ঠানে পরিবেশনার জন্য তারা ময়মনসিংহ গীতি কবিতা থেকে বেছে নিয়েছেন দুইটি জনপ্রিয় লোকগাথা সোনাই মাধব ও চন্দ্রাবতী। তারা এই পালা দুটির সংমিশ্রণে স্বল্প পরিসরে অনবদ্যভাবে পরিবেশন করেছেন। যা দর্শকদের বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছে। পরিচালনা ও নির্দেশনায় ছিলেন একতারা নাট্য পরিবারের শেখ মিলন মাওলা।

এরপর বাংলা স্কুল ড্যান্স একাডেমির পরিচালক সবার পরিচিত ও প্রিয় বনানী চৌধুরীর পরিচালনায় আনন্দধাম নৃত্যানুষ্ঠানে দলীয় নৃত্য নিয়ে মঞ্চে আসে বাংলা স্কুল ড্যান্স একাডেমির শিল্পীরা। তাদের দৃষ্টিনন্দন নৃত্য পরিবেশনায় সবাই মুগ্ধ হয়ে করতালি দিয়ে তাদের অভিনন্দন জানায়।

বক্তব্য দিচ্ছেন শামীম চৌধুরী, শতরূপা বড়ুয়া ও লিজা বড়ুয়া

এবার বিসিসিডিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি ও অনুষ্ঠানের অন্যতম সঞ্চালক শামীম চৌধুরী মঞ্চে আহ্বান করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশের দুস্থ-পঙ্গু মানুষদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ড. ​ভেলেরি এ টেইলরকে। শামীম চৌধুরী পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় তাকে বাংলাদেশের মাদার তেরেসা নামে তিনি সমধিক পরিচিত বলে তিনি দর্শকদের কাছে উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভেলেরি এ টেইলর সবাইকে তার ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বভাবসুলভ নম্রতার সঙ্গে সবাইকে ধন্যবাদ জানান ও বাংলাদেশে ভ্রমণকালে ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকাবাসীদের ঢাকায় তার কার্যক্রম দেখে আসার বিনীত আমন্ত্রণ জানান। এ ছাড়া বাংলাদেশের অসহায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত, পঙ্গু ও দুস্থ লোকদের সাহায্য করার জন্য তিনি সবাইকে আন্তরিক অনুরোধ জানান। 

প্রধান অতিথির সম্মানার্থে ও অভিনন্দন জানানোর জন্য তাকে মঞ্চে আসীন এবং রোকেয়া জাহানের চমৎকার নৃত্যের মধ্য দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। এরপর অভিনন্দন জানিয়ে বিসিসিডিআইয়ের পক্ষ থেকে তার প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার চিহ্নস্বরূপ তাকে একগুচ্ছ ফুল উপহার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের এই অংশে নাসের চৌধুরীর পরিচালনায় আবার জমে ওঠে সংগীতের আসর। মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করার জন্য আসে বাংলা স্কুল মিউজিক একাডেমির সদস্য সুশন্তিকা, ফারহান, সাঈদ, প্রভা, তানিশা, অনিতা, নোরা, ফারিয়েল, অঙ্কিতা, আদিত্য, অপ্সরা, আনন্দী, অবন্তী, বাঁধন, ফারজান, তাশনুভা, তাজ, সুশময়, স্বপ্নিল, সুষমী, অতসী, সৃজন, বিজন, আঞ্জুম, তানিশা, এ্যম্বার, এমা, দিবিয়া, কৌশিক, প্রিয়াঙ্কা, রনিতা, অদ্রিতা, মাহেক, ওয়াদিয়া ও শ্রেয়সী।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মঞ্চে আহ্বান করা হয় স্বনামধন্য নৃত্যশিল্পী, কোরিওগ্রাফার ও নৃত্যপরিচালক ওয়ার্দা রিহাবকে। তার অবদানের জন্য তাকে ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ওয়ার্দা রিহাব উল্লেখ করেন, প্রবাসের মাটিতে এমনিভাবে বাংলাদেশের কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে প্রবাসী বাঙালিরা তাদের বুকের গভীরে এমনিভাবে সজীব রেখেছেন দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পরিবেশনা ছিল ওয়াশিংটনের সুপরিচিত বাঙালি-আমেরিকান ব্যান্ড গ্রুপ শ্যাডো ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশনা। তাদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মন মাতানো গানে তারা সবাইকে মাতিয়ে তোলেন।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের মঞ্চসজ্জায় ছিলেন হারুনুর রশীদ, ইফতেখার আরিফ ওএহসান আলম। শব্দনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন রবিউল ইসলাম।

অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল নানা বাহারী স্বদেশি খাবারের, রকমারি মনোহারী পণ্যের, নানা রঙ্গের পোশাক, জুয়েলারির স্টল ও সামাজিক-ব্যবসায়িক সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর স্টল। আরও ছিল হাতে মেহেদি লাগানোর স্টল। যেখানে অনেক ছোট ছোট মেয়েদের হাত রঙিন হয়ে উঠে মেহেদির রঙ্গে।

অবশেষে বিসিসিডিআইয়ের সাংস্কৃতিক সম্পাদক দীপক বড়ুয়া বিসিসিডিআই বাংলা স্কুলের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে এই আয়োজনকে সফল করার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে আয়োজিত বাংলা নব বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 

এফ/১৭:৩০/০৫মে

যূক্তরাষ্ট্র

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে