Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 4.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৫-০৫-২০১৬

জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিরোধীদলকে দোষারোপ অগ্রহণযোগ্য

জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিরোধীদলকে দোষারোপ অগ্রহণযোগ্য

ঢাকা, ০৫ মে- গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসাই বাংলাদেশের উন্নতি ও স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ বলে মনে করেন দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়কবিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া সহিংতার ঘটনায় বিরোধীদলকে দায়ী করা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলেও মনে করেন তারা।বাংলাদেশের চলমান অস্থিরতা নিরসনে সরকার ও বিরোধীদলকে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌছাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরো বেশিমনোযোগী হবার পরামর্শও দেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হেরিটেজ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বেড়ে যাওয়া জঙ্গিবাদী সহিংসতা কিভাবে বন্ধ করা যাবে’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব মন্তব্য করেন বক্তারা।

হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক ওয়াল্টার লোহম্যান-এর সঞ্চালনায় এতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানপ্রিত সিংহ আনান্দ।

প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা ড. শামিনা আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় ষ্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ, হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারের সিনিয়র ফেলো লিসা কার্টিজ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানপ্রিত সিংহ আনান্দ সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া সহিংসতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী সহিংসতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেশটির সরকারের সাথে কাজ করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গত সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। আমার সিনিয়র সহকর্মী নিশা দেশাই বাংলাদেশ সরকারের সাথে কথা বলতে বাংলাদেশে আছেন। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, আইনের শাসন, বহুমাত্রিক রাজনৈতিক দল ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অভাব মূলত জঙ্গিবাদী সহিংসতাকে সুযোগ করে দিচ্ছে।

এমনি পরিস্থিতিতে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক অধিকার সমুন্নত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. শামিনা আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী সহিংসতা বাড়ার জন্য সরকারের সমালোচনা সহ্য না করার মানসিকতা, পুলিশের রাজনীতিকরণ ও বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার দায়ী। তিনি মনে করেন, বর্তমান এ পরিস্থিতিতে একমাত্র গণতান্ত্রিক পথেই বাংলাদেশের অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা আসতে পারে। এজন্য বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।

ড. আলী রিয়াজ বর্তমানে চলা সহিংসতা গুলোকে জঙ্গিবাদী সহিংসতা হিসেবে তুলে ধরে এবিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিবর্তন হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জুলহাস হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তের আগেই সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে দায়ী করা হয়েছে। যা সন্ত্রাসীদের সুযোগ করে দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, জঙ্গিবাদী সহিংসতার পরিস্থিতি যদিও আফগানিস্তানের মতো হয়নি, কিন্তু আমরা কি এ সহিংসতাকে সেই মাত্রায় নিয়ে যাবার পর ব্যবস্থা নেব? এধরণের সহিংসতা কমাতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সকল ধরণের হত্যাকাণ্ড অগ্রহণযোগ্য- এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান ড. আলী রিয়াজ।

লিসা কার্টিজ বলেন, জঙ্গিবাদী সহিংসতার সঙ্গে বিরোধী দলকে দোষারোপ করা অগ্রহণযোগ্য। এছাড়া তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করার বিষয়টি খুবই মারাত্মক।

তিনি উগ্রবাদী সহিংসতা রোধে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌছাতে যুক্তরাষ্ট্রেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন জঙ্গিবাদের বিস্তার আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী- কোনো দলের জন্য ভালো বার্তা বয়ে আনবে না।

এসময় তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনগুলোর মতো তিনিও মনে করেন আদালতকে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।

এস/০২:৩৫/০৫ মে

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে