Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০৪-২০১৬

রোগ নিরাময়ে সঙ্গীত থেরাপি

রোগ নিরাময়ে সঙ্গীত থেরাপি

মানব সংস্কৃতির ইতিহাসে সঙ্গীত এক অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মৃতব্যক্তির সৎকার থেকে আধুনিক সময়ে চিকিৎসায় পর্যন্ত ব্যবহৃত হচ্ছে সঙ্গীত। তাই সঙ্গীতকে বলা হচ্ছে মানুষের আত্মার শক্তিশালী পদার্থ। পৃথিবীতে বেশ কয়েকটি দেশে সুদীর্ঘকাল থেকেই সঙ্গীতকে চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। তন্মধ্যে অন্যতম হলো জাপান ও কম্বোডিয়া। জাপানে বেশ কিছু বেসরকারি ক্লিনিক আছে, যেখানে কোনো প্রকার রাসায়নিক ওষুধ নিয়ে চিকিৎসা করা হয় না, তাদের চিকিৎসার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো সঙ্গীত। বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানে জানা যায়, মানবশরীরের এমন কিছু রোগ আছে যা মানুষের মৃত্যুর কারণ। সেই রোগগুলোও সেরে উঠতে পারে সঙ্গীত থেরাপির কারণে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে এবং হৃদযন্ত্রজনিত ব্যাধি নিরাময়ে
গ্রেট ব্রিটেনের কার্ডিওভাসকুলার সোসাইটির মতে, একটি নির্দিষ্ট সঙ্গীত টানা দশ সেকেন্ড শুনলে রক্তচাপ অনেক কমে আসে এবং হৃদকম্পন কমাতেও সাহায্য করে। বেশকিছু ক্ল্যাসিকাল কম্পোজিশন রয়েছে যা মানব শরীরের ভাষার সঙ্গে মিলে যায়। হৃদযন্ত্রকে নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য ওই কম্পোজিশনগুলো ব্যবহার করা হয়। দ্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় জানা যায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি হাইপারটেনশন কমাতেও সঙ্গীত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা রোধে
প্রশ্ন যখন মানব মস্তিস্কের ব্যাপারে চলে আসে তখন অন্যতম ওষুধ হলো সঙ্গীত। কানাডার বিখ্যাত ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা যায়, সঙ্গীত মানুষের মস্তিস্কে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম এবং পরিবর্তনের পক্ষে আনুষঙ্গিক রসায়নও উৎপাদিত করে সঙ্গীত। মানবশরীরে ডোপামিন নামে একটি হরমোন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, এই হরমোনের কারণেই মানুষের ভেতর আনন্দের সঞ্চার হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ন্যাম ফাউন্ডেশন এমন কিছু অসুস্থতার তালিকা প্রকাশ করেছেন যা সঙ্গীত দ্বারা নিরাময়যোগ্য। এদের মধ্যে রয়েছে মানসিক চাপ কমাতে এবং আবেগজনিত সমস্যা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সঙ্গীত। পাশাপাশি আরও দেখা যায়, যারা নিয়মিত সঙ্গীত চর্চা করেন তাদের মধ্যে হিউম্যান গ্রোথ হরমোন বৃদ্ধি পায়।


আলঝেইমার নিরাময়ে সঙ্গীত
আলঝেইমারে আক্রান্ত রোগিদের চিকিৎসায় সঙ্গীত ভালো ফল দিয়েছে। এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে সাধারণ কিছু প্রবনতা রয়েছে, যার ফলে আক্রান্ত মানুষ অন্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে অতটা পারদর্শী হয় না। আমেরিকার আলঝেইমার ফাউন্ডেশনের স্টাডি অনুযায়ী, সঙ্গীত মানুষের মেজাজ, রাগ কমাতে এবং ইতিবাচক দৃষ্টি তৈরিতে সঙ্গীত অনেক কার্যকরী।

পড়ালেখার উন্নয়নে
অমনোযোগি শিক্ষার্থীদের মনোযোগি করার ক্ষেত্রেও সঙ্গীত ব্যবহার করা হয়। গবেষক জেমস এস ক্যাটাররেল এবিষয়ে বলেন, অনেক শিক্ষার্থীই আছেন যারা অর্থ কিংবা বিভিন্ন কারণে পড়ালেখায় মনোসংযোগ করতে পারেন না। এরকম কিছু শিক্ষার্থীর উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে যে, সঙ্গীতের মাধ্যমে তাদের মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। আরও দেখা যায়, যেসব শিক্ষার্থীরা সঙ্গীত বিষয়ে পড়ালেখা করেন, অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় তাদের মেধাশক্তি অনেক বেশি।


তরুণ শিক্ষার্থীদের মস্তিস্ক উন্নয়নে
লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, সঙ্গীত মানবমস্তিস্কে যেকোনো ওষুধের তুলনায় দ্রুত ক্রিয়া করে। কেউ যদি আধাঘণ্টা কোনো সঙ্গীত যন্ত্র বাজায় তাহলে তার মস্তিস্কের বাম অংশে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। আর এরফলে মানুষের মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা অনেকগুন বেড়ে যায়। সঙ্গীতের সঙ্গে জড়িত মানবমস্তিস্ক ও মেরুদন্ড। সঙ্গীতের ধ্বনি মস্তিস্ক হয়ে মেরুদন্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ঘুমাতে সহায়ক
অনেকেই আছেন যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে। ঘুমের ওষুধ খেয়েও নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম আসে না অনেকেরই। তাদের জন্য চীনের কার্ডিওভাসকুলার বিভাগ সঙ্গীত থেরাপির কথা বলেন। শোবার সময় ধীরলয়ের সঙ্গীত মস্তিস্ককে শিথীল করতে সাহায্য করে এবং কোনো বাধা ছাড়াই মানুষ আরামে ঘুমাতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই ঘুম কম রোগিদের ক্ষেত্রে জাপান সঙ্গীত থেরাপি ব্যবহার করে আসছে।

এফ/১৬:১৫/০৪মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে