Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০৪-২০১৬

মিথ্যা ময়নাতদন্ত, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

শ. ম সাজু


মিথ্যা ময়নাতদন্ত, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ঢাকা, ০৪ মে- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সাবেক চিকিৎসক ডা. জোবাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মনসুর আলম এ আদেশ দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাত আত্মহত্যা করেছেন বলে মিথ্যা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিলেন ওই চিকিৎসক। এ জন্য পরে তাঁকে সিফাত হত্যা মামলার আসামি করা হয়।

একই দিন মামলার আসামির জামিন বাতিলের এক ঘণ্টার মধ্যে বিচারক আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ২৩ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আহম্মেদ আলী রাজশাহীর মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আজ মঙ্গলবার আদালত তা গ্রহণ করেন। ডা. জোবাইদুর রহমানকে রাজশাহী থেকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছে। এ মামলায় তিনি একজন পলাতক আসামি। মামলার প্রধান আসামি সিফাতের স্বামী আসিফ কারাগারে আটক রয়েছেন।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষ আজ মামলার ২ নম্বর আসামি নিহত গৃহবধূ সিফাতের শ্বশুর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও শাশুড়ি নাজমুন্নাহার নাজলীর স্থায়ী জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করেন। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট দিল সেতারা চুনি এর বিরোধিতা করেন। ট্রাইব্যুনাল শুনানি শেষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজানের জামিন বাতিল করে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। আর নাজমুন্নাহার নাজলীকে ১০ হাজার টাকায় এবং একজন আইনজীবীর জিম্মায় স্থায়ী জামিন দেন।

অ্যাডভোকেট দিল সেতারা চুনি জানান, আসামিকে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। সচরাচর আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর বাদীপক্ষের আইনজীবীরা চলে আসেন। কিন্তু আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কিছু কথাবার্তায় তাঁদের সন্দেহ হয়। এর পর তাঁরা ট্রাইব্যুনালে অপেক্ষা করতে থাকেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিচারক আবার এজলাসে বসেন। এ সময় আসামিপক্ষের একদল আইনজীবী পুনরায় আসামি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজানের জামিনের জন্য আবেদন করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী দিল সেতারা চুনি জামিনের বিরোধিতার করলেও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে এই বলে অভিযুক্ত করেন যে, তিনি একজন আইনজীবী হয়ে কেন আরেকজন আইনজীবীর জামিনে বাধা দিচ্ছেন। দিল সেতারা চুনি বলেন, বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল আসামিকে জামিন দিতে পারেন কিন্তু বাদীপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য না শোনাটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। জামিনের বিরোধিতা করার পরেও দ্বিতীয়বার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজানের সাত দিনের জামিন প্রদান করেন।

সিফাতের বাবা আমিনুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘আসামিপক্ষের একদল আইনজীবী তাঁর আইনজীবীকে কথা বলতেই দিচ্ছিলেন না। তাঁরা আদালতে দাঁড়িয়ে মারমুখী আচরণ করেছেন। তাঁরা তাঁর আইনজীবীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। তাঁদের চাপেই বিচারক জামিন প্রদান করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁরা জামিন ছিনতাই করেছেন।’

জানতে চাইলে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোজাম্মেল হক বলেন, প্রথমবার জামিন বাতিল করায় আসামির মাইল্ড স্ট্রোক হয়। এই গ্রাউন্ডে তাঁরা দ্বিতীয়বার আবেদন করেন। তখন বিচারক জামিন দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবীকে কথা বলতে না দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো ও তাঁর সঙ্গে আদালতে মারমুখী আচরণ করার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মোজাম্মেল হক বলেন, তাঁরা তা করতে যাবেন কেন। তাঁরা তাঁদের সহকর্মী। এমনিতেই আসামিপক্ষে শতাধিক আইনজীবী দাঁড়িয়েছিলেন।

নিহত গৃহবধূ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাঁর নাম পুরো নাম ওয়াহিদা সিফাত। মামলার তদন্তে সিফাতকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আঘাতজনিত কারণে সিফাতের মৃত্যু হয়। কিন্তু সিফাতের স্বামী আসিফ, শ্বশুর রমজান ও শাশুড়ি নাজমুন্নাহার আত্মহত্যা বলে প্রচার চালায়। এ ছাড়া প্রথম ময়নাতদন্তের চিকিৎসক জোবাইদুর রহমান আঘাতজনিত কারণে মৃত্যুর বিষয়টি গোপন করে আত্মহত্যার মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে গঠিত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আঘাতজনিত কারণে সিফাতের মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করে।

গত বছরের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরের মহিষবাথান এলাকায় অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজানের বাড়িতে মৃত্যু হয় গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতের। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এ ঘটনায় মহানগরের রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা এ মামলায় যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। প্রথমে মামলাটির তদন্ত মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে দেয়া হলেও পরে সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে